জাপানের ইইজেডে চীনের গোলাবর্ষণ মহড়া, পাশে ছিল রুশ যুদ্ধজাহাজ
মেলবোর্ন, ২১ জুলাই- রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইজেড) এলাকায় চীনের একটি যুদ্ধজাহাজ গোলাবর্ষণ মহড়া চালিয়েছে বলে জানিয়েছে জাপানের…
মেলবোর্ন, ২১ জুলাই- আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বাংলাদেশের সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ জেলে মিরাজ শেখের ঘটনায় অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী মিরাজ শেখকে সর্বশেষ কোস্টগার্ডের হেফাজতে দেখা গেছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে প্রথম গুমের ঘটনা হতে পারে।
রোববার লন্ডন সময় রাতে এইচআরডব্লিউ তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে সংস্থাটি গুম প্রতিরোধে প্রস্তাবিত সংস্কার থেকে সরকার যেন সরে না আসে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করে, সেই আহ্বানও জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আগে দীর্ঘ সময় ধরে দেশে গুমের অভিযোগ ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ জারি করে, যার মাধ্যমে গুমের অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত এবং আদালতের অনুমতি ছাড়াই আটককেন্দ্র পরিদর্শনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। তবে নতুন সরকার ওই অধ্যাদেশের মেয়াদ শেষ হতে দিয়ে নতুন আইনের প্রস্তাব করেছে, যেখানে মানবাধিকার কমিশনের পরিবর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধেই তদন্তের দায়িত্ব মূলত পুলিশের ওপর রাখা হয়েছে। এই পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ।
সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে হাজারো মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মিরাজ শেখের ঘটনা দেখাচ্ছে, কার্যকর সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে একই ধরনের অভিযোগ আবারও সামনে আসতে পারে। তার মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা অপরিহার্য।
এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ এপ্রিল রাতে মোংলার সুন্দরবনসংলগ্ন জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্টগার্ড সদস্যরা জেলে মিরাজ শেখকে আটক করে একটি স্পিডবোটে তুলে নিয়ে যান বলে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন। পরদিন পরিবারের সদস্যরা কোস্টগার্ড কার্যালয়ে গেলে প্রথমে জানানো হয়, তিনি একটি অভিযানে রয়েছেন এবং পরে আসতে বলা হয়। কিন্তু পরে কোস্টগার্ড জানায়, মিরাজ কখনোই তাদের হেফাজতে ছিলেন না।
এ ঘটনায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, যেখান থেকে মিরাজ শেখকে তুলে নেওয়া হয়েছিল, সেই স্থানে পড়ে থাকা তার মোটরসাইকেল কয়েকদিন পর কোস্টগার্ড পরিচয়ে আসা ব্যক্তিরা নিয়ে যান এবং পরদিন আবার সেটি ফিরিয়ে দেন।
মিরাজ শেখের পরিবারের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন এইচআরডব্লিউকে জানান, প্রত্যক্ষদর্শীরা মিরাজকে কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে তুলে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলন করেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় মিরাজের বাবা হাইকোর্টে আবেদন করেন। পরে আদালত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ১৫ দিনের মধ্যে মিরাজ শেখকে খুঁজে বের করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, কোস্টগার্ডের পশ্চিমাঞ্চলের জনসংযোগ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহবুব হোসেন মিরাজ শেখকে আটক করার অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কোস্টগার্ডের কাছে কোনো তথ্য নেই।
প্রতিবেদনের শেষাংশে এইচআরডব্লিউ বলেছে, গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীন ক্ষমতা পুনর্বহাল করা প্রয়োজন। সংস্থাটির মতে, পুলিশের পরিবর্তে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তদন্ত পরিচালিত হলেই কেবল প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au