বাংলাদেশ

ঢাকায় পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ, নেপথ্যে ছিলেন ভারতীয় ইহুদি জেনারেল জ্যাকব

  • 4:37 am - September 21, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৯৫০ বার
ঢাকায় পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ। ছবিঃ সংগৃহীত

ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আবারও সামনে এসেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইহুদি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জ্যাক ফার্জ রাফায়েল জ্যাকব সেই ইতিহাসের অন্যতম উল্লেখযোগ্য চরিত্র।

বেনে ইসরায়েল সম্প্রদায়ের এই ইহুদি জেনারেল ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারতের বিজয়ের সামরিক পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান ব্যক্তি ছিলেন। ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ আধুনিক সামরিক ইতিহাসে এমন একটি ঘটনা, যা অল্প সময়ের মধ্যে একটি পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দেয়। মাত্র ১৬ দিনের যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দেয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ সুগম হয়।

এই সামরিক অভিযানের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনাকারীদের একজন ছিলেন জ্যাকব। তাঁর কৌশলগত চিন্তা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা এবং যুদ্ধের রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার ক্ষমতা ১৯৭১ সালের অভিযানের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন ঢাকা শহরে পাকিস্তানি বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক আত্মসমর্পণ হিসেবে বর্ণিত একটি ঘটনা। সেই আত্মসমর্পণের শর্ত নির্ধারণ ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে জ্যাকব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

কলকাতায় জন্ম, ভারতীয় ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা

জ্যাক ফার্জ রাফায়েল জ্যাকবের জন্ম ১৯২৩ সালের ২ মে কলকাতায় একটি বেনে ইসরায়েল ইহুদি পরিবারে। তাঁর পরিবার এমন একটি ইহুদি সম্প্রদায়ের অংশ ছিল, যারা বহু শতাব্দী ধরে ভারতে বসবাস করে আসছিল।

শৈশবে তিনি ইহুদি ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। তিনি উপাসনালয়ে যেতেন, হিব্রু ভাষায় ধর্মীয় প্রার্থনা শিখতেন এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হন।

ভারতে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ধর্মীয় সহনশীলতার পরিবেশে ইহুদি সম্প্রদায় নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবন বজায় রেখে বসবাস করেছে। জ্যাকব পরবর্তী সময়ে বলেছিলেন, ভারতে বসবাসকালে তিনি ইহুদিবিদ্বেষের মুখোমুখি হননি।

তাঁর ইহুদি পরিচয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধ গঠনে ভূমিকা রাখলেও পরবর্তী জীবনে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে তাঁর দীর্ঘ সামরিক ক্যারিয়ারই তাঁকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করে তোলে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ইহুদি ঐতিহ্য

জ্যাকবের সামরিক জীবনের আগে থেকেই ভারতীয় ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্যরা ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হাজার হাজার ভারতীয় ইহুদি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

তাঁরা মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও বার্মাসহ বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেন। ভারত স্বাধীন হওয়ার পরও ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্যদের ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে।

এই দীর্ঘ ঐতিহ্যের মধ্যে জ্যাকব ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম বিশিষ্ট ইহুদি কর্মকর্তা হিসেবে উঠে আসেন।

ভারত ও ইসরায়েলের সামরিক ইতিহাসের সম্পর্কও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার অনেক আগের। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়া ৯০০-এর বেশি ভারতীয় সেনার কবর ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক সমাধিক্ষেত্রে রয়েছে। হাইফা, জেরুজালেম ও রামলেসহ বিভিন্ন স্থানে এসব কবর রয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘ ও জটিল ঐতিহাসিক সম্পর্কের একটি স্মারক হিসেবে বিবেচিত হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন জ্যাকব। মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও বার্মায় দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি আধুনিক যুদ্ধের নানা কৌশল ও বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত হন।

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ধীরে ধীরে পদোন্নতি পেয়ে তিনি সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পৌঁছান।

১৯৭১ সালে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে ভারতের সামরিক অভিযান পরিকল্পনা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে এই কমান্ডের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

পূর্ব পাকিস্তানে সংকট ও শরণার্থী ঢল

১৯৭১ সালের মার্চে পূর্ব পাকিস্তানে যে রাজনৈতিক ও সামরিক সংকট শুরু হয়, তা দ্রুত ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নেয়।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাঙালি জনগণের ওপর ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করলে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ভারতে আশ্রয় নিতে শুরু করে। লাখ লাখ শরণার্থীর আগমনে ভারতের অর্থনীতি ও সামাজিক ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতিতে ভারত কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও জটিলতা তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে ছিল এবং ভারতের জন্য অস্ত্র সরবরাহও বিভিন্নভাবে সীমিত করা হচ্ছিল।

এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েল নীরবে ভারতকে জরুরি সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে কামানের গোলা ও গোলাবারুদ ছিল। অন্য দেশগুলো যখন সরাসরি সহায়তা দিতে অনাগ্রহী ছিল, তখন ইসরায়েলের এই সহায়তাকে ভারতীয় কৌশলগত মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে স্মরণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে জ্যাকবও এ সহায়তার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার কৌশল

জ্যাকব বুঝতে পেরেছিলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এতে বাইরের শক্তিগুলো আরও সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে পুরো উপমহাদেশে অস্থিতিশীলতা বাড়তে এবং ইতোমধ্যে চলমান মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

তাই তাঁর সামরিক পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ছিল দ্রুত যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানো।

জ্যাকবের কৌশল ছিল প্রচলিত ধীরগতির, একের পর এক অবস্থান দখলের পদ্ধতির পরিবর্তে দ্রুতগতিতে বিভিন্ন দিক দিয়ে অগ্রসর হওয়া এবং পাকিস্তানি বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলো এড়িয়ে সরাসরি ঢাকার দিকে এগিয়ে যাওয়া।

তাঁর ধারণা ছিল, পাকিস্তানি বাহিনীর শক্ত ঘাঁটিগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই না করে সেগুলোকে পাশ কাটিয়ে দ্রুত ঢাকার দিকে অগ্রসর হলে পাকিস্তানি সামরিক কমান্ড ও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

এই পরিকল্পনায় গতি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। জ্যাকবের কাছে দ্রুত অগ্রসর হওয়া শুধু সামরিক সুবিধা ছিল না, বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রয়োজনও ছিল। দ্রুত বিজয় অর্জন করতে পারলে বাইরের শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপের সুযোগ কমে যাবে এবং যুদ্ধ আরও বড় আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

১৬ দিনের যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর পতন

১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে প্রবেশ করার পর জ্যাকবের পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়িত হতে থাকে।

ভারতীয় বাহিনী বিভিন্ন দিক দিয়ে দ্রুত অগ্রসর হয়। পাকিস্তানি বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় এবং তাদের পুনর্গঠিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা ক্রমেই কমে আসে।

কয়েক দিনের মধ্যেই ভারতীয় বাহিনী ঢাকাকে ঘিরে ফেলে। পাকিস্তানি বাহিনীর সামনে তখন আত্মসমর্পণ ছাড়া কার্যকর বিকল্প সীমিত হয়ে আসে।

পাকিস্তানি কমান্ডার আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আশা করছিলেন। এ সময় জ্যাকব আত্মসমর্পণের শর্তসংবলিত একটি সংক্ষিপ্ত নথি নিয়ে উপস্থিত হন।

আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্তে বিলম্বের চেষ্টা হলে জ্যাকব স্পষ্ট করে দেন, তাৎক্ষণিকভাবে চুক্তিতে সম্মত না হলে যুদ্ধ আবারও চলবে। তাঁর অবস্থান ছিল আত্মসমর্পণ হতে হবে নিঃশর্ত ও দ্রুত।

রমনা রেসকোর্সে আত্মসমর্পণ

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রমনা রেসকোর্স ময়দানে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে পাকিস্তানি বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে।

পাকিস্তানের লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ এ কে নিয়াজি এবং ভারতের লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।

এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি ছিল সবচেয়ে বড় সামরিক আত্মসমর্পণগুলোর একটি। আর এই আত্মসমর্পণের দলিল প্রস্তুত, শর্ত নির্ধারণ এবং পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে তা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে জ্যাকব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

অর্থাৎ আত্মসমর্পণের মঞ্চে স্বাক্ষর করেছিলেন নিয়াজি ও অরোরা, কিন্তু আত্মসমর্পণের শর্ত তৈরির প্রক্রিয়া এবং পাকিস্তানি কমান্ডের কাছে সেই শর্ত উপস্থাপনে জ্যাকব ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তা।

