পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট- নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্য। বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কারের দাবিতে হাজারো শিক্ষার্থী রাজ্য বিধানসভা অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সকাল থেকেই ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রেন, বাস ও অন্যান্য যানবাহনে করে শিক্ষার্থীরা রাজধানী রাঁচিতে জড়ো হতে থাকেন। পরে তারা মিছিল নিয়ে রাজ্য বিধানসভার দিকে এগিয়ে যান। আন্দোলনে অনশনরত ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহতোও অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক ও জেলার প্রবেশপথে ব্যারিকেড বসায় প্রশাসন। মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য। রাঁচির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের বেশিরভাগ স্কুলও সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছে।
জলকামান-কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। জলকামানের প্রবল স্রোতের মধ্যেও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে উল্লাস করতে দেখা যায়। ঘটনাটি ভারতের অতীতের নিট পরীক্ষার আন্দোলনের দৃশ্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসও ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বলেছেন, সমস্যা সমাধানে লাঠিচার্জ নয়, আলোচনার পথ বেছে নেওয়া উচিত। তাঁর এমন বক্তব্যের মধ্যেই পুলিশের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে।
সাবেক জেপিএসসি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
আন্দোলনের মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যান এল খিয়াংতেককে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য সিআইডি। গত ২২ জুলাই তিনি চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জেপিএসসি ও ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (জেএসএসসি) বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসসহ নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে।
১৩ পরীক্ষা বাতিলের দাবি
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রায় ১৬ দিন ধরে চলছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকার-নিযুক্ত একটি প্যানেলের একাধিক দফা আলোচনা হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি।
রোববার অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ দফার বৈঠকও ব্যর্থ হয়। শিক্ষার্থীরা নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।আন্দোলনকারীদের দাবি, অনিয়মের কারণে মোট ১৩টি পরীক্ষা বাতিল করতে হবে। তবে রাজ্য সরকার এর মধ্যে মাত্র তিনটি পরীক্ষা বাতিল করতে রাজি হয়েছে।
সরকারের দাবি, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রায় ৯৮ শতাংশই মেনে নেওয়া হয়েছে। আন্দোলন প্রত্যাহারের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে রাজ্য সরকার।তবে আন্দোলনকারীরা সরকারের এই দাবি মানছেন না। তাদের বক্তব্য, মূল দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বর্তমানে ছয়জন বিক্ষোভকারী অনশন কর্মসূচিও পালন করছেন।
রাজধানীতে বাড়ছে উত্তেজনা
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাঁচিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছে প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে বিভিন্ন জেলার সীমান্ত, প্রধান সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, শুধু আশ্বাস নয়, তারা অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা চান।
সূত্র: এনডিটিভি