মেলবোর্ন, ৫ জুলাই- ভারতের সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে প্রায় ৫২ হাজার কোটি রুপি ব্যয়ে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ (ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা ডিএসি)। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি উন্নত অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের মাধ্যমে স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা, আকাশ প্রতিরক্ষা, নজরদারি এবং ড্রোন মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডিএসি’র অনুমোদনের মাধ্যমে এখন এসব প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। পরবর্তী ধাপে দরপত্র আহ্বান, প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক মূল্যায়ন এবং চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করা হবে।
নতুন ক্রয় পরিকল্পনায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য আকাশ তরঙ্গ অ্যান্টি-আনম্যানড অ্যারিয়াল ভেহিকল (ইউএভি) ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, ম্যান পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল (এমপিএটিজিএম), মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (এমআরএসএএম), ভেরি শর্ট-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (ভি-শোরেডস), অ্যাক্টিভ প্রটেকশন সিস্টেম (এপিএস) এবং জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, আকাশ তরঙ্গ ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ব্যবস্থা ভবিষ্যতের ড্রোন যুদ্ধ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াবে। একই সঙ্গে এমপিএটিজিএম সিস্টেম পদাতিক বাহিনীকে শত্রুপক্ষের সাঁজোয়া যান ধ্বংসে আরও কার্যকর করবে।
এছাড়া এমআরএসএএম আকাশপথে আসা বিভিন্ন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহৃত হবে, আর ভি-শোরেডস মাল্টি-স্পেকট্রাল সেন্সর প্রযুক্তির মাধ্যমে শত্রুর পাল্টা প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও অকার্যকর করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ট্যাংকের জন্য অ্যাক্টিভ প্রটেকশন সিস্টেম সংযোজনের ফলে অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা থেকে সুরক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
অন্যদিকে, জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন স্বল্প ব্যয়ে নির্ভুল আঘাত হানার পাশাপাশি উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য মাল্টি ইনফ্লুয়েন্স গ্রাউন্ড মাইন (এমআইজিএম), নেভাল শিপবর্ন আনম্যানড অ্যারিয়াল সিস্টেম (এনএসইউএএস) এবং ইলেকট্রিক প্রপালশন ব্যবস্থার ল্যান্ড-বেসড টেস্টিং ফ্যাসিলিটি (এলবিটিএফ) কেনার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। এসব প্রযুক্তি সমুদ্রে নজরদারি, শত্রুপক্ষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একই সঙ্গে ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য ফিক্সড-উইং হাই-অল্টিটিউড সিউডো স্যাটেলাইট (এফডব্লিউ-এইচএপিএস) সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্ম দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি, টেলিযোগাযোগ এবং রিমোট সেন্সিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে ভারতের চলমান প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই বৃহৎ অস্ত্র ক্রয় পরিকল্পনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।