মেলবোর্ন, ৫ জুলাই- অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে ১৭৫ বছর আগের স্বর্ণখনি ইতিহাসের এক বিস্ময়কর চিত্র উঠে এসেছে নতুন এক জরিপে। অত্যাধুনিক লাইট ডিটেকশন অ্যান্ড রেঞ্জিং (লিডার) প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত চার বছরব্যাপী এক জরিপে সরকারি নথিতে আগে অজানা থাকা প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ঐতিহাসিক খনির নিদর্শনের সন্ধান মিলেছে। এর আগে সরকারি রেকর্ডে এমন নিদর্শনের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩০ হাজার।
ভিক্টোরিয়ার জিওলজিক্যাল সার্ভে পরিচালিত এই প্রকল্পে গোল্ডেন প্লেইনস, সেন্ট্রাল গোল্ডফিল্ডস, গ্রেটার মেলবোর্ন এবং হাই কান্ট্রি অঞ্চলের ক্রাউন ল্যান্ডে জরিপ চালানো হয়। বিশেষভাবে সজ্জিত উড়োজাহাজ থেকে লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে ভূ-পৃষ্ঠ স্ক্যান করে পুরোনো খনির গর্ত, সুড়ঙ্গ, ওপেন স্টোপ, মাটির স্তূপ এবং খনির বিভিন্ন অবকাঠামোর অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে।
জিওলজিক্যাল সার্ভে ভিক্টোরিয়ার পরিচালক লুইস গোল্ডি ডিভকো জানান, লিডার প্রযুক্তি বাদুড়ের প্রতিধ্বনি নির্ণয় পদ্ধতির মতোই কাজ করে, তবে শব্দের বদলে লেজার ব্যবহার করা হয়। এতে গাছপালা ও ভবনের নিচে থাকা ভূমির প্রকৃত চিত্রও স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

ছবিঃ সংগৃহীত
প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা প্রায় ৯০ শতাংশ নির্ভুলভাবে খনির নিদর্শন চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে থাকা পুরোনো খনিগুলো যুক্ত করলে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।
কর্মকর্তাদের মতে, এই তথ্য শুধু ঐতিহাসিক গবেষণার জন্য নয়, বরং দমকল বাহিনী, জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থা, ভূমি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ ভিক্টোরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পরিত্যক্ত খনির গর্ত ধসে পড়ে অতীতেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
পেশাদার স্বর্ণ অনুসন্ধানকারী ক্রিস বোগুসিস বলেন, ভিক্টোরিয়ার স্বর্ণখনিগুলোর ব্যাপ্তি দেখে তিনি বিস্মিত নন। তার ভাষায়, স্বর্ণের খোঁজে যারা কাজ করেন, তারা সবাই বড় আবিষ্কারের স্বপ্ন দেখেন এবং এই শতবর্ষী খনিগুলো সেই ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী।
জিওলজিক্যাল সার্ভে ভিক্টোরিয়া জানিয়েছে, প্রকল্পটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে, যেখানে ঐতিহাসিক স্বর্ণখনির বিস্তৃতি ও অবস্থান সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