কিয়েভের কাছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিশুসহ নিহত ৩
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট: ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক শিশুসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। হামলায়…
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট: বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম সফল ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের সব রেকর্ড, পরিসংখ্যান ও মাইলফলক ক্রিকেট ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার এই বক্তব্য নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমী ও ক্রীড়াঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রতি সাকিবের ক্রিকেটীয় রেকর্ড মুছে ফেলার আহ্বান জানান শফিকুল আলম। একই সঙ্গে সাকিবের রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিয়েও তিনি কঠোর সমালোচনা করেন।
তবে সাকিবের ক্রিকেটীয় অর্জনকে তার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে আলাদা করে দেখার দাবি উঠছে। কারণ মাঠের পারফরম্যান্স, রেকর্ড ও মাইলফলক কোনো খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ কতটা থাকা উচিত, সেটিই এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল খেলোয়াড়দের একজন। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি, তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
বিশ্ব ক্রিকেটেও সাকিবের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স তাকে আলাদা জায়গা দিয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখা এবং তিন ফরম্যাটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম বড় মুখে পরিণত হন।
বাংলাদেশের হয়ে বহু ম্যাচে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে সাকিবের। বিশ্বকাপসহ বড় আন্তর্জাতিক আসরেও তার পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। ফলে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মাঠের রেকর্ড ও অর্জনকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার দাবি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।
সাকিবের সমর্থকদের বক্তব্য, কোনো খেলোয়াড়ের রাজনৈতিক অবস্থান বা ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। কিন্তু একজন খেলোয়াড় মাঠে যে পারফরম্যান্স করেছেন এবং যে রেকর্ড গড়েছেন, সেগুলো ইতিহাসের অংশ। সেই অর্জন মুছে ফেলা মানে ক্রিকেটের নথিভুক্ত ইতিহাসকেই পরিবর্তন করা।
শফিকুল আলম তার বক্তব্যে সাকিবের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার ব্যারি রিচার্ডস, গ্রায়েম পোলক, পিটার পোলক, মাইক প্রোক্টর ও এডি বার্লোর তুলনা করেছেন। তবে সমর্থকদের প্রশ্ন, কোনো খেলোয়াড়ের রাজনৈতিক বা সামাজিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তার ক্রিকেটীয় পরিসংখ্যান কি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা উচিত নয়?
ক্রিকেট একটি খেলাধুলার ইতিহাস। সেখানে একজন খেলোয়াড়ের অর্জন, রেকর্ড ও পারফরম্যান্স সংরক্ষণ করা হয় তার মাঠের অবদানের ভিত্তিতে। কোনো খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করতে পারে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু সেই কারণে তার আগের প্রতিটি ক্রিকেটীয় অর্জন মুছে ফেলা কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে।

শফিকুল আলমের পোস্ট।ছবিঃ সংগৃহীত
সাকিবের পক্ষের অনেকে মনে করেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করে তুলতে তার অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। দেশের হয়ে তার অসংখ্য ম্যাচ, উইকেট, রান এবং গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্যও একটি বড় অধ্যায়।
ফলে সাকিবের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা থাকলেও তার ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার না করে দুটি বিষয়কে আলাদা করে দেখার পক্ষে মত দিয়েছেন তার সমর্থকেরা। তাদের মতে, রাজনৈতিক বিতর্কের বিচার রাজনৈতিক ও আইনগত প্রক্রিয়ায় হতে পারে, কিন্তু মাঠের রেকর্ড মাঠের ইতিহাসেই থাকা উচিত।
এখন পর্যন্ত সাকিব আল হাসানের ক্রিকেটীয় রেকর্ড ও পরিসংখ্যান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। তাই শফিকুল আলমের বক্তব্যকে আপাতত তার ব্যক্তিগত মতামত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au