অস্ট্রেলিয়া

২০২৮ সালের নির্বাচন সামনে রেখে ওয়ান নেশনকে প্রধান প্রতিপক্ষ ভাবছে লেবার

  • 12:21 am - July 28, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৮ বার
ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি মনে করছে, ২০২৮ সালের ফেডারেল নির্বাচনে তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হবে কোয়ালিশন ও ডানপন্থী ওয়ান নেশন পার্টির সম্ভাব্য জোট। দলটির জাতীয় সম্পাদক পল এরিকসনের ভাষ্য, আগামী নির্বাচনে এই দুই দল কার্যত একসঙ্গে কাজ করবে এবং সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই লেবার এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রোববার স্কাই নিউজের Sunday Agenda অনুষ্ঠানে পল এরিকসন বলেন, কোয়ালিশন ওয়ান নেশনকে ছাড়া সরকার গঠন করতে পারবে না, আবার ওয়ান নেশনও কোয়ালিশনের সহযোগিতা ছাড়া নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে না। তাই ২০২৮ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে লেবার পার্টির তিন দিনের জাতীয় সম্মেলনে ওয়ান নেশনকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, জনমত জরিপের ইঙ্গিত অনুযায়ী, আগামী নির্বাচনে কোয়ালিশন ও ওয়ান নেশন একসঙ্গে কাজ করবে। তাই লেবারও সেই পরিস্থিতির জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে।

এরিকসনের মতে, পরবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের সামনে দুটি স্পষ্ট বিকল্প থাকবে। একদিকে থাকবে বাস্তব পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া লেবার সরকার, অন্যদিকে থাকবে কোয়ালিশন ও ওয়ান নেশনের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিভক্ত ও বিশৃঙ্খল সরকার। আগামী দুই বছরে এই বার্তাই জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চায় লেবার।

ওয়ান নেশন লেবারের কতটি আসনের জন্য হুমকি হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বলতে চাননি। তবে বলেন, তিনি কখনো নির্বাচনের ফল নিয়ে আগাম পূর্বাভাস দেন না। বরং সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দেন।

জাতীয় সম্মেলনে ওয়ান নেশনকে এত গুরুত্ব দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে এরিকসন বলেন, দলের প্রতিনিধিদের বিশ্বাস, আগামী নির্বাচন হবে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের নির্বাচন। তাই এখন থেকেই রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত হওয়া প্রয়োজন।

আলবানিজের কড়া সমালোচনা

লেবার পার্টির ৫০তম জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজও তাঁর বক্তব্যে ওয়ান নেশনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, লিবারেল পার্টি, ন্যাশনাল পার্টি এবং ওয়ান নেশন ইতোমধ্যেই কার্যত একটি রাজনৈতিক জোট হিসেবে কাজ করছে।

আলবানিজ বলেন, ওয়ান নেশনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, নীতিগত বিভ্রান্তি বা প্রার্থীদের নানা বিতর্ক থাকলেও বাস্তবে লিবারেল, ন্যাশনাল ও ওয়ান নেশন একই রাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছে। শুধু সরকার গঠন নয়, সরকারে গেলে তারা কী করবে, সে বিষয়েও তাদের মধ্যে মিল রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এই তিন দল ক্ষমতায় এলে শ্রমিকদের মজুরি কমানো, কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা দুর্বল করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিবর্তে পারমাণবিক বিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দেওয়া, আবাসন আরও ব্যয়বহুল করা এবং মেডিকেয়ারে ব্যয় কমানোর মতো নীতি অনুসরণ করতে পারে।

সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যেও তিনি দলের কর্মীদের “বাস্তব পরিবর্তন” স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী নির্বাচনের প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান।

দলীয় ঐক্যের আড়ালে বিতর্কের অভিযোগ

যদিও জাতীয় সম্মেলনে লেবার পার্টি ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তবুও অভ্যন্তরীণ মতভিন্নতা দমন করার অভিযোগ উঠেছে।

দলের ২০ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সব পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হওয়ায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিরোধগুলোও মূল অধিবেশনে ওঠার আগেই নিষ্পত্তি করা হয়।

এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাবেক মন্ত্রী এড হুসিক। তিনি বলেন, মতভিন্নতাকে যদি দলীয় অবিশ্বস্ততা হিসেবে দেখা হয়, তাহলে তা কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। তাঁর মতে, পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখেও মতপার্থক্য থাকতে পারে এবং সুস্থ বিতর্ক গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য জরুরি।

ওয়ান নেশনের উত্থানকেঅস্বস্তিকর বাস্তবতাবললেন হুসিক

এড হুসিক বলেন, ওয়ান নেশনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি লেবারের জন্য একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতা, কারণ এটি ঘটছে আলবানিজ সরকারের সময়েই।

তিনি বলেন, দলটি এখন অনেক নতুন সদস্য আকৃষ্ট করছে এবং অনেক ভোটার মনে করছেন, ওয়ান নেশন তাদের কথা শুনছে ও দেশের স্বার্থে কাজ করছে। যদিও তিনি নিজে এই ধারণার সঙ্গে একমত নন, তবুও স্বীকার করেন যে এভাবেই দলটি নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।

হুসিকের ভাষায়, রক্ষণশীল রাজনীতির প্রান্তে শুরু হওয়া যে রাজনৈতিক প্রবণতা ছিল, সেটি এখন মূলধারার রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। তাই ওয়ান নেশনকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

জরিপে ওয়ান নেশন এগিয়ে

সম্প্রতি প্রকাশিত স্কাই নিউজ পালস/ইউগভ জরিপে দেখা গেছে, ওয়ান নেশনের প্রাথমিক ভোট একসময় ৩০ শতাংশে উঠলেও পরে তা কমে ২৬ শতাংশে নেমেছে। এরপরও দলটি ২৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে কোয়ালিশনের ২০ শতাংশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। যদিও একই সময়ে কোয়ালিশনের সমর্থন তিন শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, গ্রিনস পার্টির সমর্থন ১২ শতাংশ। আর নতুন টিল-সমর্থিত দল কমিউনিটি স্ট্রং অস্ট্রেলিয়া প্রথমবারের মতো জরিপে অংশ নিয়ে ২ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

সূত্র:নিউজ২৪

এই শাখার আরও খবর

জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেলেন অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ

মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই: বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা…

সিডনি বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার চীনা নাগরিক, ২০ হাজার ডলার ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ

মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই: অস্ট্রেলিয়ায় এক কমনওয়েলথ সরকারি কর্মকর্তাকে ২০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে এক চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চায়ের…

বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ১০ ফুটবল কোচ

মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই: ফুটবল মাঠে সাফল্যের পেছনে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচদের ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই মূল্যায়নের প্রতিফলন দেখা যায় তাদের পারিশ্রমিকেও। ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া…

বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের আফ্রিকায় পাঠাতে চায় ইউরোপের পাঁচ দেশ

মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: ইউরোপে আশ্রয়ের আবেদন চূড়ান্তভাবে বাতিল হওয়া বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগে আফ্রিকার কোনো দেশ বা অন্য কোনো তৃতীয়…

বিশ্বকাপ ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রে ৬ কোটির বেশি দর্শক, বিশ্বজুড়ে দেখেছেন ৬০০ কোটিরও বেশি

মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বজুড়ে দর্শকসংখ্যায় নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই…

মিয়ানমারের সংঘাত নতুন পর্যায়ে, বাংলাদেশের সামনে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ

মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছরের বেশি সময় পর দেশটির সামরিক সরকার বা জান্তা বাহিনী এখনও…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au