বাবার সঙ্গে ছয় মাস কথা নেই, ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কায় ছেলেরা
কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেট তারকা ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর দুই ছেলে সুলাইমান খান ও কাসিম…
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশকে যুক্ত করার প্রস্তাব এলে তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তাঁর এমন বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ তাদের জাতীয় নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে কি না, সেদিকে তারা নজর রাখছে। অন্যদিকে পাকিস্তান বলেছে, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করলে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বৃহস্পতিবার সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা চুক্তিকে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে এখনো বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। সদস্য দেশগুলো বাংলাদেশকে যুক্ত করতে আগ্রহ দেখালে সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, চুক্তিটি সম্প্রসারিত হলে এটি মুসলিম বিশ্বের জন্য আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে বাংলাদেশ এতে যোগ দিলে কী সুবিধা বা অসুবিধা হবে, তা নিয়ে এখনই বিস্তারিত আলোচনা করা সময়ের আগে হয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও বলেছিলেন, পশ্চিম এশিয়ায় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে উঠলে বাংলাদেশ সেখানে অংশ নেওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে করে না। তিনি জানিয়েছিলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে এবং বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের নজরদারি
বাংলাদেশের এমন অবস্থানের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে দেওয়া বক্তব্য তাঁর নজরে আনা হলে তিনি বলেন, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন সব বিষয়ের ওপর তারা সার্বক্ষণিক নজর রাখে।
এর আগে ২১ আগস্টও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ঘটনাপ্রবাহ ভারত ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য এই পদক্ষেপ ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, মক্কা চুক্তির তিন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের মধ্যে পাকিস্তানও রয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ঢাকার এমন কোনো প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নয়াদিল্লি স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ এতে যুক্ত হলে ভারতের পাশাপাশি চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন কৌশলগত সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
পাকিস্তানের অবস্থান
বাংলাদেশের আগ্রহের বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবিও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করে, তাহলে পাকিস্তান সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি বিবেচনা করবে।
তাহির আন্দ্রাবির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো। এর লক্ষ্য হলো সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। চুক্তিটি ভবিষ্যতে এমন দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত হতে পারে, যারা যৌথ নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে একই ধরনের অঙ্গীকার করতে প্রস্তুত।
তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, চুক্তিটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে নতুন কোনো দেশকে সদস্য করার বিষয়ে চূড়ান্ত কাঠামো বা প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি।
কী এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি?
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৭ আগস্ট মক্কায় ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনের পর মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার নীতি। এ কারণে চুক্তিটিকে অনেকেই ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে তুরস্কের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে করা জোট নয়।
চুক্তির আওতায় তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে সমন্বয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।
কেন বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে আসছে। ফলে একটি নতুন প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু সামরিক সহযোগিতার প্রশ্ন নয়, এর সঙ্গে বাংলাদেশের বৃহত্তর কূটনৈতিক অবস্থানও জড়িয়ে আছে।
বিশেষ করে সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক অংশীদার। তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিস্তৃত হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের একটি জটিল অতীত রয়েছে। এই তিন দেশকে নিয়ে গঠিত প্রতিরক্ষা কাঠামোয় বাংলাদেশের যোগদান তাই আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যোগ দিলে দেশটির দীর্ঘদিনের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির ওপর নতুন পরীক্ষা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরানসহ বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এমনকি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ফলে আপাতত ঢাকার অবস্থানকে চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, বরং আমন্ত্রণ এলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এর কূটনৈতিক গুরুত্ব ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশের বক্তব্যে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের ইতিবাচক সাড়া এবং ভারতের সতর্ক নজরদারি দেখাচ্ছে, সম্ভাব্য এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার কৌশলগত রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au