বৃষ্টিভেজা আবহাওয়াও থামাতে পারেনি জেএইচএএসি কানাডার বার্ষিক গ্রীষ্মকালীন পিকনিকের আনন্দ ও উৎসবের আমেজ।ছবিঃ ওটিএন বাংলা
মেলবোর্ন, ১৩ আগষ্ট: বৃষ্টিভেজা আবহাওয়াও থামাতে পারেনি জেএইচএএসি কানাডার বার্ষিক গ্রীষ্মকালীন পিকনিকের আনন্দ ও উৎসবের আমেজ। গত ১৮ জুলাই কানাডার স্কারবরোর মর্নিংসাইড পার্কে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে জেএইচএএসি কানাডার প্রায় ৬০ জন সাবেক শিক্ষার্থীসহ তাদের পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও নতুন প্রজন্মের সদস্য মিলিয়ে প্রায় ২৫০ জন অংশ নেন।
দিনের শুরুতে আকাশ ছিল মেঘলা। সঙ্গে ছিল বৃষ্টিও। তবে বৈরী আবহাওয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহে কোনো ভাটা ফেলতে পারেনি। বরং সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মর্নিংসাইড পার্ক পরিণত হয় সাবেক শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রাণবন্ত মিলনস্থলে। পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, নতুন সম্পর্ক তৈরি করা এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে অংশগ্রহণকারীরা দিনটিকে স্মরণীয় করে তোলেন।
আয়োজনে ছিল বারবিকিউ, বিভিন্ন ধরনের নাশতা, দুপুরের খাবার, তাজা ফল, আইসক্রিম ও নানা ধরনের পানীয়। পাশাপাশি গান, বিনোদন এবং শিশু ও তরুণদের জন্য বিশেষ বিভিন্ন কার্যক্রমেরও আয়োজন করা হয়। বৃষ্টির কারণে দিনের শুরুতে কিছুটা প্রতিকূলতা তৈরি হলেও আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় নির্ধারিত কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে যায়।
এবারের

আয়োজন সফল করতে জেএইচএএসি কানাডার নির্বাহী কমিটির সদস্যরা সম্মিলিতভাবে কাজ করেন।ছবিঃ ওটিএন বাংলা
অংশগ্রহণকারীদের বয়স ও প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় রেখে পুরো আয়োজনকে সবার জন্য আনন্দদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে তারা আগে থেকেই বিভিন্ন প্রস্তুতি নেন।
অনুষ্ঠান আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের সহযোগিতার পাশাপাশি গৌতম পাল, শ্যামল দেবনাথ, তপস কেয়াল, হরি গোবিন্দ রায়, নিলয় সাহাসহ আরও অনেকে আর্থিক ও অন্যান্য সহযোগিতা করেন। আয়োজকরা তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের সহযোগিতার কারণেই আয়োজনটি আরও সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানের পেছনে স্বেচ্ছাসেবকরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। খাবার প্রস্তুত ও বিতরণ, বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা এবং অতিথিদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতাসহ নানা দায়িত্বে নিরলসভাবে কাজ করেন নিরঞ্জন সরকার বাচ্চু, অমিত সরকার, প্রিয়তোষ ভৌমিক, শৈবাল চৌধুরী, বিশ্বজিৎ মিত্র, মৃদুল দে ও দীপঙ্কর দাস গুপ্তসহ আরও অনেকে।
বিশেষ করে বৃষ্টির কারণে আয়োজন পরিচালনায় বাড়তি কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তা সামাল দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে পুরো দিন উপভোগ করতে পারেন, সেদিকে বিশেষ নজর রাখেন আয়োজকরা।
ম্যান্টু দার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা
আনন্দ-উৎসবের মধ্যেও অনুষ্ঠানে নেমে আসে আবেগঘন পরিবেশ। জেএইচএএসি-এর প্রিয় জ্যেষ্ঠ সদস্য ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ম্যান্টু দার মৃত্যুর খবর জানানো হলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় তার আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তার জন্য প্রার্থনা করা হয়। জেএইচএএসি-এর শুরুর সময় থেকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা ম্যান্টু দার অবদান ও স্মৃতির কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন উপস্থিত সাবেক শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
আয়োজকরা ম্যান্টু দার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং একই সঙ্গে জেএইচএএসি পরিবারের সব সদস্য, তাদের পরিবার ও বন্ধুদের সুস্বাস্থ্য, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ
এবারের পিকনিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ইয়ুথ এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম। সংগঠনের নতুন প্রজন্মকে আরও সক্রিয়ভাবে কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। তরুণ অংশগ্রহণকারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে কর্মসূচিটি ব্যাপক সাড়া পায়।

ছবিঃ ওটিএন বাংলা
এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সদস্যরা তাদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি সংগঠনের অন্যান্য প্রজন্মের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির সুযোগ পান।
আয়োজকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে তরুণদের জন্য আরও বিস্তৃত ও অর্থবহ কর্মসূচি নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটির সদস্যদের মতামত, অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন প্রজন্মকে সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি জেএইচএএসি-এর বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও সামাজিক সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও ধরে রাখার লক্ষ্য রয়েছে।
দিনের শেষভাগে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল আনন্দ ও সন্তুষ্টির আবহ। বৃষ্টিভেজা সকাল থেকে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত পুরো আয়োজন পরিণত হয় বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও মিলনমেলার এক আনন্দঘন দিনে।
জেএইচএসি কানাডার এই বার্ষিক গ্রীষ্মকালীন পিকনিক আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, একটি অ্যালামনাই সংগঠনের শক্তি শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার সম্পর্কই একটি কমিউনিটিকে শক্তিশালী করে। অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, স্বেচ্ছাসেবকদের পরিশ্রম এবং সহযোগীদের সহায়তায় এবারের আয়োজনও হয়ে উঠেছে জেএইচএসি কানাডার জন্য একটি স্মরণীয় ও অর্থবহ মিলনমেলা।