ভারত ভ্রমণের পর ব্রিটিশ নারীর মস্তিষ্কে পাওয়া গেল ৩৮টি পরজীবী
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- ভারত ভ্রমণের কয়েক বছর পর এক ব্রিটিশ নারীর মস্তিষ্কে ৩৮টি পরজীবী শনাক্ত হওয়ার বিরল ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন করে আলোচনার জন্ম…
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে কালেমাখচিত কালো ও সাদা পতাকা নিয়ে মিছিল, মোটরসাইকেল র্যালি এবং বিভিন্ন স্থানে পতাকা টাঙানোর ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এটি ইসলামের প্রতি ভালোবাসা ও ধর্মীয় পরিচয়ের প্রকাশ। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, গবেষক ও প্রশাসনের একটি অংশ বলছে, বিশ্বজুড়ে উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর ব্যবহৃত পতাকার সঙ্গে এসব পতাকার নকশা ও রঙের মিল থাকায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
সম্প্রতি মাদারীপুর শহরের মডেল মসজিদ এলাকা থেকে দেড় শতাধিক মুসল্লিকে নিয়ে কালেমাখচিত পতাকা হাতে একটি মোটরসাইকেল র্যালি বের হয়। অংশগ্রহণকারীরা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। আয়োজকদের একজন ফখরুদ্দিন রাজী দাবি করেন, এটি মুসলমানদের পরিচয়ের প্রতীক। অপরদিকে স্থানীয় ইমাম তরিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিভিন্ন দেশের পতাকা ওড়ানোর বিপরীতে ইসলামের পরিচয় তুলে ধরতেই এই আয়োজন করা হয়েছে।
শুধু মাদারীপুর নয়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একই ধরনের পতাকা নিয়ে মিছিল, শোভাযাত্রা ও জনসমাবেশের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে গত জুন মাসে কালেমাখচিত পতাকা টাঙানোর পর বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। পরে সেই পতাকা সরিয়ে ফেলা হলে ‘ইসলামের পতাকার অবমাননা’ অভিযোগ তুলে আবারও পতাকা টাঙানো হয় এবং বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রচারণা শুরু হয়। বিভিন্ন ফেসবুক পেজে কালেমাখচিত পতাকা টাঙানোর আহ্বান, প্রচারণা এবং পতাকা বিক্রির বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে পড়ে।
তবে ইসলামে আদৌ কোনো নির্দিষ্ট পতাকার অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও ইসলামী গবেষক মো. আনিসুজ্জামান সিকদার বলেন, ইসলামে নির্ধারিত কোনো ধর্মীয় পতাকার উল্লেখ নেই। তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রঙের পতাকা ব্যবহার করলেও ইসলামের জন্য স্থায়ী বা নির্দিষ্ট কোনো পতাকা নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে কালো বা সাদা কোনো নির্দিষ্ট পতাকাকে ইসলামের একমাত্র পতাকা হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই।

বিবিসির সঙ্গে কথা বলেন মুফতি হারুন ইজহার ।ছবিঃ সংগৃহীত
বিশ্লেষকদের মতে, এই পতাকা মিছিলের পেছনে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রথমত, ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশজুড়ে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও অন্যান্য দেশের পতাকা ওড়ানোর প্রবণতা। দ্বিতীয়ত, বিদেশি পতাকা ব্যবহারের বিরুদ্ধে কিছু ইসলামপন্থী আলেমের বক্তব্য।
চট্টগ্রামের কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি হারুন ইজহারের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ওই বক্তব্যে তিনি বিদেশি পতাকার পাশাপাশি কালেমাখচিত পতাকা টাঙানোর আহ্বান জানান। তার সেই বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে এই পতাকা নিয়ে কর্মসূচি বাড়তে শুরু করে।

মাদারীপুরে কালেমাখচিত পতাকা নিয়ে মিছিলে যাচ্ছেন দুইজন যুবক
তবে আলাপকালে মুফতি হারুন ইজহার দাবি করেন, তিনি কোনো সংগঠিত পতাকা মিছিল বা র্যালির সঙ্গে যুক্ত নন। তার ভাষ্য, তিনি কেবল বিদেশি পতাকার সাংস্কৃতিক বিকল্প হিসেবে কালেমাখচিত পতাকা ব্যবহারের কথা বলেছিলেন। কিন্তু বিষয়টি এত বড় আকার নেবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে সারাদেশে কারা এই কর্মসূচি পরিচালনা করছে, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই। প্রশাসন চাইলে তদন্তে তিনি সহযোগিতা করবেন বলেও জানান।
অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মী ও গুম কমিশনের সাবেক সদস্য নুর খান লিটন মনে করেন, বর্তমানে ব্যবহৃত সাদা ও কালো কালেমাখচিত পতাকার নকশা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উগ্রবাদী সংগঠনের ব্যবহৃত পতাকার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তার দাবি, আল-কায়েদা, বোকো হারাম, আইএস এবং অতীতে বাংলাদেশের কিছু উগ্রবাদী সংগঠনও একই ধরনের পতাকা ব্যবহার করেছে। ফলে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে একটি গোষ্ঠী এসব প্রতীককে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা করছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এদিকে কালেমাখচিত পতাকার নেপথ্য নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঢাকার অনলাইন গণমাধ্যম ‘ঢাকা স্ট্রিম’-এর সম্পাদক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, প্রতিবেদন প্রকাশের পর অফিসে শতাধিক হুমকিমূলক ফোনকল আসে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজার হাজার কটূক্তি, গালাগালি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি রাজধানীর কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

ঢাকা স্ট্রিমের সম্পাদক ও প্রকাশক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ
পুলিশ জানিয়েছে, হুমকির ঘটনার তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে সারাদেশে কালেমাখচিত পতাকা প্রদর্শনের বিষয়টিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এ. এইচ. এম. শাহাদাত হোসাইন বলেন, কোনো পতাকা বা প্রতীক যদি নিষিদ্ধ কিংবা উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ বহন করে অথবা জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে, তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারও এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন বলেছেন, কালেমাখচিত পতাকাসহ যেকোনো ধর্মীয় প্রতীককে ঘিরে বিভ্রান্তি, অবমাননা কিংবা রাজনৈতিক অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকদের এ বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় প্রতীককে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে তা জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলোকে ঘিরে ধর্মীয় অনুভূতি, সাংস্কৃতিক পরিচয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন একসঙ্গে সামনে এসেছে। এখন প্রশাসনের তদন্ত, আলেমদের ব্যাখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থানের ওপরই নির্ভর করছে কালেমাখচিত পতাকা ঘিরে চলমান বিতর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা।
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au