দিনে কোটি টাকার বেশি আয় হালান্ডের, প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে দামি একাদশ
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্টঃ বিশ্বের অন্যতম ধনী ও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক দেওয়া ফুটবল আসর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। তারকাখচিত এই লিগে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকও চোখ কপালে তোলার মতো। সর্বোচ্চ…
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট- যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে ১৯ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ২০ বছর বয়সী ভারতীয় প্রেমিকের বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর জার্মানি হয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করার সময় ওই তরুণকে জার্মানিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত তরুণীর নাম জুলিসা রুবি সালাজার। তিনি টাকসনের একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পুলিশকে বিষয়টি জানান।
গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ইউক্লিড অ্যাভিনিউ ও এলম স্ট্রিটের কাছে ওই অ্যাপার্টমেন্টে যান। পরে টাকসন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সালাজারকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
পুলিশ জানায়, সালাজারের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা সালাজারের ২০ বছর বয়সী প্রেমিক বরুণ বাচিগারিকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছেন। পুলিশের অভিযোগ, তরুণীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
প্রেমিকার ফোন ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অভিযোগ
পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সালাজারের মৃত্যুর পর তাঁর ফোন ও ক্রেডিট কার্ড বাচিগারির কাছে ছিল। ওই ফোন ব্যবহার করে সালাজারের মাকে একাধিক খুদে বার্তাও পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় তদন্তকারীদের। পরে তারা জানতে পারেন, সালাজারের মৃত্যুর দিনই বাচিগারি টাকসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন।তদন্ত অনুযায়ী, তিনি প্রথমে হিউস্টরগামী একটি ফ্লাইটে ওঠেন। পরে সেখান থেকে জার্মানির বার্লিনের উদ্দেশে রওনা হন। তাঁর চূড়ান্ত গন্তব্য ছিল ভারত বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হত্যা ও অপহরণের অভিযোগে বাচিগারির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে মার্কিন ফেডারেল, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় জার্মানিতে তাঁকে আটক করা হয়।
কয়েক দিন আগে চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন রুমমেটরা
সালাজারের রুমমেটরা জানিয়েছেন, তাঁর মৃত্যুর কয়েক দিন আগে, ৫ আগস্ট রাতে তাঁরা তাঁর শোবার ঘর থেকে জোরে চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন।পরে তাঁরা সালাজারকে খুদে বার্তা পাঠিয়ে জানতে চান তিনি ঠিক আছেন কি না। জবাবে সালাজার জানান, তিনি ভালো আছেন এবং একটি ঝগড়ার কারণেই ওই শব্দ হয়েছিল।
তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, সালাজার তাঁর প্রেমিক বাচিগারির সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করার পরিকল্পনা করছিলেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এর আগে সালাজার বাচিগারির বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছিলেন। তবে ওই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা অভিযোগ করা হয়নি।
আগেও হামলার মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন
বাচিগারির বিরুদ্ধে পিমা কাউন্টিতে আলাদা একটি হামলার মামলাও চলছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, গত মে মাসে ওই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।তিনি আগে অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস অ্যানালিটিকস বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। তবে একটি মারামারির ঘটনায় তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সম্প্রতি চাকরিও হারিয়েছিলেন বাচিগারি। এতে তাঁর বাড়িভাড়া পরিশোধে সমস্যা তৈরি হয়েছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ভিসার বৈধতা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয় বলে জানা গেছে।
অ্যারিজোনায় ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে
বাচিগারি বর্তমানে জার্মানিতে নিরাপত্তা হেফাজতে রয়েছেন। তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে, বিশেষ করে অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত নেওয়া হলে তাঁকে পিমা কাউন্টি অ্যাডাল্ট ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হবে। এরপর সালাজার হত্যার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au