নির্বাচিত খবর

ডেঙ্গুর থাবায় বিপর্যস্ত দেশ, এখন কী করবে সরকার?

  • 12:20 am - October 07, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৭২ বার
ডেঙ্গু নিধনে ছেটানো হচ্ছে মশক নিধনের ওষুধ। ছবি : সংগৃহীত

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। একদিনে সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর)। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৯৬ জন। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯০ হাজার ৩৫৬ জন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার হাসপাতালের শয্যা বাড়ানোসহ নানা উদ্যোগ নিলেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায়। এ সংখ্যা ৪৮০ জন।

তাছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৯৪, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫২, খুলনা বিভাগে ৩০২, বরিশালে ২০৪ এবং রাজশাহী বিভাগে ১৯৯ জন ভর্তি হয়েছেন। অর্থাৎ ঢাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও ডেঙ্গু দ্রুত ছড়াচ্ছে।

 

গত বছরের চেয়ে মৃত্যু বেশি

চলতি বছরের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বছর পুরো ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে ৪১৩ জন মারা গিয়েছিলেন। তবে চলতি বছরের একই সময়ের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা ইতোমধ্যে ৫৯ জন বেশি বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সেপ্টেম্বরেই মারা গেছেন ১৪৮ জন, যা এ বছরের সর্বোচ্চ মাসিক মৃত্যু।

 

পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম

রোগীর চাপ বাড়ায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে ঢাকার হাসপাতালগুলোকে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট থেকে কিছু রোগী অন্যত্র সরিয়ে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যা খালি করার কথা ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে সেখানে একটি ফিল্ড হাসপাতাল চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

 

মশা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে 

ডেঙ্গুর মূল বাহক এডিস মশা। বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি, নির্মাণাধীন ভবন, খোলা ড্রেন ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা আবর্জনা এ মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ফগিং করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নিয়মিত উৎস ধ্বংস ও স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি জরুরি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করে হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। তবে প্রশ্ন হলো, এসব পদক্ষেপ কতটা দ্রুত মাঠপর্যায়ে কার্যকর হচ্ছে।

কারণ হাসপাতালে রোগী আসার পর চিকিৎসা দেওয়া জরুরি হলেও ডেঙ্গু ঠেকাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করতে হবে রোগী হওয়ার আগেই। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত অভিযান ছাড়া পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন।

 

কী কৌশলে হাটছে সরকার

সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে ভাবছে। ডেঙ্গুর টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালুর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে এটি তাৎক্ষণিক সমাধান নয়। টিকা নিয়ে গবেষণা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। ফলে এখনকার সংকট মোকাবিলায় মশা নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত শনাক্তকরণ, পর্যাপ্ত চিকিৎসা এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরই জোর দিতে হবে।

গত কয়েক মাসের পরিসংখ্যানও পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করছে। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু ছিল পাঁচজন। জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান।

এরপর সেপ্টেম্বরে এক লাফে মৃত্যু দাঁড়ায় ১৪৮ জনে। অর্থাৎ বর্ষা ও বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়েছে। অক্টোবরেও সেই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের অভিমত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু এখন শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের সমস্যা নয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশন, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ডেঙ্গু মোকাবিলায় পুরো সরকার ও পুরো সমাজকে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সংস্থার কাজের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে কোনো একক উদ্যোগেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।

 

শেষ কথা

এখন পর্যন্ত চলতি বছর ৯০ হাজার ৩৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৪ হাজার ২৯৯ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৫ হাজার ৭৭৬ জন। এত বিপুল রোগীর চাপ স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ফলে শুধু মৃত্যুর সংখ্যা কমানো নয়, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনাও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই শাখার আরও খবর

বাংলাদেশে যাওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ায় মিলছে ডেঙ্গুর টিকা

মশাবাহিত প্রাণঘাতী রোগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য হয়েছে ‘কিউডেঙ্গা’ টিকা। বিশেষ করে বিদেশভ্রমণকারীদের মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়তে থাকায় দেশটির স্বাস্থ্য…

উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করে নোবেল পেলেন হালজেন

জ্যোতির্বিজ্ঞানে নতুন এক ধারার ভিত্তি তৈরির স্বীকৃতি হিসেবে পদার্থবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া মার্কিন বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন। দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার…

রংপুরের চার খুন: অমীমাংসিত প্রশ্ন

একটি তালাবদ্ধ বাড়ি। কয়েক দিন ধরে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ নেই। এক পর্যায়ে আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। পুলিশ এসে তালা ভাঙার পর…

পূর্ণ নিরাপত্তায় শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ‘রোডম্যাপ চূড়ান্ত’

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পূর্ণ নিরাপত্তায় দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের ‘প্রভাবশালী মহলের’ মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর…

নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রির নির্দেশ উপদেষ্টা জাহেদের, শুনছে না বিক্রেতারা

নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নজরদারি বাড়ানো এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ…

দেশজুড়ে বেড়েছে ধর্ষণ-নির্যাতন, ২০ মাসে ৬৪৩ শিশুর মৃত্যু

শিশুর ভবিষ্যৎ সুরক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে শিশু অধিকার দিবস। অথচ দেশে শিশুদের ওপর ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au