কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ৫০ বাংলাদেশি
মেলবোর্ন, ৭ জুলাই- ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ৫০ বাংলাদেশি। গত রোববার রাত প্রায় ৯টার দিকে…
মেলবোর্ন, ৭ জুলাই- বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী খাত বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের কারণে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অথবা উৎপাদন সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই অন্তত ২০ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
শিল্প খাত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের সাতটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৪০০টিরও বেশি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশ কারখানা বন্ধ হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে রপ্তানি আদেশের ঘাটতি এবং আর্থিক সংকট।
কারখানা মালিকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের কাছ থেকে নতুন অর্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সময়ে কাঁচামাল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলেও আন্তর্জাতিক ক্রেতারা পণ্যের দাম বাড়াতে রাজি হচ্ছেন না। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসান কমাতে উৎপাদন সীমিত করা বা কারখানা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
এই সংকটের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে লিথে গ্রুপের পাঁচটি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া, ভবিষ্যৎ অর্ডার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেনি।
এদিকে ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবও বাংলাদেশের শিল্প খাতে পড়েছে। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক কারখানা নিয়মিত উৎপাদন চালাতে না পেরে কর্মী ছাঁটাই বা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে।
শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, অর্থনৈতিক কারণের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার কারণেও চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। সম্প্রতি শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পর কিছু শ্রমিককে লক্ষ্য করে ছাঁটাই করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো।
অন্যদিকে, কারখানা বন্ধের পর অনেক শ্রমিক বকেয়া বেতন, ক্ষতিপূরণ এবং অন্যান্য পাওনা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এসব দাবিতে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং আন্দোলনের ঘটনাও ঘটছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হওয়ায় এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা রপ্তানি আদেশ বাড়ানো, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, উৎপাদন ব্যয় কমাতে নীতিগত সহায়তা এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au