বাংলাদেশ

মিরাজ শেখ নিখোঁজ: মানবাধিকার প্রতিশ্রুতির প্রথম বড় পরীক্ষায় বিএনপি

উপকূলের এক জেলের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ ঘিরে জবাবদিহি, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সংস্কার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন

  • 9:31 pm - July 21, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৪ বার
বাংলাদেশের নিখোঁজ জেলে মিরাজ শেখ। পরিবারের অভিযোগ, উপকূলরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা তাকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ। ঘটনাটি ঘিরে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ছবি: X (স্ক্রিনশট)

মেলবোর্ন, ২১ জুলাই: উপকূলীয় জেলে মিরাজ শেখের কথিত নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য এটি মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতির প্রথম বড় পরীক্ষা।

এখনও তদন্তে নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি ঠিক কী ঘটেছে। তবে ঘটনাটি ইতোমধ্যেই একটি নিখোঁজ ব্যক্তির মামলার সীমা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের জবাবদিহি, নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে জাতীয় আলোচনায় পরিণত হয়েছে।

মিরাজ শেখের পরিবারের দাবি, উপকূলরক্ষী বাহিনীর (কোস্ট গার্ড) সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ। তার স্ত্রী গণমাধ্যমে জানান, তিনি নিজ চোখে স্বামীকে নিয়ে যেতে দেখেছেন এবং এখন শুধু জানতে চান—তার স্বামী কোথায় আছেন।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) বলেছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এটি প্রথম কথিত গুমের অভিযোগ। সংস্থাটি সরকারের প্রতি অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এই ঘটনার তদন্তই প্রমাণ করবে বাংলাদেশ অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংস্কৃতি থেকে সত্যিই বেরিয়ে এসেছে কিনা।

এইচআরডব্লিউর মতে, কর্তৃপক্ষের উচিত মিরাজ শেখের অবস্থান নির্ণয় করা, প্রমাণ সংরক্ষণ করা, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নিশ্চিত করা যে কোনো নিরাপত্তা সংস্থা বেসামরিক জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়।

সংস্থাটি আরও সতর্ক করে বলেছে, ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন অভিযোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে গুমের অসংখ্য অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়ায় শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, স্থায়ী আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যবস্থাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

উচ্চ আদালতের নির্দেশ

ঘটনাটি আদালতেও গড়িয়েছে। হাইকোর্ট সরকারকে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত অবশ্য এখনো এটি গুমের ঘটনা বলে সিদ্ধান্ত দেয়নি। তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, আদালতের এই নির্দেশ সরকারের ওপর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন

ক্ষমতায় আসার আগে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনা সরকারের সময় সংঘটিত কথিত গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা করেছে এবং আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিল।

সেই কারণে মিরাজ শেখের ঘটনাকে অনেকেই নতুন সরকারের সংস্কার প্রতিশ্রুতির বাস্তব পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন।

মানবাধিকার কর্মীদের আশা ছিল, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গৃহীত অস্থায়ী আইনি ব্যবস্থাগুলো আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী স্থায়ী আইনে পরিণত হবে। কিন্তু সরকার এখন পর্যন্ত গুমবিরোধী একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়নে অনাগ্রহ দেখিয়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, শুধু নির্বাহী প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করলে ভবিষ্যতের সরকার সহজেই নীতিগত পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু সংসদে পাস হওয়া আইন দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম নেত্র নিউজ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, বিবেচনাধীন গুমবিরোধী আইনের খসড়া প্রত্যাশিত সুরক্ষা জোরদারের পরিবর্তে কিছু ক্ষেত্রে দুর্বল করতে পারে।

অন্যদিকে এশিয়া টাইমস-এর এক বিশ্লেষণেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, বিএনপি সরকার তাদের পূর্বঘোষিত সংস্কার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসছে কি না।

তবে সরকারপক্ষের যুক্তি ভিন্ন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, গুমের অভিযোগ বিচার করার জন্য আলাদা আইনের প্রয়োজন নেই, কারণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিদ্যমান আইনেই এ ধরনের অপরাধের বিচার সম্ভব।

স্থায়ী আইনি সুরক্ষার দাবি

সমালোচকদের বক্তব্য, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মানবাধিকার সুরক্ষা কোনো সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করতে পারে না। কার্যকর আইন, স্বাধীন তদন্ত এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানই নাগরিকদের অধিকার রক্ষার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। অন্তর্বর্তী সরকার অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে বিভিন্ন কমিশন গঠন করেছিল। অনেক ভুক্তভোগী পরিবার সেই উদ্যোগকে সত্য উদঘাটন ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধের সূচনা হিসেবে দেখেছিল।

এখন নির্বাচিত সরকারের নীতিনির্ধারণের ওপরই নির্ভর করছে, সেই সংস্কারগুলো স্থায়ী রূপ পাবে কিনা।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদাররাও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সুশাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

সূত্র: Asia Times

এই শাখার আরও খবর

দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক, মোদীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে উত্তেজনা

মেলবোর্ন, ২১ জুলাই- ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা…

জাপানে তীব্র তাপপ্রবাহ, ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়াল তাপমাত্রা, প্রথমবার ঘোষণা ‘চরম তাপদাহ দিবস’

মেলবোর্ন, ২১ জুলাই- জাপানে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার দেশটির মধ্যাঞ্চলের তিনটি শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট অতিক্রম করেছে।…

হরিদাসকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার আদালত।

মেলবোর্ন, ২১ জুলাই: গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণ উদ্যোগের উদ্যোক্তা হিসেবে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র (তরণী দাস) চেক জালিয়াতির একটি মামলায় এক বছরের বিনাশ্রম…

ড্রেসিংরুমে কী ঘটেছিল? ফাইনালের আগে মেসির ‘সব ভুলে যাও’ মন্তব্যে নতুন প্রশ্ন

মেলবোর্ন, ২১ জুলাই: ভাইরাল ভিডিও ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে জল্পনা; ম্যাচের আগে সতীর্থদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা আর্জেন্টিনা…

মোদির বাসভবনের সামনে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বিক্ষোভ

মেলবোর্ন, ২১ জুলাই- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র। শিক্ষার্থীদের…

চিরন্তন ডাক

মেলবোর্ন, ২১ জুলাই:  বাএই ডাক সত্যের, এই ডাক জাগরণের, এই ডাক ভালোবাসা আর দেশপ্রেমের। রক্তে কেনা মাটি ডাকছে আয় কাছে, ঘরে বসে থাকার সময় আজ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au