মেলবোর্ন, ৩১ মে- লাওসের একটি দুর্গম পাহাড়ি গুহায় টানা ১০ দিনেরও বেশি সময় আটকা থাকার পর নাটকীয় অভিযানে জীবিত উদ্ধার হয়েছেন পাঁচ গ্রামবাসী স্বর্ণখনি শ্রমিক। ভয়াবহ বন্যা, ভূমিধস এবং পানিতে তলিয়ে যাওয়া সরু গুহাপথের মধ্যে তাদের উদ্ধারের ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে কঠিন গুহা উদ্ধার অভিযানের একটি হিসেবে বর্ণনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশটির মধ্যাঞ্চলের জাইসোমবুন প্রদেশের একটি প্রত্যন্ত গুহায় গত ২০ ও ২১ মে স্বর্ণ ও মূল্যবান খনিজের সন্ধানে প্রবেশ করেছিলেন সাতজন গ্রামবাসী। কিন্তু প্রবল বৃষ্টি, আকস্মিক পাহাড়ি ঢল এবং ভূমিধসের কারণে গুহার প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে গেলে তারা ভেতরে আটকা পড়েন।
দীর্ঘ এক সপ্তাহের অনুসন্ধানের পর গত বুধবার উদ্ধারকারীরা গুহার গভীরে পাঁচজনকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পান। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুই ব্যক্তি।
শুক্রবার রাতে আন্তর্জাতিক গুহা-ডুবুরি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় প্রথম একজন শ্রমিককে নিরাপদে বাইরে আনা হয়। পানিতে ডুবে থাকা সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ গুহাপথ অতিক্রম করে তাকে উদ্ধার করা হয়।
এরপর শনিবার ঘটে আরও চমকপ্রদ ঘটনা। গুহার ভেতরের পানির স্তর কমে যাওয়ায় বাকি চারজন শ্রমিক নিজেরাই ধীরে ধীরে গুহার মুখ পর্যন্ত পৌঁছে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তাদের বেরিয়ে আসার মুহূর্তে উপস্থিত উদ্ধারকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ক্লান্ত ও অবসন্ন শ্রমিকরা একে একে গুহা থেকে বের হয়ে আসছেন। কেউ হাঁটতে পারছিলেন না, আবার কেউ মাটিতে বসে পড়েন। পরে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য।
এই উদ্ধার অভিযানে থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ফিনল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ফ্রান্সের বিশেষজ্ঞ গুহা-ডুবুরিরা অংশ নেন। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিচালিত এই অভিযানকে অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন উদ্ধারকারীরা।
অভিযানে অংশ নেওয়া ফিনল্যান্ডের অভিজ্ঞ গুহা-ডুবুরি মিক্কো পাসি, যিনি ২০১৮ সালে থাইল্যান্ডের বিখ্যাত গুহা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন, বলেন, লাওসের এই গুহাটি আরও বেশি সংকীর্ণ, অন্ধকার এবং বিপজ্জনক ছিল। তার মতে, এমন পরিবেশে দীর্ঘদিন আটকা থেকেও শ্রমিকদের জীবিত বেরিয়ে আসা এক ধরনের অলৌকিক ঘটনা।
উদ্ধার হওয়া পাঁচজন বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তবে নিখোঁজ দুই ব্যক্তির সন্ধানে এখনো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। স্থানীয় প্রশাসন আশা করছে, গুহার ভেতরে আরও অনুসন্ধান চালিয়ে তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।