দুর্ঘটনাস্থল।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৯ জুলাই: যুক্তরাজ্যে গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে একটি ব্রিটিশ-বাংলাদেশি পরিবার। ইংল্যান্ডের এসেক্স উপকূলে শক্তিশালী রিপ টাইড বা আকস্মিক সাগরস্রোতের কবলে পড়ে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ছয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর হাসপাতালে মারা গেছে সাত বছর বয়সী মুসা আহমদ। এ নিয়ে গত সপ্তাহের ওই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ২২ জুলাই এসেক্সের ওয়েস্ট মেরসিয়া সৈকতে পরিবারের সদস্যরা সমুদ্রে নামার পর হঠাৎ প্রবল রিপ টাইডের সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যে স্রোত তাদের গভীর পানির দিকে টেনে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় মুসা আহমদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) টানা ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার জানাজার সময় পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।
এর আগে একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান মুসার ফুফু, ৪১ বছর বয়সী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি স্কুলশিক্ষিকা শেলিনা রহমান এবং তাঁর ১৫ বছর বয়সী মেয়ে সামিহা রহমান। তাদের মৃত্যুতে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মুসার বাবা শাহিন আহমদ জানান, সেদিন পরিবারের ছয় সদস্য, যার মধ্যে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক ও তিনজন শিশু ছিলেন, সৈকতের কাছে সমুদ্রে নেমেছিলেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শক্তিশালী রিপ টাইড সবাইকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। আনন্দঘন পারিবারিক ভ্রমণ মুহূর্তেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়।
ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে উপকূলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। শাহিন আহমদের অভিযোগ, এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই বিপজ্জনক রিপ টাইডের জন্য পরিচিত হলেও পর্যটকদের সতর্ক করার মতো পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ছিল না। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে কোনো কোস্টগার্ড সদস্যও দায়িত্ব পালন করছিলেন না। স্থানীয় বাসিন্দারাও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে আরও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
পরিবারটির অভিযোগ, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা এবং এইচএম কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় নেয়। এই সময়ের মধ্যে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নিজের উদ্যোগে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
বিশেষ করে স্থানীয় বাসিন্দা ক্রেগ বোয়ে-এর সাহসিকতার কথা উল্লেখ করে পরিবার জানায়, তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল সাগরে নেমে ভেসে যাওয়া সদস্যদের উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তাঁর মানবিক উদ্যোগের জন্য পরিবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
রিপ টাইড হলো সমুদ্রের এমন একটি শক্তিশালী স্রোত, যা খুব অল্প সময়ের মধ্যে মানুষকে তীর থেকে গভীর পানির দিকে টেনে নিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এ ধরনের স্রোতের সময় আতঙ্কিত না হয়ে স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটার পরিবর্তে তীরের সমান্তরাল দিকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপদে ফিরে আসার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তবে যথাযথ সতর্কতা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম না থাকলে এমন দুর্ঘটনা সহজেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।