কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ৫০ বাংলাদেশি
মেলবোর্ন, ৭ জুলাই- ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ৫০ বাংলাদেশি। গত রোববার রাত প্রায় ৯টার দিকে…
মেলবোর্ন, ৭ জুলাই- বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ভারত, চীন, রাশিয়াসহ বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে উঠবে সম্পূর্ণ পারস্পরিক স্বার্থ, জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশকে সার্ক (দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা) এবং বিমসটেক (বঙ্গোপসাগরীয় বহুখাতভিত্তিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ) এর মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
সোমবার (৭ জুলাই) নয়াদিল্লিতে আগামী ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য বিমসটেকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠককে সামনে রেখে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওই বৈঠকে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বিভিন্ন কৌশলগত ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, সার্ক ও বিমসটেককে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক হিসেবে দেখা উচিত। তাঁর মতে, উপ-আঞ্চলিক উদ্যোগগুলো যেন সার্কের কার্যক্রমকে দুর্বল না করে; বরং দক্ষিণ এশিয়ায় বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো একক শক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাই সরকারের লক্ষ্য।
এর আগে গত শনিবারও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান যেকোনো মতপার্থক্য সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য বৈষম্য এবং তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতেও দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত ও কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ একদিকে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ঢাকার ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আঞ্চলিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অগ্রাধিকার।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au