সহযোগী ফরাসি মডেলিং এজেন্ট ড্যানিয়েল সিয়াদের মরদেহ উদ্ধার। ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: মার্কিন ধনকুবের ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের অন্যতম সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত ফরাসি মডেলিং এজেন্ট ড্যানিয়েল সিয়াদের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। গত ২০ জুলাই প্যারিসের শহরতলি কোলম্বেসে অবস্থিত তার নিজ বাসভবন থেকে ৬৯ বছর বয়সী সিয়াদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এপস্টেইনের বহুল আলোচিত যৌন অপরাধ চক্রকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও রহস্যের জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে নান্তেস জুডিশিয়াল কোর্টের প্রসিকিউটর অফিস তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে মরদেহের ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ড্যানিয়েল সিয়াদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুতর অভিযোগ ছিল যে, তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জেফরি এপস্টেইনের জন্য অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী ও তরুণী মডেলদের খুঁজে দেওয়া, তাদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা এবং এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা করতেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত বহুল আলোচিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এ তার নাম উঠে আসে। সেই নথিতে জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সিয়াদের ইমেইল যোগাযোগের বিভিন্ন তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সিয়াদের আইনজীবী মেইনা আরব-তিগ্রিন এক বিবৃতিতে জানান, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে ফ্রান্সে ধর্ষণ, মানবপাচারসহ একাধিক অভিযোগ থাকলেও তিনি কখনো বিচারের মুখোমুখি হননি। তিনি দাবি করেন, ড্যানিয়েল সিয়াদ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে গেছেন।
এদিকে ড্যানিয়েল সিয়াদের মৃত্যু এপস্টেইনের সহযোগীদের মধ্যে দ্বিতীয় রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। এর আগে ২০২২ সালে এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ফরাসি মডেলিং এজেন্ট জঁ-লুক ব্রুনেল প্যারিসের একটি কারাগারে বিচার শুরুর আগেই আত্মহত্যা করেন। সেই ঘটনাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
উল্লেখ্য, জেফরি এপস্টেইন নিজেও ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে আটক অবস্থায় আত্মহত্যা করেন। তার মৃত্যুকে ঘিরেও নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক আজও পুরোপুরি থামেনি। সর্বশেষ ড্যানিয়েল সিয়াদের মৃত্যু এপস্টেইন কেলেঙ্কারিকে ঘিরে নতুন করে নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে ফরাসি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সুত্রঃ বিবিসি