বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন অধ্যায় চায় যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের বার্তা।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ জুলাই- বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তাভিত্তিক সহযোগিতার পরিবর্তে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও সমান সুযোগের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক সম্পর্কই ভবিষ্যতে দুই দেশের সহযোগিতার মূল ভিত্তি হবে।
শনিবার ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অর্থ যুক্তরাষ্ট্র একা চলবে, এমন নয়। বরং আমরা এমন অংশীদারত্ব চাই, যা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের উভয় দেশের মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের শক্তিশালী বেসরকারি খাত, তরুণ জনশক্তী এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দেশটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করতে পারে। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি ও দক্ষতা স্থানান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারবে। একই সঙ্গে জ্বালানি, প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোরও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন বলেন, সরকার বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে নীতিগত সহায়তা, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রাজস্ব বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করবে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠী, সম্প্রসারিত অভ্যন্তরীণ বাজার, অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্ক, কর-সুবিধা এবং মুনাফা দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করেছে। এ সময় তিনি আরও বেশি মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচ্যাম) সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, গত তিন দশকে টেলিযোগাযোগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, তৈরি পোশাক, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরে অ্যামচ্যাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে সংগঠনটি সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।
বক্তারা বলেন, পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
সুত্রঃ The Daily Star