বাংলাদেশ

দ্য প্রিন্ট এর বিশ্লেষণ

ভারত কি শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে?

  • 3:07 pm - August 13, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৩৭ বার
শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৩ আগষ্ট- শেখ হাসিনার নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা, ভারতের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা এবং বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠা, এই তিনটি বিষয়কে ভারত সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে

ঢাকা যদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে চায়, ভারত সেই প্রত্যর্পণ নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত হতে পারে। তবে তাঁর নিরাপত্তা, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা কিংবা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের প্রশ্নে কোনো ছাড় দিতে নয়। লন্ডনকে কেন্দ্র করে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে তীব্র আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। প্রায় দুই বছর পর তাঁর প্রত্যর্পণের প্রশ্নটি এখন আর শুধু ঢাকা তাঁকে ফেরত চায় কি না, সেই পর্যায়ে নেই। বরং মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর আগে ভারত কী ধরনের নিশ্চয়তা চাইবে এবং বিনিময়ে বাংলাদেশ কী দিতে প্রস্তুত।

এই প্রেক্ষাপটে সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকে ভারতের উপহাইকমিশনার পবন কুমার তুলশিদাস বাদেও উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা। ছবিঃ সংগৃহীত

বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের বরাত দিয়ে প্রথম আলো জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ আশা করে ভারত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে।’

বৈঠকের সময়টিও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। এর এক দিন আগে ভারতের গবেষণা ও বিশ্লেষণ শাখার সচিব পরাগ জৈন তিন কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় আসেন। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে তিনি রোববার বিকেলে ঢাকায় পৌঁছান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পরপর এসব ঘটনা থেকে ইঙ্গিত মিলছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ ও গভীর আলোচনার পর্যায়ে প্রবেশ করছে। ভারত শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে আশ্রয় দিয়ে তাঁকে রক্ষা করছে, এমন ধারণা তৈরি করতে চায় না। তবে একই সঙ্গে নয়াদিল্লি ঢাকার দাবির কাছে নিঃশর্তভাবে নতি স্বীকার করতেও প্রস্তুত নয়।

ভারতের অবস্থান মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথমত, শেখ হাসিনার নিরাপত্তা এবং তাঁর ন্যায়সংগত বিচারের নিশ্চয়তা। দ্বিতীয়ত, ভারতের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা। তৃতীয়ত, বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

শেখ হাসিনার নিরাপত্তাই প্রথম শর্ত

শেখ হাসিনার নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎক্ষণিক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভারতের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত। ফলে শুধু ঢাকার দাবির ভিত্তিতে তাঁকে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা কম।

ভারত যদি তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়, তাহলে তাঁর শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার না হওয়া এবং পূর্বনির্ধারিত ফলাফল নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া পরিচালিত না হওয়ার বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর নিশ্চয়তা চাইতে পারে নয়াদিল্লি।

অর্থাৎ, শেখ হাসিনার বিচার হলে সেটি ন্যায়সংগত ও নিরপেক্ষ হতে হবে। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সরকারের ওপরই থাকবে।

প্রতিবেদনটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভারত শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনে সহযোগিতা করতে পারে, কিন্তু তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতির অংশ হতে চাইবে না।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে পাকিস্তানের প্রভাব নিয়ে ভারতের উদ্বেগ

ভারতের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ কৌশলগত। বিশেষ করে বাংলাদেশে পাকিস্তানের প্রভাব আবার বাড়তে থাকা এবং ভারতের নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি হওয়া নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এবং ২০২৪ সালের আগস্টে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন লক্ষ্য করছে ভারত।

এর মধ্যে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন হলো ঢাকা ও ইসলামাবাদের সম্পর্কের উষ্ণতা বৃদ্ধি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘পিএনএস সাইফ’ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ে। ১৯৭১ সালের পর এটিই ছিল পাকিস্তানের কোনো যুদ্ধজাহাজের প্রথম এমন সফর। একই সময়ে পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফও বাংলাদেশ সফর করেন।

পাকিস্তানের জন্য এই সফর ছিল ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে কৌশলগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। অন্যদিকে ভারতের দৃষ্টিতে বিষয়টি ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক সতর্কবার্তা।

বাংলাদেশ ভারতের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এবং দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কাছাকাছি। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগর ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগপথের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান রয়েছে। ফলে বাংলাদেশে পাকিস্তানের সামরিক বা গোয়েন্দা তৎপরতা দীর্ঘমেয়াদে বাড়লে তা ভারতের নজর এড়াবে না।

