বাংলাদেশ

রপ্তানি আদেশ কমা ও বহুমুখী সংকটে বন্ধ হচ্ছে পোশাক কারখানা, ছয় মাসে চাকরি হারিয়েছেন অন্তত ২০ হাজার শ্রমিক

  • 1:05 pm - July 07, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৯৭ বার
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী খাত বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে।ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৭ জুলাই- বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী খাত বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের কারণে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অথবা উৎপাদন সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই অন্তত ২০ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

শিল্প খাত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের সাতটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৪০০টিরও বেশি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশ কারখানা বন্ধ হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে রপ্তানি আদেশের ঘাটতি এবং আর্থিক সংকট।

কারখানা মালিকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের কাছ থেকে নতুন অর্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সময়ে কাঁচামাল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলেও আন্তর্জাতিক ক্রেতারা পণ্যের দাম বাড়াতে রাজি হচ্ছেন না। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসান কমাতে উৎপাদন সীমিত করা বা কারখানা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

এই সংকটের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে লিথে গ্রুপের পাঁচটি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া, ভবিষ্যৎ অর্ডার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেনি।

এদিকে ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবও বাংলাদেশের শিল্প খাতে পড়েছে। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক কারখানা নিয়মিত উৎপাদন চালাতে না পেরে কর্মী ছাঁটাই বা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, অর্থনৈতিক কারণের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার কারণেও চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। সম্প্রতি শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পর কিছু শ্রমিককে লক্ষ্য করে ছাঁটাই করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো।

অন্যদিকে, কারখানা বন্ধের পর অনেক শ্রমিক বকেয়া বেতন, ক্ষতিপূরণ এবং অন্যান্য পাওনা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এসব দাবিতে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং আন্দোলনের ঘটনাও ঘটছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হওয়ায় এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা রপ্তানি আদেশ বাড়ানো, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, উৎপাদন ব্যয় কমাতে নীতিগত সহায়তা এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

এই শাখার আরও খবর

স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ঠিক করে দিতে পারে না কে মুক্তিযোদ্ধা, কে নন: ২৮ বিশিষ্টজন

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছেন দেশের ২৮ বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁরা…

সেই রাতের বারের ফুটেজে তিনজন, তাহসিফের সাথে থাকা তরুণীর তথ্য কেন গোপণ করেছিলেন বন্ধু দীপ

রাজধানীর উপকণ্ঠে তুরাগ নদ থেকে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নতুন সূত্র পেয়েছে পুলিশ। তাঁর পরিচিত শাহরিয়ার রেজা দীপকে…

এবার ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে আট বছরের পুরোনো মামলায় সমন জারি

ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে আট বছরের পুরোনো একটি ফৌজদারি মানহানির মামলায় নতুন করে সমন জারি করেছেন দিল্লির একটি আদালত। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিল্লির…

গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা

গাজীপুরে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকার সব পোশাক কারখানায় ছুটি…

খুলনায় লংমার্চে পরপর ৫টি ককটেল বিস্ফোরণ, প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে থাকেন জামায়াত সমর্থকরা

খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের গাড়িবহর লক্ষ্য করে পরপর পাঁচটি ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে দিক্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন লংমার্চকে…

অতিরিক্ত ডিআইজির বাসা থেকে আটকের তালিকায় ছিলেন তাহসিফ, মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল?

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর তদন্তে সামনে আসছে একের পর এক নতুন তথ্য। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় মাদক সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au