বরিশাল বিভাগজুড়ে ডেঙ্গুর বিস্তার, বদলে যাচ্ছে সংক্রমণের চিত্র
মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই: পরপর দুই বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পুরোপুরি শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন কলেজ শিক্ষার্থী পলাশ। বরগুনার বেতাগী থেকে উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে আনা…
মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই: বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন নাম আলোচনায় এলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দীর্ঘ সাংগঠনিক নেতৃত্ব, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দলীয় ও জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রাষ্ট্রপতির মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে এমন একজনকে দেখতে চায় বিএনপি, যিনি রাজনৈতিক সংকটের সময় বিচক্ষণতা, অভিজ্ঞতা ও ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়ে রাষ্ট্রের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে পারবেন। সে বিবেচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম দলীয় পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রপতি পদে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ দেড় দশকের প্রতিকূল সময়ে বিএনপিকে সংগঠিত রাখা, আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। শান্ত, সংযত ও পরিমিত রাজনৈতিক আচরণের কারণে তিনি শুধু বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছেই নয়, অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের অনেকের কাছেও গ্রহণযোগ্য একজন নেতা হিসেবে পরিচিত।
দলীয় নেতারা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির পদটি রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়ায় এমন একজন ব্যক্তিকে সেখানে মনোনয়ন দেওয়া প্রয়োজন, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং যিনি দীর্ঘদিন ধরে সততা ও রাজনৈতিক শালীনতার পরিচয় দিয়েছেন। মির্জা ফখরুলের নাম আলোচনায় থাকার পেছনে এই বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থানকালে তিনি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। মামলা, গ্রেপ্তার এবং রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও দলের নেতৃত্ব ধরে রাখার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, রাষ্ট্রপতির পদে এমন একজন ব্যক্তির প্রয়োজন, যিনি সংবিধান, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে অভিজ্ঞ, একই সঙ্গে সংকটময় সময়ে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। তাদের মতে, মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় এগিয়ে রেখেছে।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরে সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হবে।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় থাকলেও এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনা ও জল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au