বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ ফিচার | পর্ব দুই

সামাজিক সুরক্ষা, মেধাভিত্তিক চাকরি এবং জ্বালানি সংকট: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা

মতামত: প্রফেসর ডঃ শ্যামল দাস

  • 11:00 am - September 13, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১১৮ বার
কার্টুন ছবি: ওটিএন বাংলা

তিন পর্বের ধারাবাহিক আয়োজনের দ্বিতীয় পর্ব আজ প্রকাশিত হলো। শিগগিরই প্রকাশিত হবে তৃতীয় পর্ব। সঙ্গে থাকুন ওটিএন বাংলার সঙ্গে।

ফ্যামিলি কার্ডের ধারণাটি নীতিগতভাবে ভালো। দরিদ্র পরিবারের নারী সদস্যের নামে কার্ড দেওয়া এবং সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওয়া নারীর আর্থিক ক্ষমতায়নে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু সরকার যেভাবে কর্মসূচিটিকে বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষার একেবারে নতুন আবিষ্কার হিসেবে হাজির করছে, ইতিহাসের সংখ্যাগুলো সেই দাবিকে সমর্থন করে না।

আওয়ামী লীগ আমলের শেষ পূর্ণ অর্থবছর, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালে, প্রায় ৫৮ লাখ ১ হাজার মানুষ বয়স্কভাতা পেতেন। জনপ্রতি মাসিক ভাতা ছিল ৬০০ টাকা। পরবর্তী বাজেটে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৬০ লাখ ১ হাজারে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।

বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত ও দুস্থ নারী ভাতার আওতায় ছিলেন ২৫ লাখ ৭৫ হাজার নারী। পরবর্তী বাজেটে লক্ষ্য ছিল ২৭ লাখ ৭৫ হাজার। অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা পেতেন ২৯ লাখ মানুষ, যে সংখ্যা পরবর্তী বাজেটে ৩২ লাখ ৩৪ হাজারে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ছিলেন প্রায় ১৩ লাখ ৪ হাজার মা, পরবর্তী বাজেটে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় প্রায় ১৬ লাখ ৫৫ হাজার।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির অধীনে ৫০ লাখ পরিবার বছরে পাঁচ মাস, প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল পেত কেজিপ্রতি ১৫ টাকা দরে। অর্থাৎ শুধু একটি পুরোনো খাদ্য কর্মসূচিতেই বর্তমান সরকারের প্রথম পর্যায়ের ফ্যামিলি কার্ডের ৩৭ হাজার ৫৬৭ সুবিধাভোগীর তুলনায় প্রায় ১৩৩ গুণ বেশি পরিবার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

২০২৩ থেকে ২০২৪ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট বরাদ্দ ছিল প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণীত ২০২৪ থেকে ২০২৫ অর্থবছরের বাজেটে সেটি বাড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৬ কোটি টাকা করা হয়েছিল।

অবশ্য এই অঙ্কের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের পেনশন এবং সঞ্চয়পত্রের সুদ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে সম্পূর্ণ অর্থ সরাসরি দরিদ্র মানুষের কাছে যায়নি। সুবিধাভোগী নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব, অযোগ্য মানুষের অন্তর্ভুক্তি এবং প্রকৃত দরিদ্রের বাদ পড়ার অভিযোগও ছিল। সেই সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিখুঁত ছিল না। কিন্তু বৃহৎ সামাজিক সহায়তার কাঠামোটি যে আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত ছিল, সেটিও অস্বীকার করা যাবে না।

কৃষি সহায়তাও নতুন কোনো আবিষ্কার নয়। আওয়ামী লীগ আমলে কৃষি উপকরণ কার্ড, কৃষি ভর্তুকি, কৃষকের ব্যাংক হিসাব এবং ডিজিটাল কৃষক তালিকা চালু ছিল। ১ কোটি ৯ লাখ কৃষককে স্মার্ট কৃষি কার্ড দেওয়ার একটি প্রকল্পও নেওয়া হয়েছিল।

বর্তমান সরকার নতুন কৃষক কার্ড কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ২২ হাজার ৬৫ কৃষককে এককালীন ২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়েছে। ভবিষ্যতে প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে এর আওতায় আনার ঘোষণা রয়েছে। স্পোর্টস কার্ড দেওয়া হয়েছে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে।

