কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১২ আগষ্ট- কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ভূমিকম্পে কালি শহরে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে। সেখানে অন্তত ৯৫ জন মারা গেছেন। পেরেইরায় ৭২ জন, ভায়া দেল কাওকা অঞ্চলে ৩৮ জন এবং ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি চোকো অঞ্চলে ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়ায় উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।
সোমবার স্থানীয় সময় সকালে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমারের কাছে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০৭ কিলোমিটার। রাজধানী বোগোতাসহ দেশের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পে পশ্চিম কলম্বিয়ার কালি, পেরেইরা, মানিজালেস ও কুইবদোসহ বেশ কয়েকটি শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোথাও ভবন ধসে পড়েছে, কোথাও হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেরেইরা ও কালি শহরে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর অন্তত ২ হাজার ৭০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাদের অনেকেই ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, দমকলকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। কলম্বিয়ান রেডক্রস জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের উদ্ধারের জন্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ সময় রয়েছে।
ভূমিকম্পের পর আরও কম্পন অনুভূত হওয়ায় উদ্ধারকাজে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। নতুন করে ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামাতেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কলম্বিয়া সরকার ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলারদো দে লা এসপ্রিয়েলা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই দেশটিতে এই ভয়াবহ দুর্যোগ আঘাত হানল। নিরাপত্তা ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
শক্তিশালী এই ভূমিকম্পকে সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ১৯৯৯ সালে দেশটির কুইন্দিও অঞ্চলে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের জীবিত উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা।
সূত্রঃ সিএনএন