বাংলাদেশ

রংপুরে হিন্দু পরিবার খুন: এবার পুলিশ ও চিকিৎসকের বক্তব্যে অমিল, তদন্ত কোন পথে?

  • 6:23 pm - August 27, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৯৪ বার
রংপুরে একসঙ্গে হত্যার শিকার হয়েছেন এক পরিবারের চারজন। গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর পারিবারিক ছবিটি এখন শুধুই স্মৃতিছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২৭ আগষ্ট- রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্য হত্যার ঘটনায় পুলিশের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে হত্যার কারণ, মরদেহের অবস্থার বর্ণনা এবং ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের বক্তব্যে পার্থক্য দেখা দেওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে মামলাটির তদন্তভার থানা পুলিশ থেকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত শনিবার রাতে কামালকাছনা এলাকার একটি তিনতলা বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রতিবেশী দুই তরুণ সিদ্ধার্থ দাস (১৯) ও মুগ্ধ দাসকে (২৩) আটক করে পুলিশ।

রোববার সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ দাবি করেন, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় ওই দুই তরুণ চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর তারা ওই বাড়িতে গোসল করেন, ফ্রিজ থেকে শসা ও খেজুর বের করে খান এবং নিজেদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পানিতে ডিটারজেন্ট দিয়ে নষ্ট করেন। পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে হত্যার পর শুক্রবার জুমার নামাজের সময় পর্যন্ত তারা বাড়িটিতে অবস্থান করেন।

তবে পুলিশের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বিশিষ্টজনরা। তাদের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার পর অভিযুক্তরা দীর্ঘ সময় বাড়িতে অবস্থান করেছেন এবং সেখানে খাবার খেয়েছেন, গোসল করেছেন, এমন ব্যাখ্যা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তারা ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।

এদিকে ময়নাতদন্তের তথ্য নিয়েও পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে চিকিৎসকের বক্তব্যে পার্থক্য দেখা দিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে নিহত প্রার্থী চক্রবর্তীর চোয়াল ভেঙে যাওয়া ও চোখ বের হয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানিয়েছেন, প্রার্থীর চোয়াল বা চোখ বের হয়নি।

ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, প্রার্থী চক্রবর্তীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ফরেনসিক রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে চারজনের মুখ বা শরীরে অ্যাসিড কিংবা কোনো রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে পোড়ানোর আলামতও ময়নাতদন্তে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

এর আগে মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণায় নিহতদের মুখমণ্ডল বিকৃত এবং সেখানে তরল পদার্থ পাওয়ায় রাসায়নিক বা অ্যাসিড ব্যবহারের সন্দেহ করা হয়েছিল। কিন্তু ময়নাতদন্তে এ ধরনের কোনো আলামত না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্তের দাবিতে সোমবার রংপুর নগরীতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা পুলিশকে তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়ে বলেন, এই সময়ের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনা না হলে নগরী অচল করে দেওয়া হবে।

একই দাবিতে রংপুর জেলা মহিলা পরিষদ এবং রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটিও মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। রংপুর জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি রুমানা জামান পুলিশের দেওয়া ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি জানান। মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব পলাশ কান্তি নাগ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান।

এদিকে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য থানা পুলিশ থেকে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। রংপুর মহানগর ডিবি পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্তের জন্য ডিবিতে দেওয়া হয়েছে।

মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা করা হয়েছে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে। সোমবার পুরোনো তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক তদন্ত মিলন চ্যাটার্জি ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে মামলার নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত নতুন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন। পরে দুই তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন করেন।

ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী আরও জানান, পুলিশ কমিশনারের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া ঘটনার বর্ণনার সঙ্গে আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির মিল রয়েছে। তবে জবানবন্দিতে কিছু নতুন তথ্যও এসেছে। এসব তথ্য যাচাই করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা নিশ্চিত করতেই ডিবি নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে।

এই শাখার আরও খবর

কম্পিউটার ত্রুটির পর নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের সিদ্ধান্ত, স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৬৮

স্পেনের তোলেদো প্রদেশের কাছে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অনেকে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত…

রবীন্দ্র ঋষিকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা, কী হয়েছিল সেদিন?

ময়মনসিংহের ভালুকায় সেলুনে ঢুকে রবীন্দ্র ঋষি (৪৩) নামে এক নরসুন্দরকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জামিরদিয়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে এ ঘটনা…

লক্ষ্মীপুরে খোরশেদ বাহিনীর প্রধানকে গুলি করে হত্যা, এলাকায় আতঙ্ক

লক্ষ্মীপুরে মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিতে খোরশেদ বাহিনীর প্রধান মো. খোরশেদ নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলসাদপুর গ্রামের খানের…

১২ শতাংশ জমির বিনিময়ে মুক্তি চান ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক

নেত্রকোণার মদনে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও গর্ভবতী করার অভিযোগে করা মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী…

রাধারমণ দত্তের সমাধির পাশে গানবাজনা বন্ধের দাবি ইসলামিক অর্গানাইজেশনের

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মরমী সাধক ও লোককবি রাধারমণ দত্তের সমাধিস্থল সংলগ্ন এলাকায় গানবাজনার আয়োজন বন্ধের দাবি জানিয়েছে ‘কেশবপুর ইসলামিক অর্গানাইজেশন’। এ দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও)…

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত করে ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সম্মত বাংলাদেশ-জাপান

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে প্রস্তাবিত বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি উদ্যোগ ‘বিগ-বি’ (BIG-B) ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত করে বাস্তবায়নে একমত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au