২০২৫ সালের অক্টোবরেও বাংলাদেশে লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তৎপরতা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাঈদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং পাকিস্তানের মার্কাজি জামিয়াত আহলে হাদিসের নেতা হিসেবে পরিচিত ইবতিসাম এলাহি জহির ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর ঢাকায় এসে সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলা সফর করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এর আগের দিন, ২৪ অক্টোবর পাকিস্তানের তৎকালীন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জাও চার কর্মকর্তাকে নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ঘটনাগুলোকে ভারত নিছক কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে দেখবে না বলেই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। নয়াদিল্লির বড় উদ্বেগ হলো, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে ইসলামপন্থী উগ্রবাদ বা ভারতবিরোধী নেটওয়ার্কের জন্য তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত পরিবেশে পরিণত হবে কি না।

ভারতের সম্ভাব্য বার্তা তাই স্পষ্ট: বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে নিজের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করতে পারে, কিন্তু তার ভূখণ্ড যেন ভারতের বিরুদ্ধে পরিচালিত কোনো কর্মকাণ্ডের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।

আওয়ামী লীগকে নিয়ে ভারতের প্রশ্ন

ভারতের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ঘিরে। নয়াদিল্লি বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক কাঠামো ফিরে আসতে দেখতে চায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখানেই আওয়ামী লীগের বিষয়টি সামনে আসে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন।

ভারতের দৃষ্টিতে এটি একটি রাজনৈতিক বৈপরীত্য তৈরি করেছে। একটি দেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলে সেই দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল কীভাবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে থাকবে, সেই প্রশ্নই সামনে আসছে।

ভারতীয় রাজনীতির উদাহরণ দিয়ে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার কংগ্রেসের তীব্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হলেও কংগ্রেসকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করেনি।

এই তুলনা রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত হলেও এর মধ্য দিয়ে একটি বিষয় সামনে আনা হয়েছে। গণতন্ত্র শুধু নির্বাচন আয়োজনের নাম নয়। এর সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, বহুত্ববাদ এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির জন্য রাজনৈতিক পরিসর নিশ্চিত করাও জড়িত।

কেন এখন ফিরতে চাইছেন শেখ হাসিনা?

শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ প্রত্যাবর্তন নিয়ে ভারতের স্বার্থ শুধু তাঁকে বাংলাদেশে ফেরানো বা ক্ষমতায় ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং বাংলাদেশ রাজনৈতিকভাবে কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কৌশলগতভাবে কতটা স্থিতিশীল ও পূর্বানুমেয় থাকবে, সেটিও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে প্রশ্ন উঠছে, শেখ হাসিনা এখন কেন দেশে ফিরতে চাইছেন?

এর উত্তর কূটনীতির পাশাপাশি রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের মধ্যেও রয়েছে বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

পর্দার আড়ালের আলোচনা সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে চলে। প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনি নিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সমঝোতা প্রয়োজন। ঢাকাকে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করতে হবে, অন্যদিকে নয়াদিল্লিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হবে।

শেখ হাসিনাকেও হিসাব করতে হচ্ছে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর হাতে এখন কতটা রাজনৈতিক শক্তি অবশিষ্ট রয়েছে।

এ কারণেই গত ৫ আগস্ট তাঁর অনলাইন ভাষণটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বাংলাদেশ ছাড়ার দুই বছর পূর্তির দিনে দেওয়া ওই ভাষণটি কেবল স্মরণমূলক বক্তব্য ছিল না। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সঙ্গে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সংঘর্ষের খবরও সামনে আসে।

ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর ভাগ্যে যা-ই ঘটুক, তিনি তাঁর জনগণের কাছে ফিরে আসবেন।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি শুধু বাংলাদেশের জনগণকে নয়, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরও একটি রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তিনি এখনও দলের নেতা, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখনও প্রাসঙ্গিক এবং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর দাবি শেষ হয়ে যায়নি।

এমনকি দেশে ফিরলে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে, সেই আশঙ্কার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, জনগণের কাছে ফিরে যাওয়া তাঁর দায়িত্ব।

৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা সম্ভবত বুঝতে পারছেন, রাজনৈতিকভাবে সময় তাঁর জন্য সীমিত হয়ে আসছে। যত বেশি সময় তিনি দেশের বাইরে থাকবেন, ততই চাপের মুখে থাকা আওয়ামী লীগের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।

রাজনৈতিক দল কখনো দীর্ঘদিন স্থির অবস্থায় থাকে না। নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয়, রাজনৈতিক জোট বদলে যায় এবং নেতা-কর্মীদের আনুগত্যেও পরিবর্তন আসে। ফলে দেশের বাইরে থাকা শেখ হাসিনার জন্য নিরাপদ হলেও রাজনৈতিকভাবে তা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তিনি ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনৈতিক নেতা থেকে কেবল ইতিহাসের একটি চরিত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের উপস্থিতিও তাৎপর্যপূর্ণ

গত ৫ আগস্টের অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের অংশগ্রহণও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

​সজীব ওয়াজেদ জয়। ছবিঃ সংগৃহীত

তাঁর উপস্থিতির মধ্য দিয়ে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে যে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পরিবার এখনও সক্রিয় এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্নও শেষ হয়ে যায়নি।

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে কোনো পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে ঘিরে দলটির একটি অংশ সংগঠিত হতে পারে। এটিকে আনুষ্ঠানিক উত্তরাধিকার পরিকল্পনা বলা না গেলেও রাজনৈতিক দিক থেকে তাঁর উপস্থিতির তাৎপর্য উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

বড় সমঝোতার একটি অংশ প্রত্যর্পণ

সব মিলিয়ে আগামী কয়েক মাসে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ। তবে বিষয়টি কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাবর্তনের প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিরাপত্তা, বিচার, দুই দেশের কৌশলগত স্বার্থ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতি।

পর্দার আড়ালে আলোচনা, প্রকাশ্যে সতর্ক ও পরিমিত বক্তব্য এবং নিজেদের পূর্ণ অবস্থান প্রকাশ না করার কৌশলই আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্কের বৈশিষ্ট্য হতে পারে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রশ্নটি তাই সম্ভবত একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমঝোতার মাত্র একটি অংশ। এখন মূল প্রশ্ন হলো, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ভারতের উদ্বেগগুলো কতটা সমাধান করতে পারবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট না করে কতটা ছাড় দিতে পারবে।

সূত্রঃ দ্য প্রিন্ট

এই শাখার আরও খবর

তারেক মাসুদ-মিশুক মুনীরের মৃত্যুবার্ষিকীতে ব্লাস্টের ৩ দাবি, মোমবাতি প্রজ্বালন

মেলবোর্ন, ১৪ আগস্ট: প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও চিত্রগ্রাহক মিশুক মুনীরের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন করেছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট…

স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং অবকাঠামো বসাতে চীনা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ ঠেকিয়েছে নিউজিল্যান্ড

মেলবোর্ন, ১৪ আগস্ট- চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট একটি পর্যবেক্ষণ সংস্থা নিউজিল্যান্ডে স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং অবকাঠামো স্থাপনের চেষ্টা করেছিল। তবে সেই উদ্যোগ ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউজিল্যান্ডের…

খুলনায় মিষ্টির প্যাকেটে ফেনসিডিল, দুই কারবারির যাবজ্জীবন

মেলবোর্ন, ১৪ আগস্ট- খুলনায় মাদক মামলায় সিরাজ খাঁ ও হারুন অর রশিদ নামে দুই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা…

জাপানি তরমুজ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক বিতর্ক

মেলবোর্ন, ১৪ আগস্ট- জাপানের প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেওয়া বিশেষ জাতের তরমুজ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের একটি কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য ঘিরে দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।…

কাজে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি, মেশিনের ভেতর মিলল যুবকের মরদেহ

মেলবোর্ন, ১৪ আগস্ট- সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড হিলসে কর্মস্থল থেকে বাড়ি না ফেরায় ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে মর্মান্তিক দৃশ্যের মুখোমুখি হয়েছেন এক বাবা। ২৬ বছর বয়সী কর্মী জশ…

বিল গেটসের মেয়ের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘কুকি স্টাফিং’ অভিযোগ

মেলবোর্ন, ১৪ আগস্ট: মাইক্রোসফটের সহ প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের মেয়ে ফিবি গেটসের সহপ্রতিষ্ঠান ফিয়ার বিরুদ্ধে অনলাইনে পণ্য বিক্রির কমিশন কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর জন্য ‘কুকি স্টাফিং’ পদ্ধতি ব্যবহারের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au