কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১৩২।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্ট: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন ৫৭০ জনেরও বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কলম্বিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যাপিটাল সিটিজ বা অ্যাসোক্যাপিটালেসের প্রকাশিত একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনে প্রাণহানি ও আহতের এই তথ্য জানানো হয়েছে।
কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক পরিষেবা বা এসজিসির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার ১০ আগস্ট সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮২ কিলোমিটার বা ৫০ মাইল গভীরে।
ভূমিকম্পের মূল কেন্দ্রস্থল ছিল কলম্বিয়ার চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার এলাকার কাছাকাছি। তবে ভূমিকম্পের সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটেছে পাশের রিসারালদা বিভাগের রাজধানী পেরেইরায়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শুধু পেরেইরা শহরেই অন্তত ৬০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। শহরটির বিভিন্ন এলাকায় বহু ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, ভবন ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কে ধ্বংসাবশেষ পড়ে যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জরুরি সেবাও সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভূমিকম্প আঘাত হানার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান শুরু করে জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো। পুলিশ, দমকল বাহিনী, উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন। উদ্ধার অভিযান যত এগোচ্ছে, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্রও তত স্পষ্ট হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, এখনও অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন। ফলে উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার আগে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ভূমিকম্পের প্রভাব দেশের যোগাযোগব্যবস্থাতেও পড়েছে। কলম্বিয়ার প্রধান বিমানবন্দরগুলোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থার বেশ কয়েকটি রুটে সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পরীক্ষা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর এসব সেবা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
ভূমিকম্পের পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় পরবর্তী কম্পন বা আফটারশকের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে। জরুরি উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো নিরাপদ কি না, তা পরীক্ষা করে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
দেশটির প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে। হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং উদ্ধারকারী দলগুলোকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে।
কলম্বিয়ার ইতিহাসে বড় ভূমিকম্পের ঘটনা নতুন নয়। তবে এবারের ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের গভীরতা তুলনামূলক বেশি হলেও এর শক্তিশালী কম্পন বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে পেরেইরা ও আশপাশের এলাকায় এর প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত উদ্ধার করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়ার পর ভূমিকম্পে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও পরিষ্কার হবে।