ভারতে আন্দোলনের মধ্যেই আরও দুই পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা বাতিল
মেলবোর্ন, ২৪ জুলাই: ভারতে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে আন্দোলন চলার মধ্যেই নতুন করে আরও দুটি বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এ…
মেলবোর্ন, ২৪ জুলাই: ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়ার আধিপত্যে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী আনার ভাবনা, নিজস্ব এয়ারলাইন বা বিদ্যমান কোনো সংস্থার অংশীদারিত্ব দুই বিকল্পই বিবেচনায়। ভারতের বিমান পরিবহন খাতে নতুন এয়ারলাইন চালুর পরিকল্পনা বিবেচনা করছে শিল্পপতি গৌতম আদানির মালিকানাধীন আদানি গ্রুপ। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়ার আধিপত্যে থাকা দেশটির বিমান বাজারে প্রতিযোগিতার নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদানি গ্রুপ বর্তমানে মুম্বাইয়ের দুটি বিমানবন্দরসহ ভারতের মোট আটটি বিমানবন্দর পরিচালনা করছে। পাশাপাশি বিমানবন্দর খাতে তাদের প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে গ্রুপটি জানিয়েছিল, তারা বিমান সংস্থা পরিচালনার ব্যবসায় আগ্রহী নয়। তবে নতুন এই উদ্যোগ তাদের কৌশলগত অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র জানান, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কারণ বিমান পরিবহন খাতকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও তুলনামূলক কম লাভজনক ব্যবসা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একই সূত্রের দাবি, গত বছরের বিমান দুর্ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়াকে ঘিরে বাড়তি নজরদারি এবং ইন্ডিগোর পরিচালনাগত সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার ব্যক্তিগতভাবে আদানি গ্রুপসহ কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীকে নতুন বিমান সংস্থা চালুর সম্ভাবনা বিবেচনার জন্য উৎসাহ দিয়েছে।
সূত্রটির ভাষ্য, “এটি কঠিন একটি ব্যবসা। তবে জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আদানি গ্রুপ সম্ভাবনাটি পর্যালোচনা করছে।”
রয়টার্সের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন এয়ারলাইন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ইতোমধ্যে পরিচালনাধীন কোনো বিমান সংস্থার অংশীদারিত্ব কিনে নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে আদানি গ্রুপ। তার ভাষায়, “সব ধরনের বিকল্পই খোলা রাখা হয়েছে।” এ বিষয়ে রয়টার্সের পাঠানো প্রশ্নের জবাবে আদানি গ্রুপ কিংবা ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
বর্তমানে প্রায় ৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদের মালিক গৌতম আদানি এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ ধনী ব্যক্তি। বিমান পরিবহন ব্যবসায় প্রবেশ করলে সেটি তার ব্যবসায়িক জীবনের অন্যতম বড় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বিমান বাজারগুলোর একটি হলেও ভারতে বর্তমানে কার্যত দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রাধান্য রয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ বিমানবাজারের প্রায় ৬৫ দশমিক ৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ইন্ডিগো, আর প্রায় ২৫ শতাংশ বাজার রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার দখলে।
গত ডিসেম্বরে পাইলট সংকটের কারণে ইন্ডিগোকে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে হয়, যা যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি বিমান ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, গত বছরের ড্রিমলাইনার দুর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হওয়ার পর থেকে এয়ার ইন্ডিয়া কঠোর নিরাপত্তা তদারকির আওতায় রয়েছে। একই সময়ে স্পাইসজেটও আর্থিক সংকট মোকাবিলা করছে। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে আদানি এয়ারপোর্টসের পরিচালক এবং গৌতম আদানির কনিষ্ঠ ছেলে জিত আদানি রয়টার্সকে বলেছিলেন, কম মুনাফার কারণে বিমান সংস্থা পরিচালনার ব্যবসায় তাদের আগ্রহ নেই। তবে এরপরও বিমান চলাচল-সম্পর্কিত অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে আদানি গ্রুপ। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দেশের ছয়টি বিমানবন্দর এলাকায় হোটেল, অফিস ভবন ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স নির্মাণে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করবে তারা। এছাড়া বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য যাত্রীবাহী বিমান সংস্থায় অংশীদারিত্বের বিদ্যমান বিধিনিষেধ শিথিল করারও অনুরোধ জানিয়েছে গ্রুপটি। স্বাধীন বিমান পরিবহন বিশ্লেষক ব্রেন্ডন সোবির মতে, বিশ্বের কয়েকটি দেশে বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান একই সঙ্গে বিমান সংস্থার মালিক হলেও ভারতের মতো বড় বাজারে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au