অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করে ফেরার পথে নেতৃত্ব দিলেন হাসান মাহমুদ। স্মারক হিসেবে বলটি তাঁর হাতে।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ আগষ্ট- অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে এক ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে এক ইনিংসে অন্তত ৫ উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলার হয়েছেন হাসান।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এক ইনিংসে বাংলাদেশের কোনো বোলারের সর্বোচ্চ শিকার ছিল ৪ উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে তাসকিন আহমেদ, ওয়ানডেতে রুবেল হোসেন এবং টেস্টে মাশরাফি বিন মুর্তজা ৪ বা তার কম উইকেট নিয়েছিলেন। এবার সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন হাসান।
ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৬ উইকেট
অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে হাসান জানিয়েছিলেন, সেখানে অন্তত দুবার ইনিংসে ৫ উইকেট নিতে চান। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য নিজে নিজেই কল্পনা করতেন তিনি।
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসেই সেই কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন হাসান। ৫৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ৬ উইকেট, যা তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং।

লাইন–লেংথ বজায় রেখে দুর্দান্ত বোলিং করেন হাসান।ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের বোলারদের দাপটে টেস্টের প্রথম দিনেই ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। শুরুতে প্রথম ঘণ্টায় কোনো উইকেট না এলেও পরে হাসানের নেতৃত্বে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ।
শুরুটা ওয়েদারাল্ডকে দিয়ে
হাসান তাঁর প্রথম স্পেলে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ডকে অফ স্টাম্পের বাইরের বলে বারবার পরীক্ষা করেন। কয়েকবার প্রলুব্ধ হলেও উইকেট পাননি। শেষ পর্যন্ত হাসানের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন ওয়েদারাল্ড।
এরপর অতিরিক্ত বাউন্স ও মুভমেন্টে বিপাকে পড়ে ট্রাভিস হেড বল নিজের স্টাম্পে টেনে আনেন। প্রথম স্পেলেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন হাসান।
মাঝের সময়ে তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন চাপ ধরে রাখেন এবং উইকেটও তুলে নেন। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর আবার বোলিংয়ে ফিরে আসেন হাসান।
ফিরেই ফেরান প্যাট কামিন্সকে। তাঁর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন কামিন্স। পরের ওভারে একইভাবে মিচেল স্টার্ককে আউট করে চতুর্থ উইকেট তুলে নেন তিনি।
স্মিথকে ফিরিয়ে ৫ উইকেট পূরণ
চা-বিরতির পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত শুরু থেকেই হাসানকে আক্রমণে রাখেন। অপেক্ষা করতে হয়নি বেশি সময়।
হাসানের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটসম্যান স্টিভ স্মিথ। এর মধ্য দিয়ে ইনিংসে ৫ উইকেট পূরণ করেন হাসান।
পরে অস্ট্রেলিয়ার শেষ ব্যাটসম্যান নাথান লায়নকেও ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। ফলে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন এই ডানহাতি পেসার।
দেশের বাইরে টেস্টে তৃতীয়বার ৫ উইকেট

গিলক্রিস্টের সঙ্গে কথা বলা শেষে হাত মেলান হাসান।ছবি: সংগৃহীত
টেস্ট ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত তিনবার এক ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন হাসান মাহমুদ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিনবারই এই কীর্তি এসেছে প্রতিপক্ষের মাঠে।
২০২৪ সালে চেন্নাইয়ে ভারতের বিপক্ষে এবং একই বছর রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেটেও এক ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে দেশের বাইরে টেস্টে তিনবার ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও এখন হাসানের দখলে।
‘প্রক্রিয়াটা মেনে চলার চেষ্টা করেছি’
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই কীর্তি হাসানের জন্য বিশেষ কিছু। তবে সাফল্যের কৃতিত্ব শুধু নিজের বোলিংকে দিতে চান না তিনি। সতীর্থদের ধারাবাহিক চাপও এই সাফল্যের অন্যতম কারণ বলে মনে করেন হাসান।
ইনিংস বিরতিতে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক কিংবদন্তি ও ধারাভাষ্যকার অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে হাসান বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় খেলার জন্য তিনি অনেকদিন ধরেই অপেক্ষা করছিলেন। বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে খেলতে পেরে তিনি উচ্ছ্বসিত ছিলেন।
হাসানের ভাষায়, তিনি মূলত নিজের লাইন ও লেংথ ঠিক রেখে বোলিং করার পাশাপাশি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং অধিনায়কের নির্দেশনা মেনে চলার চেষ্টা করেছেন।
আর সেই পরিকল্পনাই তাঁকে এনে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে অনন্য এক বোলিং কীর্তি।