নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর গর্ত থেকে শিশু বিথি রায়ের মরদেহ উদ্ধার
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর বিথি রায় নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৮টার দিকে…
মেলবোর্ন, ২১ জুলাই- ঢাকা: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গির্জা ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ ও সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ)। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত শুক্রবার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোর হামলার শিকার হচ্ছেন খ্রিস্টান সংখ্যালঘুরা। তারা ভারতের সরকারের প্রতি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলার ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Crux Now-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে গত ৫ জুলাই থেকে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার মধ্যে নির্মাণাধীন একটি প্রেসবিটারিয়ান গির্জা ভাঙচুর, রবিবারের প্রার্থনার সময় একটি খ্রিস্টান উপাসনালয়ে হামলা এবং এক খ্রিস্টান বিধবাকে হয়রানির ঘটনা রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একটি উগ্র জনতা নির্মাণাধীন গির্জাটি ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করে।
ঢাকার আর্চডায়োসিসের ক্যাথেড্রাল প্যারিশের যাজক ফাদার অ্যালবার্ট রোজারিও বলেন, প্রতিবেশী দেশের খ্রিস্টানদের ওপর নির্যাতনের খবর বাংলাদেশের খ্রিস্টানদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।
তিনি বলেন, “এই ঘটনাগুলো আমাদের গভীর কষ্ট ও বেদনার মধ্যে ফেলেছে।”
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ইউনাইটেড ক্রিশ্চিয়ান ফোরাম অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ভারতে খ্রিস্টানদের ওপর হামলার ৭০৬টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
ফাদার রোজারিও বলেন, ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত হলেও উপমহাদেশজুড়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা এখনও নিরাপদ নন।
বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, “কোনো দেশের প্রকৃত অবস্থা জানতে হলে সেই দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অবস্থার দিকে তাকাতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন এবং গির্জায় হামলার ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার জন্য আমরা ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
এদিকে, ধর্মীয় সম্প্রীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মণীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বাংলাদেশেও উগ্রবাদের প্রভাব দেখা গেছে।
তিনি বলেন, “ভারত হোক কিংবা বাংলাদেশ, কোনো দেশেই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন কিংবা উপাসনালয়ে হামলা কাম্য নয়। এ ধরনের ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au