ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ, ভারতে ধ্রুব রাঠির ভিডিও ব্লক। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ আগষ্ট: হিন্দু দেবদেবী ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইউটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠির একটি ভিডিও ভারতে ব্লক করেছে গুগল। দিল্লি হাই কোর্টে শুনানির সময় গুগলের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তবে ভিডিওটি বিশ্বব্যাপী ইউটিউব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি। গুগল জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রিভ্যান্স অ্যাপিলেট কমিটির (GAC) নির্দেশের পর ভারতে ভিডিওটির অ্যাক্সেস সীমিত করা হয়েছে। মামলার সূত্রে জানা যায়, ধ্রুব রাঠি গত ২১ মার্চ তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে ‘Can Hindus Eat BEEF? | Kerala Story 2 EXPOSED’ শিরোনামে ভিডিওটি প্রকাশ করেন। ভিডিওটির বিষয়বস্তু নিয়ে আইনজীবী অমিতা সচদেবা অভিযোগ করেন।
অভিযোগকারীর দাবি, ভিডিওটিতে হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থ ও দেবদেবীদের নিয়ে এমন কিছু বক্তব্য রয়েছে, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এবং অবমাননাকর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ভিডিওটি সরানোর দাবিতে অমিতা সচদেবা দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। জুলাই মাসে আদালত কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রিভ্যান্স অ্যাপিলেট কমিটিকে বিষয়টি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিবেচনা করার নির্দেশ দেন।
এরপর ১৫ জুলাই GAC ভিডিওটি সরানোর নির্দেশ দেয় বলে আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে ভিডিওটি নিয়ে ইউটিউবের পদক্ষেপের বিষয়টি আদালতে উঠে আসে। ১১ আগস্টের শুনানিতে গুগলের পক্ষ থেকে দিল্লি হাই কোর্টকে জানানো হয়, GAC-এর নির্দেশ অনুসরণ করে ভিডিওটি ভারতে ব্লক করা হয়েছে। তবে বিশ্বব্যাপী ইউটিউব থেকে ভিডিওটি সরানো হয়নি। অভিযোগকারী পক্ষ বিশ্বব্যাপী ভিডিওটি সরানোর আবেদনও জানিয়েছে। এ বিষয়ে আদালতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মামলাকারীর অভিযোগ, ভিডিওতে হিন্দু ধর্মগ্রন্থের বিভিন্ন বক্তব্য এবং দেবদেবীদের প্রসঙ্গ এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওতে ভগবান রাম, সীতা ও শ্রীকৃষ্ণের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ধ্রুব রাঠির বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এগুলো মামলাকারীর অভিযোগ ও বিতর্কের বিষয়; আদালতের চূড়ান্ত রায় নয়।
মামলাটি এখনও বিচারাধীন। সর্বশেষ শুনানির পর আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ধ্রুব রাঠির ভিডিও নিয়ে এই আইনি বিতর্ক অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ, ধর্মীয় অনুভূতি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।