মুক্তিপণ নিতে এসে আটক এনসিপির দুই নেতা, ছাড়াতে গিয়ে গ্রেপ্তার আরও তিন
মেলবোর্ন, ৯ জুলাই- দিনাজপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির একটি ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতাসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অপহৃত এক ব্যক্তির…
মেলবোর্ন, ৮ জুলাই- অস্ট্রেলিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত বহুসংস্কৃতিবাদ (মাল্টিকালচারালিজম) দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম সফল অভিবাসী সমাজে পরিণত করলেও বর্তমান বাস্তবতায় শুধু সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দেওয়াই যথেষ্ট নয় বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষা ও ধর্মের মানুষের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, পারস্পরিক আস্থা এবং যৌথ নাগরিক পরিচয় গড়ে তুলতে এখন ‘আন্তঃসাংস্কৃতিকতা’ (ইন্টারকালচারালিজম) ভিত্তিক নীতির দিকে এগোতে হবে।
সম্প্রতি বহুসংস্কৃতিবাদ নিয়ে বিতর্ক নতুন করে সামনে আসে, যখন অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী রাজনীতিক পলিন হ্যানসন দেশটির বহুসংস্কৃতিবাদ নীতির সমালোচনা করেন। তবে গবেষকরা বলছেন, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বহুসংস্কৃতিবাদ অস্ট্রেলিয়াকে শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ এবং অভিবাসীবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এটি বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অধিকার, ভাষাগত সহায়তা, বৈষম্যবিরোধী সুরক্ষা এবং সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সমান অধিকার নিশ্চিত করলেই সমাজে পারস্পরিক সম্পর্ক বা একাত্মবোধ তৈরি হয় না। একই সমাজে বসবাস করেও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারেন। সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতেই আন্তঃসাংস্কৃতিক নীতির প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
এই ধারণার মূল লক্ষ্য হলো, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পটভূমির মানুষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, সহযোগিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি করা। স্কুল, কর্মক্ষেত্র, খেলাধুলা, গ্রন্থাগার, স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টার এবং জনপরিসরকে এমনভাবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই একে অপরের সঙ্গে মিশতে এবং পারস্পরিক আস্থা গড়ে তুলতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, অভিবাসীদের একতরফাভাবে মূলধারার সমাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পরিবর্তে সমাজের সব অংশের মানুষের পারস্পরিক অভিযোজন প্রয়োজন। অর্থাৎ নতুন অভিবাসী যেমন অস্ট্রেলিয়ার আইন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নাগরিক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, তেমনি দীর্ঘদিনের বাসিন্দারাও নতুন সংস্কৃতি, অভিজ্ঞতা ও জীবনধারাকে গ্রহণ করার মানসিকতা তৈরি করবেন। এতে জাতীয় পরিচয় আরও সমৃদ্ধ হবে।
এছাড়া বহুসংস্কৃতিবাদকে শুধু অভিবাসী বা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিষয় হিসেবে না দেখে, সরকারি সব দপ্তর, স্থানীয় সরকার এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, স্থানীয় উন্নয়ন এবং জনসেবা কার্যক্রমে আন্তঃসাংস্কৃতিক নীতি অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছেন গবেষকরা।
অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি শহরে ইতোমধ্যেই এই ধারণার বাস্তব প্রয়োগ শুরু হয়েছে। ভিক্টোরিয়ার ব্যালারাট, মেলবোর্নের মেলটন এবং দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার স্যালিসবেরি সিটি কাউন্সিল বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্রে কাজ করার সুযোগ তৈরি, যৌথ কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ইতিবাচক ফল পেয়েছে।
গবেষকদের মতে, বহুসংস্কৃতিবাদ অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে। তবে ভবিষ্যতের আরও বৈচিত্র্যময় সমাজে স্থায়ী সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং শক্তিশালী জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে আন্তঃসাংস্কৃতিক নীতির সম্প্রসারণ সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au