জিম্বাবুয়েতে নৌকাডুবিতে নিহত বেড়ে ৬৮।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: জিম্বাবুয়ের লেক কারিবায় যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনার পর নতুন করে আরও ২২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) জিম্বাবুয়ের পুলিশ নৌকাডুবিতে নিহতের সংখ্যা ৬৮ জনে পৌঁছানোর তথ্য নিশ্চিত করে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর এখন পর্যন্ত ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে আরও অনেকে নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার লেক কারিবায় সরকারি পরিচালিত একটি যাত্রীবাহী নৌকা প্রবল বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। দুর্ঘটনার সময় নৌকাটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ছিল ৯০ জন। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী, পাঁচজন নৌকাকর্মী এবং অজ্ঞাতসংখ্যক শিশু ছিল। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে নৌকাটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। নিখোঁজদের সন্ধানে লেকের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা পানির নিচ থেকেও মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তে অবস্থিত লেক কারিবা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম হ্রদ। বিশাল এই জলাধারে নৌযান চলাচল ও যাত্রী পরিবহন নিয়মিত হয়ে থাকে। তবে প্রবল বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে নৌযাত্রা কখনো কখনো বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
এ ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ে জিম্বাবুয়ের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং নৌকাটিতে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর দুর্ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।