মেলবোর্নে স্টেট লাইব্রেরি অব ভিক্টোরিয়ার বাইরে বিক্ষোভ চলাকালে জড়ো হন শিক্ষার্থী বিক্ষোভকারীরা। — গেটি ইমেজেস
মেলবোর্ন, ১৩ আগষ্ট- অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ওয়ান নেশন ও দলটির নেতা পলিন হ্যানসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নেমেছেন হাজারো বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার ক্লাস বর্জন করে দেশটির বিভিন্ন শহরে তারা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
‘স্টুডেন্টস সে নো টু হ্যানসন’ নামে আয়োজিত এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেয় ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টস (NUS)। সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, ক্যানবেরা, অ্যাডিলেড, পার্থ, উলংগং ও নিউক্যাসলসহ বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা মিছিল ও সমাবেশ করেন।
মূলত অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে ওয়ান নেশনের জনপ্রিয়তা বাড়ার বিরোধিতা এবং দলটির বিভিন্ন নীতির প্রতিবাদেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মেলবোর্নের কেন্দ্রীয় এলাকায় হাজারো তরুণ-তরুণী বিক্ষোভে অংশ নেন। তাদের হাতে ছিল ‘হ্যানসনকে না’, ‘আমাদের বৈচিত্র্য প্রয়োজন’ এবং ‘আমরা তোমাকে শিক্ষা দিতে ক্লাস বাদ দিয়েছি’ লেখা প্ল্যাকার্ড। শিক্ষার্থীদের মিছিল সোয়ানস্টন স্ট্রিট হয়ে ভিক্টোরিয়ার স্টেট লাইব্রেরির সামনে গিয়ে সমবেত হয়।

মেলবোর্নে পলিন হ্যানসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে প্ল্যাকার্ড হাতে শিক্ষার্থীরা। — গেটি
সিডনিতেও সিটি সেন্টারের টাউন হলে শত শত শিক্ষার্থী জড়ো হন। বিক্ষোভের সময় কয়েকজন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ‘শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ, তারা কখনো পরাজিত হবে না’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।
মেলবোর্নের এক বিক্ষোভকারী স্থানীয় রেডিও স্টেশন 3AW-কে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণই বেশি ছিল। তার ভাষ্য, তরুণদের স্বার্থের পক্ষে নন বলেই হ্যানসনের বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ করছেন।
ক্লাস চলাকালীন বিক্ষোভ নিয়ে বিতর্ক
শিক্ষার্থীরা দেশজুড়ে ক্লাস চলাকালীন কর্মসূচিতে অংশ নিলেও অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী জেসন ক্লেয়ার এর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার শিক্ষার্থীদের রয়েছে। তবে ক্লাস চলার সময় এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা উচিত নয়।
বুধবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সপ্তাহান্তে কেউ প্রতিবাদ করতে চাইলে তা করতে পারে, কিন্তু স্কুল চলাকালে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে থেকে পড়াশোনা করা উচিত।

সিডনির টাউন হলের বাইরে বিক্ষোভকারীদের জড়ো হতে দেখা যায়। — অস্কার কোলম্যান
ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টসের প্রতিনিধি ফেলিক্স হিউজ অবশ্য দাবি করেন, ওয়ান নেশন ও পলিন হ্যানসনের নীতিগুলো শিক্ষার্থী ও তরুণদের স্বার্থের পরিপন্থী।

ভিক্টোরিয়ার শিক্ষার্থীদের সোয়ানস্টন স্ট্রিট ধরে এবং স্টেট লাইব্রেরি অব ভিক্টোরিয়ার সিঁড়িতে মিছিল করতে দেখা যায়। — গেটি
তার অভিযোগ, হ্যানসন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য সরকারি অর্থায়নের বিরোধিতা করেছেন, শিক্ষার্থীদের ঋণের বোঝা বাড়ানোর পক্ষে ভোট দিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসনকে আরও ব্যয়বহুল করে তোলার মতো নীতির সমর্থন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি শ্রমিকদের অধিকার নিয়েও হ্যানসনের অবস্থানের সমালোচনা করেন।
হিউজ বলেন, “আমরা ক্লাস ছেড়ে আসতে চাই না। এই মুহূর্তে ক্লাসে থাকতেই আমরা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতাম। কিন্তু পলিন হ্যানসনের উত্থান শিক্ষার্থীদের জন্য এত বড় হুমকি তৈরি করেছে যে এর প্রতিবাদ করা আমাদের কাছে জরুরি হয়ে পড়েছে।”

বিক্ষোভকারীদের দাবি, পলিন হ্যানসন ও ওয়ান নেশন ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী অবস্থান নিয়ে ভোট দিয়েছে। — হিলারি ওয়ার্ডহফ
শিক্ষার্থীদের ‘প্রভাবিত’ করার অভিযোগ
অন্যদিকে পলিন হ্যানসন ও ওয়ান নেশনের এমপি বার্নাবি জয়েসের অভিযোগ, কিছু শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করছে এবং তাদের কী ভাবতে হবে তা শেখাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যানসন বলেন, স্কুলের কাজ হওয়া উচিত তরুণদের কীভাবে চিন্তা করতে হয় তা শেখানো, কী চিন্তা করতে হবে তা নির্ধারণ করে দেওয়া নয়।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিবাদ করতে চাইলে বাবা-মায়ের আয় কমে যাওয়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার মতো বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করা উচিত। তার দাবি, ওয়ান নেশন ও তিনি তরুণদের স্বার্থেই কাজ করছেন।

ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টসের প্রতিনিধি ফেলিক্স হিউজ। ‘টুডে’ অনুষ্ঠান.
বার্নাবি জয়েসও দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা ‘সমাজতান্ত্রিক মানসিকতার শিক্ষক’দের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। তার প্রশ্ন, কয়েক সপ্তাহ আগেও যেসব শিক্ষার্থী নিজেরা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করার কথা ভাবেনি, তারা হঠাৎ করে কেন এমন কর্মসূচিতে নামল?
তবে এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন ফেলিক্স হিউজ। তার ভাষায়, শিক্ষার্থীরা নিজেরাই ওয়ান নেশনের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং তাদের প্রতিবাদকে শিক্ষকদের প্রভাবের ফল হিসেবে দেখানো “ভুল”।
হিউজ বলেন, ক্লাসে থাকাই ভালো হতো। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিতে ওয়ান নেশনের উত্থান ও শিক্ষা খাতে সম্ভাব্য কাটছাঁটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে তার জন্য ক্লাস বর্জন করতেও তারা প্রস্তুত।
সূত্র-নাইন কম এইউ