সহায়তা পাওয়া প্রত্যেক মানুষের জন্য অর্থটি গুরুত্বপূর্ণ। একজন দরিদ্র নারী কিংবা প্রান্তিক কৃষকের কাছে ২ হাজার ৫০০ টাকা কোনো তুচ্ছ অঙ্ক নয়। প্রশ্নটি তাঁদের প্রাপ্য সহায়তা নিয়ে নয়, তাঁদের দারিদ্র্যকে ঘিরে তৈরি রাজনৈতিক আলোকসজ্জা নিয়ে।

বর্তমান ফ্যামিলি কার্ডের প্রথম পর্যায়ে ঘোষিত সুবিধাভোগী ৩৭ হাজার ৫৬৭ নারী। অথচ চলতি অর্থবছরের লক্ষ্য ৪১ লাখ পরিবার এবং পরবর্তী কয়েক বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার বিভিন্ন ঘোষণা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ের বাস্তব আওতা ৪১ লাখের লক্ষ্যের এক শতাংশেরও কম।

এখানে সরকারি তথ্যেও অসামঞ্জস্য দেখা যায়। সরকারের সামাজিক সুরক্ষা পোর্টালের একটি তথ্যে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ৬,৫০০ পরিবারের কথা বলা হয়েছে, অন্য সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের হিসাবে ৩৭,৫৬৭ নারী। যে কার্ডকে স্মার্ট বলা হচ্ছে, তার সুবিধাভোগীর হিসাবটিও একই ভাষায় কথা বলবে, এই প্রত্যাশা নিশ্চয়ই খুব বেশি নয়।

আওয়ামী লীগের শুধু বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতেই এক কোটির বেশি মানুষ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। একই ব্যক্তি একাধিক কর্মসূচিতে থাকতে পারেন, তাই সংখ্যাগুলো যোগ করে মোট স্বতন্ত্র সুবিধাভোগী নির্ধারণ করা ঠিক হবে না। তবু প্রতিটি কর্মসূচির স্বতন্ত্র আওতা বর্তমান কার্ডের পরীক্ষামূলক পর্যায়ের তুলনায় বহুগুণ বড় ছিল।

সুতরাং ফ্যামিলি কার্ডকে একেবারে নতুন সামাজিক বিপ্লব হিসেবে উপস্থাপন করা ইতিহাসের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এটি আগে থেকে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে একটি কেন্দ্রীভূত কার্ড এবং নতুন তথ্যভান্ডারের অধীনে আনার চেষ্টা। সেই চেষ্টা সফল, স্বচ্ছ ও দলীয় প্রভাবমুক্ত হলে অবশ্যই প্রশংসা প্রাপ্য। কিন্তু ভবিষ্যতের কোটি কোটি সুবিধাভোগীর প্রতিশ্রুতিকে বর্তমানের অর্জন হিসেবে বিক্রি করা যায় না।

পুরোনো সামাজিক সহায়তার কাঠামোকে নতুন নাম, নতুন রং, নতুন প্লাস্টিক এবং নতুন টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে হাজির করলেই তা নতুন বিপ্লব হয়ে যায় না। প্যাকেট বদলালে চালের পুষ্টিগুণ বাড়ে না। আর ৫০ লাখ পরিবারকে চাল দেওয়ার পুরোনো কর্মসূচির দেশে ৩৭ হাজার কার্ড বিতরণ করে যদি বিজয়ের বাদ্য বাজানো হয়, তবে বলতেই হয়, এখানে খাজনার চেয়ে বাজনাই বেশি।

মেধার চাকরি, নাকি মৌখিক পরীক্ষায় রাজনৈতিক পরিচয়ের পরীক্ষা?

সরকার ১১ থেকে ২০ গ্রেডের চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ব্যাপকভাবে বাড়ানোর একটি প্রস্তাব অনুমোদনের পথে নিয়েছে। ১১ ও ১২ গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০ থেকে ৫০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, অর্থাৎ ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সঙ্গে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ন্যূনতম নম্বর ৫০ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে নামানোর কথা বলা হয়েছে।

১৩ থেকে ১৬ গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০ থেকে ৪০ এবং ১৭ থেকে ২০ গ্রেডে ১০ থেকে ২৫ করার প্রস্তাব রয়েছে। এই পরিবর্তন সরকারের প্রায় ৬৫ শতাংশ বেসামরিক নিয়োগকে প্রভাবিত করতে পারে।

সরকার বলছে, প্রক্সি পরীক্ষার্থী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করে অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি পাওয়া ঠেকাতে মৌখিক পরীক্ষার গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু লিখিত পরীক্ষায় প্রযুক্তিগত জালিয়াতির সমাধান কি পরীক্ষকের হাতে আরও বেশি ব্যক্তিনির্ভর নম্বর তুলে দেওয়া? তালা দুর্বল বলে কি ঘরের চাবি একজন অচেনা মানুষের হাতে তুলে দিতে হয়?

লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা যায়। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার কক্ষে কোন উত্তরের জন্য একজন পেলেন ৪৮ এবং অন্যজন পেলেন ১৮, সেটি যাচাই করা কঠিন। সেখানে সুপারিশ, রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত পছন্দ, অঞ্চল এবং দলীয় আনুগত্য কাজ করার সুযোগ অনেক বেশি।

সরকার সরকারি চাকরির বিএনপিয়ায়ন করতেই এই প্রস্তাব এনেছে, এটি এখনও প্রমাণিত সত্য নয়। কিন্তু প্রস্তাবটি নিয়োগব্যবস্থাকে বিএনপিয়ায়নের জন্য একটি প্রশস্ত দরজা খুলে দিতে পারে, এই আশঙ্কা সম্পূর্ণ যৌক্তিক। মেধার দরজা সংকুচিত করে মৌখিক পরীক্ষার জানালা বড় করলে দলীয় লোকেরা কোন পথে প্রবেশ করবে, তা অনুমান করতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি লাগে না।

BCS পরীক্ষার ক্ষেত্রে অবশ্য বিষয়টি আলাদা। সেখানে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ করা হয়েছিল এবং বর্তমান সরকার সেই ১০০ নম্বর বহাল রাখছে। সমালোচনাটি তাই BCS নিয়ে নয়, মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দপ্তরের ১১ থেকে ২০ গ্রেডের নিয়োগ নিয়ে।

গ্যাসের দেশে গ্যাস নেই, বিদ্যুতের সক্ষমতা আছে, আলো নেই

বাংলাদেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩,৮০০ থেকে ৪,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সরবরাহ প্রায় ২,৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন ১,২০০ থেকে ১,৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি।

জুলাইয়ের LNG টার্মিনাল দুর্ঘটনায় আরও প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আগস্টে আংশিকভাবে ফিরেছিল মাত্র ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট। কাতার থেকে LNG সরবরাহ বিঘ্ন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তা বর্তমান সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই সমস্ত দায় সরকারের ঘাড়ে চাপানো ন্যায্য হবে না। কিন্তু একটি সরকারের সক্ষমতার পরীক্ষা তো শান্ত সময়ে বক্তৃতা দেওয়ার মধ্যে নয়, সংকটের সময় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্যে।

আওয়ামী লীগ আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৫,০০০ মেগাওয়াট থেকে ২৫,০০০ মেগাওয়াটের বেশি হয়েছিল এবং বিদ্যুৎ সুবিধা প্রায় সর্বজনীন পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদনক্ষমতা, ক্যাপাসিটি চার্জ, ব্যয়বহুল চুক্তি এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানি কাঠামোও তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সরকার অবকাঠামো যেমন উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, সমস্যাগুলোও পেয়েছে।

কিন্তু ২৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি সক্ষমতা পাওয়ার পরও যদি কোনো কোনো সময় বিদ্যুৎ ঘাটতি ৩,০০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়, মানুষ দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ে থাকে এবং দোকান রাত আটটার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দিতে হয়, তাহলে বিদ্যুৎ বিভাগের সাফল্য সম্ভবত কাগজেই বেশি উজ্জ্বল।

পাঁচ দিনের আশা, পাঁচ বছরের পরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রী আগস্টে বলেছিলেন, দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট গ্যাস সরবরাহের সংকট পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে কমে যাবে। বক্তব্যটি মূলত ক্ষতিগ্রস্ত LNG টার্মিনালের সরবরাহ পুনরায় চালুর প্রত্যাশা নিয়ে ছিল।

অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরে সংসদে তিনি মোট ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। সরকার বলেছে, এর মধ্যে ৩০টির কাজ শেষ হয়েছে এবং সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। আরও সাতটি কূপের কাজ শেষ হলে অতিরিক্ত ৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট পাওয়া যেতে পারে। অবশিষ্ট কূপগুলোর কাজ পর্যায়ক্রমে ২০৩০ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অতএব প্রধানমন্ত্রী পাঁচ থেকে সাত দিনে ১৩০ বা ১৫০টি কূপ খুঁড়ে গ্যাসসংকট শেষ করবেন, সরাসরি এমন কথা বলেননি। দুটি পৃথক বক্তব্য জনপরিসরে এক হয়ে গেছে। কিন্তু তাঁর বক্তব্য যেভাবে পরিবেশিত হয়েছে, তাতে তাৎক্ষণিক সমাধানের একটি বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি হয়েছে। একদিকে পাঁচ থেকে সাত দিনের আশ্বাস, অন্যদিকে চার থেকে পাঁচ বছরের পরিকল্পনা। জনগণ জানতে চাইতেই পারে, পাঁচ দিনের সমাধান কোথায় শেষ হচ্ছে এবং পাঁচ বছরের অপেক্ষা কোথায় শুরু হচ্ছে?

একটি অনুসন্ধানী কূপ খনন করলেই গ্যাস পাওয়া নিশ্চিত নয়। ভূতাত্ত্বিক জরিপ, স্থান নির্বাচন, ভূমি প্রস্তুতি, রিগ স্থাপন, খনন, পরীক্ষা, বাণিজ্যিক মজুত নির্ধারণ, পাইপলাইন নির্মাণ এবং গ্রিডে সংযোগ, প্রতিটি ধাপেই সময় লাগে। কোনো কূপে গ্যাস পাওয়া গেলেও সেটি দেশের সম্পূর্ণ দৈনিক ঘাটতি তাৎক্ষণিকভাবে পূরণ করতে পারবে না।

কূপ খননের পরিকল্পনা প্রয়োজনীয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে বর্তমান সংকটের প্রায় তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে পরিবেশন করা বালখিল্য রাজনৈতিক যোগাযোগ। ভূগর্ভের গ্যাস রাজনৈতিক বক্তৃতা শোনে না। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস শুনে সেটি দ্রুত ওপরে উঠে আসবে, এমন প্রযুক্তি এখনও আবিষ্কৃত হয়নি।

এই তিন ক্ষেত্রের অভিন্ন প্রশ্নটি বাস্তবায়ন নিয়ে। কার্ডের লক্ষ্য কোটি মানুষের, কিন্তু বর্তমান আওতা ক্ষুদ্র; চাকরিতে মেধার প্রতিশ্রুতি আছে, কিন্তু মূল্যায়নে ব্যক্তিনির্ভরতা বাড়ানোর প্রস্তাবও আছে; গ্যাসকূপের পরিকল্পনা প্রয়োজনীয়, কিন্তু তার সুফল পেতে বছর লাগবে। তাই ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে বর্তমান অর্জন হিসেবে দেখানো নয়, স্বচ্ছ অগ্রগতি প্রকাশ করাই আস্থা তৈরির পথ।

তিন পর্বের ধারাবাহিক আয়োজনের দ্বিতীয় পর্ব আজ প্রকাশিত হলো। শিগগিরই প্রকাশিত হবে তৃতীয় পর্ব। সঙ্গে থাকুন ওটিএন বাংলার সঙ্গে।

মতামত: প্রফেসর ডঃ শ্যামল দাস

এই শাখার আরও খবর

জাভা সাগরে ফেরি উল্টে নিহত ৬, নিখোঁজ ১২৯

ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪৩ জন আরোহী নিয়ে ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামে একটি যাত্রীবাহী ফেরি উল্টে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১২৯ যাত্রী। দুর্ঘটনার…

রুশ ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা ইউরোপীয় নেতারা

ইউক্রেনের পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ ইউরোপের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি। হামলার মাত্র কয়েক মিনিট…

আলপি চমকে জর্ডানকে হারালো বাংলাদেশ

এশিয়ান কাপ অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল বাছাইপর্বের প্রস্তুতিতে জর্ডানের বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। সফরের দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে স্বাগতিক জর্ডানকে ২-০ গোলে হারিয়েছে লাল-সবুজের…

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত

ইরান, ইরাক ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর অংশগ্রহণে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানে নির্ধারিত আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার ওমানের সালালাহ শহরে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা…

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন করে সাজাতে চায় ঢাকা

ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুনভাবে সাজাতে চায় বাংলাদেশ। পারস্পরিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ওপর জোর দিয়েছে…

হাসিনা ইস্যু থাকলেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আগ্রহী ভারত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন থাকলেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে দরজা খোলা রাখছে ভারত। সম্পর্কের রাজনৈতিক জটিলতার পাশাপাশি দুই দেশের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au