সহযোগী ন্যাটালি হার্পকে ৪৫ হাজার ডলার নগদ উপহার ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর তিন সহযোগীকে ৪৫ হাজার ডলার করে নগদ উপহার দিয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি আর্থিক নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে…
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মাদ্রাসায় ফিরে না যাওয়ায় ১১ বছরের এক ছাত্রকে বাড়ি থেকে ধরে এনে বেত দিয়ে অমানবিকভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। মারধরে আব্দুল্লাহ নামে ওই ছাত্র অচেতন হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরজুড়ে বেতের আঘাতের অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কৃষ্ণনগর আশরাফুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের রমজান আলী ওরফে রুমান মিয়ার ছেলে আব্দুল্লাহ ওই মাদ্রাসার হাফেজ বিভাগের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব সম্পর্কে তার খালু। ওই শিক্ষকের মাধ্যমে আব্দুল্লাহকে মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার মাদ্রাসায় ক্লাস শেষে বাড়িতে চলে যায় আব্দুল্লাহ। এরপর মঙ্গলবার পর্যন্ত সে মাদ্রাসায় ফেরেনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার সকালে মুফতি ইব্রাহিম তার বাড়িতে গিয়ে আব্দুল্লাহকে ধরে মাদ্রাসায় নিয়ে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মাদ্রাসায় আনার পরই আব্দুল্লাহকে বেত দিয়ে মারধর শুরু করেন ওই শিক্ষক। একপর্যায়ে শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসার সামনে জড়ো হন।
পরে তারা মাদ্রাসার ভেতর থেকে অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করেন। এরপর তাকে কৃষ্ণনগর বাজারের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা মুফতি ইব্রাহিমকে ঘিরে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে স্থানীয়দের কাছ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
মারধরের অভিযোগ স্বীকার করে মুফতি ইব্রাহিম বলেন, আব্দুল্লাহকে বাড়ি থেকে ধরে আনার কারণে তিনি রাগান্বিত ছিলেন। এ কারণে তাকে মারধর করেন। তবে শাসন করতে গিয়ে নির্যাতন মাত্রাতিরিক্ত হয়ে গেছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
এদিকে আব্দুল্লাহর মা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তারা মামলা করতে চান না। তিনি এলাকাবাসীর মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের কথা জানিয়েছেন।
মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, এমন ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি কমিটির সদস্যদের দ্রুত বৈঠকে বসার নির্দেশ দিয়েছেন। শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মহিউদ্দিন আশরাফী বলেন, খবর পেয়ে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি আহত ছাত্রকে দেখেন এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। আব্দুল্লাহ খুব ভালো ছেলে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষকের মারধরের ঘটনাকে জঘন্য ও পৈশাচিক উল্লেখ করে মুহতামিম বলেন, এ ধরনের নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে সঠিক বিচারের আশ্বাস দেন তিনি।
নবীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। স্থানীয়রা শিক্ষক ইব্রাহিমকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে তাকে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au