মেলবোর্ন, ২০ জুলাই: পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা। সেখানে সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহতদের প্রতিটি মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক। জেনেভা থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক নাগরিক—উভয় পক্ষের নিহতদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা প্রয়োজন। স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত জুন থেকে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক মাসে সেখানে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিক্ষোভকারীরাও রয়েছেন। বর্তমানে এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)। সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান সরকার। একই সঙ্গে সংগঠনটির বহু নেতা-কর্মী ও সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে ভলকার টুর্ক বলেন, নাগরিক সমাজ থেকে গড়ে ওঠা একটি সংগঠনকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। জাতিসংঘ গ্রেপ্তার হওয়া জেএএসি নেতাদের দ্রুত আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া এবং অঞ্চলটিতে বন্ধ থাকা ইন্টারনেট সেবা দ্রুত চালুর আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতি, কর বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ থেকেই আন্দোলনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। এদিকে, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন দাবি করা হচ্ছে। পাকিস্তান সরকার বিক্ষোভের পেছনে ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুললেও, এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি।