হ্যাটট্রিকের পর বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার কাতারে মেসি
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় যৌথভাবে…
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে থাকার পর ভারতে প্রবেশ না করেই ঢাকায় ফিরে যাওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। যদিও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল, তারপরও তিনি সফর বাতিল করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
মঙ্গলবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে জাহেদ উর রহমান দাবি করেন, দিল্লি বিমানবন্দরে তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে হেনস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই তিনি ভারতে প্রবেশ না করে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি ব্যক্তিগত সফরে নয়, রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে ভারতে গিয়েছিলেন। ফলে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে তিনি কেবল ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখেননি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিনিধির সঙ্গে এমন আচরণের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানো প্রয়োজন ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার মাধ্যমে তিনি দেশের ভেতরে ও বাইরে একটি রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারকে অতীতের সরকারের সঙ্গে এক কাতারে দেখা উচিত নয় এবং এটি জনসমর্থনের ভিত্তিতে পরিচালিত সরকার।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সোমবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারকে তলব করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বলে জানা গেছে। এর পর থেকেই বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
তবে জাহেদ উর রহমান দাবি করেছেন, তার উদ্দেশ্য কোনোভাবেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করা নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো দেশের সঙ্গেই খারাপ সম্পর্ক চায় না এবং এই ঘটনার প্রভাব দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ওপর পড়বে বলে তিনি আশা করেন না।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে ভারত সফরে তার আপত্তি নেই। তবে সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জাহেদ উর রহমানের নাম ভারতীয় নিরাপত্তা নজরদারি তালিকায় থাকায় বিমানবন্দরে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই করা হয়। এছাড়া তিনি কূটনৈতিক সফরে গেলেও তার সঙ্গে কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছিল না, বরং সাধারণ সবুজ পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিলেন। এসব কারণেই তাকে বিমানবন্দরে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।
তবে পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। এরপরও তিনি অনুমতি গ্রহণ না করে সফর বাতিল করে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে বিমানবন্দরের একটি প্রশাসনিক জটিলতা হলেও এর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তাৎপর্য অনেক বেশি। বিশেষ করে দুই দেশের সম্পর্কের সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au