সহযোগী ন্যাটালি হার্পকে ৪৫ হাজার ডলার নগদ উপহার ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর তিন সহযোগীকে ৪৫ হাজার ডলার করে নগদ উপহার দিয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি আর্থিক নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে…
সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকায় চুরির চেষ্টার অভিযোগে এক তরুণীকে কোমরে শেকল ও তালা দিয়ে বেঁধে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে তরুণীকে আটকে রেখে নির্যাতন, শ্লীলতাহানি এবং নির্যাতনের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শাহজালাল উপশহর এলাকার বাসিন্দা ও একটি দোকানের মালিক মো. জাকির হোসেন (৪৩), তাঁর ভাই মোজাক্কির হোসেন (৪০) এবং একই এলাকার বোরহান উদ্দিন (৪৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাত ১১টার দিকে শাহজালাল উপশহরের বি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকায় ওই তরুণীকে কোমরে শেকল বেঁধে রাস্তায় হাঁটানো হয়। এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মসজিদ মার্কেট এলাকার একটি দোকানে চুরির চেষ্টা করার অভিযোগে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে আটক করেন।
পরে তাঁকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাস্তায় হাঁটানোর দৃশ্য কেউ ভিডিও করেন। মঙ্গলবার রাত থেকে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বোরকা পরা এক তরুণীর কোমরে শেকল ও তালা লাগানো। এক ব্যক্তি সেই শেকল ধরে তাঁকে রাস্তায় টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। তরুণী কাঁদতে কাঁদতে হাত ও পোশাক দিয়ে মুখ ঢাকার চেষ্টা করছেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে তাঁকে কাঁদতে নিষেধ করতে এবং মুখ খোলা রাখার কথা বলতে শোনা যায়।
ঘটনার বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম বলেন, ওই তরুণী একটি দোকানের ক্যাশবাক্সে হাত দিয়েছিলেন। তবে তিনি কোনো টাকা নিতে পারেননি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করার কথা বলেন। পরে পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, রাত ১১টার দিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আবার পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে ওই তরুণীকে থানায় নিয়ে আসে। তবে চুরির অভিযোগে ওই সময় কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি।
এদিকে শাহজালাল উপশহরের ওই দোকানে চুরির চেষ্টার ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও পাওয়া গেছে। ফুটেজে দেখা যায়, বোরকা পরা তিনজন নারী ওই দোকানে প্রবেশ করেন। তখন দোকানে একটি শিশু ছেলে ছিল। শিশুটি তাঁদের বিভিন্ন পণ্য দেখাচ্ছিল।
একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে দুজন শিশুটির সঙ্গে দোকানের সামনের অংশে যান। এ সময় অন্য এক নারী দোকানের ভেতরে থাকা ক্যাশবাক্সের দিকে এগিয়ে সেটি টানার চেষ্টা করেন। তবে তিনি ক্যাশবাক্স থেকে কোনো টাকা নিয়েছেন কি না, সিসিটিভি ফুটেজে তা স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি।
বুধবার দুপুরে ওই দোকানে গিয়ে দোকানের মালিকের এক চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়। তিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি। তাঁর ভাষ্য, তাঁদের পাশেই আরও একটি দোকান রয়েছে এবং সেখান থেকে সিসিটিভির মাধ্যমে ওই দোকানটি নজরদারি করা হয়। ঘটনার দিন তিনি নিজে দোকানে ছিলেন না।
দোকানের কর্মচারী তানভির আহমদ বলেন, ওই তরুণী চুরির চেষ্টা করেছিলেন বলে তাঁরা সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পান। বিষয়টি দেখে দোকানের মালিক দ্রুত সেখানে গিয়ে একজনকে আটক করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তবে প্রথমে তাঁকে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়নি। রাতে আবার পুলিশ এসে তাঁকে নিয়ে যায়।
শেকল ধরে তরুণীকে রাস্তায় নিয়ে যাওয়া ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে তানভির বলেন, তিনি ওই ব্যক্তিকে আগে দেখেছেন, তবে তাঁর নাম জানেন না।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চুরির চেষ্টা করে থাকলেও ওই তরুণীকে পুলিশের কাছে না দিয়ে এভাবে শেকল দিয়ে বেঁধে রাস্তায় হাঁটানো ঠিক হয়নি।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসে। পরে পুলিশ জাকির হোসেন, তাঁর ভাই মোজাক্কির হোসেন এবং বোরহান উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।
শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনজনকে আটক করার পর পুলিশ বাদী হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলায় ওই তরুণীকে আটকে রেখে নির্যাতন, শ্লীলতাহানি এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ওই তরুণীকে আদালতে পাঠানোর পর মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পরে তিনি বাড়িতে চলে গেছেন। তাঁর বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায়।
চুরির অভিযোগ সত্য হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে শেকল দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে রাস্তায় হাঁটানো বা নির্যাতন করার কোনো বৈধতা নেই। পুলিশও বলছে, এ ঘটনায় তরুণীর বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। ফলে চুরির অভিযোগের পাশাপাশি তরুণীকে আটকে রেখে নির্যাতন ও তাঁর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ এখন আলাদা করে তদন্তের বিষয় হয়ে উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, অপরাধের অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করাই আইনসম্মত পথ। কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার অধিকার স্থানীয় ব্যক্তি বা ব্যবসায়ীদের নেই।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au