আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে দায়ী করে যা ব্যবস্থা নিল সরকার
মেলবোর্ন, ৪ জুন- রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। ঘটনার তদন্তে চিকিৎসক, নার্স ও…
মেলবোর্ন, ৪ জুন- ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান বা যুদ্ধ সম্প্রসারণের পথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশটির কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হয়েছে। যুদ্ধ অব্যাহত রাখার পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পাস হওয়া এই প্রস্তাবকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতকে কেন্দ্র করে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতভেদ চলছিল। সেই প্রেক্ষাপটে বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তে যুদ্ধ সম্প্রসারণের ক্ষমতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটির পক্ষে ২১৫ ভোট পড়ে, বিপক্ষে ভোট পড়ে ২০৮টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রস্তাবটি পাস হলেও এটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। কার্যকর হওয়ার জন্য পরবর্তী ধাপে মার্কিন সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তবে সিনেট বর্তমানে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখানে প্রস্তাবটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাভুটির ফলাফল শুধু যুদ্ধবিরোধী অবস্থানকেই প্রতিফলিত করেনি, বরং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে বিদ্যমান মতপার্থক্যকেও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
প্রস্তাবটি পাসের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন চারজন রিপাবলিকান সদস্য। তারা নিজেদের দলের অবস্থানের বাইরে গিয়ে ডেমোক্র্যাট সদস্যদের সঙ্গে একযোগে ভোট দেন। এই চারজন হলেন টমাস ম্যাসি, ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, টম ব্যারেট এবং ওয়ারেন ডেভিডসন।
এছাড়া মেইন অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যারেড গোল্ডেন, যিনি অতীতে একই ধরনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন, এবার যুদ্ধবিরোধী অবস্থানে এসে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে রয়েছে। সেই বিষয়টিকে সামনে এনে প্রতিনিধি পরিষদের অনেক সদস্য ভোটের আগে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
রিপাবলিকান সদস্য টম ব্যারেট বলেন, যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা একমাত্র কংগ্রেসের। এটি এমন একটি বিষয়, যেখানে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
নিজ দলের প্রেসিডেন্টের অবস্থানের বিপরীতে ভোট দেওয়ার কারণে রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি নিজের বিবেকের নির্দেশনা অনুসারেই ভোট দিয়েছেন।
ব্যারেট বলেন, তিনি যেটিকে সঠিক মনে করেছেন সেটিই করেছেন এবং সেই সিদ্ধান্তের দায়ভার গ্রহণ করতেও প্রস্তুত আছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ভোটাভুটি রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে ক্রমবর্ধমান অস্বস্তি ও বিভক্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে দলের ভেতরে অনেক সদস্যের উদ্বেগ রয়েছে।
এরই মধ্যে নিজ দলের কিছু সদস্যের বিরোধিতার কারণে ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি রাজনৈতিক মিত্রদের জন্য প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ যুদ্ধ-সম্পর্কিত তহবিল গঠনের পরিকল্পনা থেকেও সরে আসতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস বলেন, এই ভোটাভুটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরানবিষয়ক সামরিক নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে।
তিনি বলেন, এটি শুধু একটি প্রস্তাব পাস হওয়ার ঘটনা নয়, বরং ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ব্যয়বহুল ও বিতর্কিত যুদ্ধ বন্ধের পথে প্রথম বড় পদক্ষেপ।
মিকসের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর সময় যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন সেগুলোর অনেকগুলোই অর্জন করতে পারেনি। বরং সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে। আলোচনার পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় সমঝোতার পথও কঠিন হয়ে পড়েছে।
গ্রেগরি মিকসের মতে, এই ভোটাভুটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মোড় নির্দেশ করছে। কারণ রিপাবলিকান দলের অনেক সদস্য এখন তাদের ভোটারদের মনোভাব বিবেচনা করতে শুরু করেছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি ও অনির্দিষ্ট যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।
তবে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি পাস হলেও এর সামনে এখনো বেশ কয়েকটি বড় বাধা রয়েছে। প্রথমত, সিনেটে এটি অনুমোদিত হতে হবে। দ্বিতীয়ত, সিনেটে অনুমোদন পেলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রস্তাবটিতে ভেটো দিতে পারেন।
যদি প্রেসিডেন্ট ভেটো দেন, তাহলে সেটি অকার্যকর করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সহজ নয়।
এর আগে গত মে মাসেও সিনেটে একই ধরনের একটি যুদ্ধক্ষমতা সীমিতকরণ প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল। কিন্তু সেটি এখনো পূর্ণাঙ্গ ভোটাভুটির পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
এ কারণে নতুন এই প্রস্তাব বাস্তবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে পারবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে এটি স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিরোধিতা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে এবং প্রেসিডেন্টের যুদ্ধসংক্রান্ত ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের এই ভোট শুধু একটি আইনগত উদ্যোগ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সামরিক ভূমিকা, কূটনৈতিক কৌশল এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে।
সূত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au