ডোনাল্ড ট্রাম্প।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১২ আগষ্ট: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়ানোর চেয়ে তিনি দেশটির সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে বেশি আগ্রহী। একই সঙ্গে ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কঠোর থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাসে এক বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানই তিনি বেশি পছন্দ করেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের কর্মকর্তারা আলোচনার জন্য যোগাযোগ করার আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের হামলা চালানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে হামলা না চালানোর অনুরোধ জানান এবং আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য, “আমি বরং ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চাই, কারণ আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।”
তবে যুদ্ধ এড়াতে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।
ট্রাম্পের বক্তব্যে একদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর আগ্রহ এবং অন্যদিকে তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান, দুটো বিষয়ই স্পষ্ট হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিরাপত্তা এবং সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো গেলে সামরিক সংঘাত এড়ানো সম্ভব হবে এবং প্রাণহানিও ঠেকানো যাবে।
তবে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত কী হতে পারে বা আলোচনায় এখন পর্যন্ত কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে, সে বিষয়ে লাস ভেগাসের বক্তব্যে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প।
তার বক্তব্য থেকে অবশ্য এটুকু স্পষ্ট যে, সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রস্তুতি থাকার কথা জানালেও আপাতত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা রাখতে চান তিনি। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানোকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সূত্র: আল জাজিরা