রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ৫ জুলাই- পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হওয়ার মধ্যেই দলীয় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন দলটির প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর দলের ভাঙন ও নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তাকে থামানোর একমাত্র উপায় হলো তাকে হত্যা করা। একই সঙ্গে বিদ্রোহী নেতাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে দলীয় প্রতীক ও সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
শনিবার দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যারা তাকে থামাতে চান, তারা চাইলে তাকে হত্যা করতে পারেন, কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক কিংবা দলীয় পরিচয় কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। তিনি অভিযোগ করেন, যাদের মনোনয়নে নিজে স্বাক্ষর করেছিলেন, তারাই অল্প সময়ের মধ্যে দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়। দলের একাংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পৃথক অবস্থান নেওয়ায় কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে দলটি। এরই মধ্যে তৃণমূলের পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রধান চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
বিদ্রোহীদের বিজেপির প্রভাবের কাছে নতি স্বীকারের অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, তিনি কোনো পরিস্থিতিতেই বিজেপির কাছে মাথা নত করবেন না। দলের আদর্শ ও সংগঠন রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ারও অঙ্গীকার করেন তিনি।
দলীয় কার্যালয়ের মালিকানা নিয়েও বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বিদ্রোহীরা যে কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে, সেটি ২০২৭ সাল পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের লিজ নেওয়া সম্পত্তি। পরিস্থিতির কারণে আপাতত নিজের বাসভবনের কার্যালয়কেই দলের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়াফুল’-এর বৈধ মালিকানা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। কমিশন আগামী ৬ জুলাইয়ের মধ্যে উভয় পক্ষকে তাদের দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় বিদ্রোহ, নেতৃত্বের সংকট এবং প্রতীক নিয়ে আইনি লড়াইয়ের এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কঠোর অবস্থান তৃণমূল কংগ্রেসকে কতটা ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারে, সেটিই এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au