১৬ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (মাঝখানে) লেফটেন্যান্ট জেনারেল জ্যাক ফার্জ রাফায়েল জ্যাকব এবং (বাম দিক থেকে) বিমানবাহিনী প্রধান মার্শাল অরূপ রাহা, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল দলবীর সিং ও নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আর.কে. ধাওয়ানের সাথে। সৌজন্যে: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (GODL-India), উইকিমিডিয়া কমন্স-এর মাধ্যমে।

যুদ্ধের পরও দীর্ঘ সামরিক ও প্রশাসনিক জীবন

১৯৭১ সালের যুদ্ধের পরও জ্যাকব ভারতীয় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক বাহিনীতে তাঁর কর্মজীবন শেষে তিনি গোয়া ও পাঞ্জাবের রাজ্যপাল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি একাধিকবার ইসরায়েল সফর করেন এবং দেশটির নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁর সামরিক অবদান এবং ইহুদি ঐতিহ্যের জন্যও তাঁকে সম্মানিত করা হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের সেই ঘটনাগুলো আবারও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সামরিক ইতিহাসে জ্যাকবের ভূমিকা নিয়ে ভারত ও ইসরায়েলের বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

জেরুজালেমে জ্যাকবের স্মারক

২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল ইসরায়েলের জেরুজালেমে অ্যামুনিশন হিলের ‘ওয়াল অব অনার’-এ জ্যাকবের সম্মানে একটি স্থায়ী স্মারকফলক স্থাপন করা হয়।

অ্যামুনিশন হিল ইসরায়েলের এমন একটি জাতীয় স্মৃতিসৌধ, যেখানে বিদেশি সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করে বিশেষ অবদান রাখা ইহুদি সামরিক সদস্যদের স্মরণ করা হয়।

সেখানে জ্যাকবের নাম যুক্ত হওয়া তাঁর সামরিক জীবনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির একটি নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রমনা রেসকোর্সে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের সময় লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ এ কে নিয়াজি ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা আনুষ্ঠানিকভাবে দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন। কিন্তু আত্মসমর্পণের নথি প্রস্তুত করা, শর্ত নির্ধারণ এবং তা পাকিস্তানি কমান্ডের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে জ্যাকবের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

জেরুজালেমের স্মারকফলকে তাঁর নাম এখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়া ৯০০-এর বেশি ভারতীয় সেনার স্মৃতির সঙ্গে একই ঐতিহাসিক পরিসরে স্থান পেয়েছে। ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে থাকা এসব ভারতীয় সেনার কবর ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার বহু আগের এক সামরিক ও ঐতিহাসিক যোগাযোগের স্মারক।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের ইতিহাসে জ্যাক ফার্জ রাফায়েল জ্যাকব তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। কলকাতায় জন্ম নেওয়া একজন ভারতীয় ইহুদি সেনা কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর পরিচয় যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি বাংলাদেশের জন্মের পেছনে ভারতীয় সামরিক অভিযানের পরিকল্পনায় তাঁর ভূমিকা দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।

লেখকঃ  এলিয়েজার আব্রাহাম ইসরায়েল-ভারত কৌশলগত সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, ব্যবসায়িক উদ্ভাবন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ব্রিজআই২-এর প্রতিষ্ঠাতা।

এই শাখার আরও খবর

শরীয়তপুরের কলেজের কনসার্টে শেখ হাসিনা ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার সরকারি শামসুর রহমান কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্টে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার…

বিএনপির কর্মসূচিতে বেজে উঠল শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা গান

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত প্রচারণা কর্মসূচিতে মাইকে বেজে উঠেছে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা গান ‘বঙ্গবন্ধুর কন্যা…

শেখ মুজিবকে ‘জাতির পিতা’ সম্বোধন, বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সভায় দুই দফা হট্টগোল

জয়পুরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত আলোচনা সভায় ব্যানারে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল হয়েছে। পরে…

বাংলাদেশ-পাকিস্তান থেকে যাওয়া সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দিতে তোড়জোড় পশ্চিমবঙ্গে

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন…

শেখ হাসিনার নিরাপত্তার উদ্যোগ নিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ৬ এমপির চিঠি

বাংলাদেশে বিচারব্যবস্থার রাজনীতিকরণ বন্ধ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরার আগে তাঁর আইনি ও শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাজ্যের…

৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ হুজুরের, গ্রেপ্তারের পর কারাগারে

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  নরসিংদীর মনোহরদীতে মক্তবে আরবি পড়তে গিয়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে আট বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থী। শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মক্তবের শিক্ষক…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au