মেলবোর্ন, ২০ জুলাই- যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নির্দেশে ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী সক্রিয় ও রিজার্ভ সেনাসদস্যদের জন্য বার্ষিক টেস্টোস্টেরন-ঘাটতি পরীক্ষা চালুর পরিকল্পনা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগ সেনাবাহিনীর যুদ্ধ-প্রস্তুতি ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরনের ব্যাপক পরীক্ষা ও সম্ভাব্য চিকিৎসার পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
চলতি সপ্তাহে দেওয়া নির্দেশনায় হেগসেথ বলেন, সেনাসদস্যদের শরীরে যথাযথ মাত্রার টেস্টোস্টেরন নিশ্চিত করা হলে তাদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা, দীর্ঘমেয়াদি কর্মক্ষমতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার দক্ষতা বাড়বে। একই সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ-প্রস্তুতিও শক্তিশালী হবে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসাবিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, প্রয়োজন ছাড়া টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করা হলে তা প্রত্যাশিত সুফল না এনে উল্টো বন্ধ্যত্ব, হরমোনজনিত জটিলতা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা পুরুষদের স্বাস্থ্যবিষয়ক ছয়জন বিশেষজ্ঞের মধ্যে পাঁচজনই এই ঘোষণায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, লক্ষণ বা চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়াই বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্যের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা অপ্রয়োজনীয় এবং এটি অনেককে অযাচিত চিকিৎসার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মধ্যে চারজন আরও বলেন, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী সব সেনাসদস্যের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পরীক্ষা করলে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ-প্রস্তুতি বা সামরিক সক্ষমতা যে বাস্তবিক অর্থে বাড়বে, এমন কোনো শক্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ বর্তমানে নেই।
হেগসেথ জানিয়েছেন, পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে চিকিৎসার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হবে। তবে চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট সেনাসদস্যের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তও সমালোচনার মুখে পড়েছে। এর আগে হেগসেথ সামরিক বাহিনীতে দীর্ঘদিনের বাধ্যতামূলক ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু) টিকার নিয়ম বাতিল করেছিলেন। তবে পরে ফ্লুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ সম্প্রতি তাদের টিকাবিষয়ক উপদেষ্টা প্যানেলের ১৭ সদস্যকে অপসারণ করেছে এবং টিকা-সংক্রান্ত সুপারিশেও পরিবর্তন এনেছে। এসব পদক্ষেপ নিয়েও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
টেস্টোস্টেরন সাপ্লিমেন্ট সরবরাহকারী টেলিহেলথ প্ল্যাটফর্ম ‘রুগিয়েট’-এর মেডিক্যাল উপদেষ্টা বোর্ডের ইউরোলজিস্ট কেভিন ম্যাকভেরি বলেন, যেসব রোগীর শরীরে টেস্টোস্টেরনের ঘাটতির স্পষ্ট উপসর্গ থাকে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার পর মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা, শারীরিক শক্তি ও মানসিক সহনশীলতার উন্নতি দেখা যেতে পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব তথ্য সীমিত এবং তা সব সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।