বন্যা ত্রাণ দ্রুত পৌঁছাতে প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে আসাম সরকার। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট- ভারতের আসামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণে আগামী ৯ আগস্ট থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডিজিটাল জরিপ শুরু করছে রাজ্য সরকার। ৩০ আগস্ট পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে বিশেষ একটি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যাতে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া যায়।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এ ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চারটি জেলায় এই বিশেষ জরিপ পরিচালিত হবে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের বাড়িতে গিয়ে কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং কোনো প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যেন বাদ না পড়ে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ পরিমাণ ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করবে।
এ লক্ষ্যে ‘র্যাপিড অ্যাসেসমেন্ট সার্ভে অব ফ্লাড ড্যামেজ অ্যান্ড পোস্ট ডিজাস্টার নিডস অ্যাসেসমেন্ট (পিডিএনএ)’ নামে একটি ডিজিটাল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংরক্ষণ করবেন এবং ঘটনাস্থলের ছবি আপলোড করবেন।
সরকারের মতে, প্রচলিত হাতে-কলমে জরিপ পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং সহায়তা বিতরণেও গতি আসবে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নির্ধারিত অ্যাপে ক্ষয়ক্ষতির ছবি ও তথ্য আপলোড করবেন। ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রাথমিক মূল্যায়ন শেষ হবে। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে পুনরায় তথ্য যাচাই করা হবে।”
তিনি জেলা প্রশাসক, সহকারী জেলা প্রশাসক এবং সার্কেল কর্মকর্তাদের সংবেদনশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যেন এই জরিপের বাইরে না থাকে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের মূল নীতি হলো, প্রতিটি প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করা এবং প্রচলিত বিধিমালার আওতায় সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করা।”
এদিকে, আসামে বন্যা পরিস্থিতির এখনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এএসডিএমএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় গোলাঘাট ও উদালগুড়ি জেলায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭ জনে।
বর্তমানে রাজ্যের ১৫টি জেলায় প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার মানুষ এখনো বন্যার প্রভাবের মধ্যে রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা গোলাঘাট, যেখানে প্রায় ৫৪ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত। এরপর রয়েছে শিবসাগর, যেখানে ৪৯ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া জোরহাট জেলায় প্রায় ২৭ হাজার মানুষ এখনো বন্যার কারণে দুর্ভোগে রয়েছে।
রাজ্য সরকার আশা করছে, ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর এই নতুন জরিপ পদ্ধতির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র দ্রুত উঠে আসবে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।