মেয়ের সহপাঠীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখেন বাবা
জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর মেয়ের সহপাঠী ওই শিশুকে বাড়িতে…
রংপুরে গত ১৯ আগস্ট সংঘটিত আলোচিত চার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একের পর এক গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ রয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল ব্যবস্থাপনা, আলামত সংরক্ষণ, ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি ছিল। এসব অসঙ্গতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তদন্তের শুরুতেই পুলিশ কোনো একটি নির্দিষ্ট বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
এই প্রশ্নের সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় পুলিশের তদন্তের ফলাফল এবং হত্যাকাণ্ডের এক দিনেরও কম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া ময়নাতদন্তের ফলাফলের মধ্যে পার্থক্য থেকে। অভিযোগ অনুযায়ী, রংপুর মহানগর পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা যে ব্যাখ্যা সামনে এনেছিলেন, ময়নাতদন্তে পাওয়া তথ্য তার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তৎকালীন রংপুরের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুদের ভূমিকা। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, মাদক ইয়াবা সেবনকে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে তুলে ধরে যে বয়ান দেওয়া হয়েছিল, তা গোয়েন্দা শাখার উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তীও সমর্থন করেছিলেন। তবে পুলিশের এই বয়ান পরবর্তী সময়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে।
মাবুদকে প্রতিবেদনে এই মামলার অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পুলিশের দায়িত্ব পালনে বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগও রয়েছে। তিনি ২৩ এপ্রিল রংপুর পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে ১২ আগস্ট তাকে রংপুর রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক হিসেবে বদলি করা হয়। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বদলি তার নিজের আবেদনের ভিত্তিতেই হয়ে থাকতে পারে।
এর মাত্র এক সপ্তাহ পর, ১৯ আগস্ট রংপুরের দাসনগর-মেছুয়াপাড়া এলাকায় চার সদস্যের একটি পরিবারের হত্যাকাণ্ড ঘটে। হত্যার পর ২৩ আগস্ট এবং ২৭ আগস্ট দুটি সংবাদ সম্মেলন করেন মাবুদ। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই দুটি সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যই বরং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।
প্রতিবেদনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হলো, মাবুদ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন কি না, অথবা নিজের সংশ্লিষ্টতা আড়াল করতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
চার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গোয়েন্দা শাখার কাছে হস্তান্তরের আগেই ঘটনাস্থলে গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা হত্যার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার মুখে মাস্ক ছিল। এর পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থল যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণে না নিয়ে বহু মানুষকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেয়।
বিশেষ করে নিহতদের শোবার ঘর, বসার ঘর, রান্নাঘর ও খাবার ঘরে মানুষের অবাধ যাতায়াতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হয়ে থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল অপরাধ তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক উৎস। সেখানে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ না করা, সম্ভাব্য আলামত স্পর্শ বা সরানো এবং পর্যাপ্ত ফরেনসিক ব্যবস্থাপনা না থাকা তদন্তকে শুরুতেই দুর্বল করে দিতে পারে। চারজনকে হত্যার মতো গুরুতর মামলায় এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২২ আগস্ট রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার সময় সনাতন চক্রবর্তী ঘটনাস্থল যথাযথভাবে সুরক্ষিত করা বা বিস্তারিত তদন্ত শুরুর ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখাননি। দুই দিন পর তিনি আবার ঘটনাস্থলে যান। এরই মধ্যে মামলাটি দ্রুত গোয়েন্দা শাখার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয়বার ঘটনাস্থলে গিয়েও তিনি কেবল বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন, কিন্তু হত্যাকাণ্ডের আলামত খুঁজে বের করা, সেগুলো সংরক্ষণ করা কিংবা ঘটনাস্থলের বিস্তারিত ফরেনসিক পর্যবেক্ষণের মতো কাজ যথাযথভাবে করেননি। প্রতিবেদক এটিকে পুলিশের আগে থেকেই কোনো নির্দিষ্ট তদন্তপথ সম্পর্কে ধারণা থাকার সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

রংপুরে একসঙ্গে হত্যার শিকার হয়েছেন এক পরিবারের চারজন। গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর পারিবারিক ছবিটি এখন শুধুই স্মৃতিছবি: সংগৃহীত
এই মামলায় পুলিশের সবচেয়ে বড় বিতর্কিত দাবি ছিল ইয়াবা সেবনকে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে দেখানো।
গোয়েন্দা পুলিশ দাবি করে, গণপতি চক্রবর্তী তার তিনতলা বাড়ির ছাদে মুগ্ধা দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে ইয়াবা সেবন করতে দেখেছিলেন। এরপর আকস্মিকভাবে তাদের সঙ্গে বিরোধের সূত্র ধরে পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করা হয়।
কিন্তু এই তত্ত্বের সঙ্গে ময়নাতদন্তের ফলাফল কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
চারজনের মরদেহ উদ্ধারের পর তাদের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায় ছাদে। তার স্ত্রী প্রিতিলতা চক্রবর্তীর মরদেহ ছিল ছাদে ওঠার সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ে। মেয়ে আগামীর মরদেহও একই সিঁড়িতে পাওয়া যায়। ছেলে আয়ুষের মরদেহ পাওয়া যায় তার শোবার ঘরের খাটের নিচে।
ময়নাতদন্ত করেন ফরেনসিক চিকিৎসক ডা. বাবলু কুমার বিশ্বাস। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তার ময়নাতদন্তের ফলাফলের সঙ্গে পুলিশের ইয়াবা-ভিত্তিক হত্যার বয়ানের গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি রয়েছে।
ময়নাতদন্তের তথ্য অনুযায়ী, চক্রবর্তী পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ড তাদের রাতের খাবার খাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে চারজনের মূত্রথলির অবস্থাও ইঙ্গিত করে যে, ভোর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
এই তথ্য পুলিশের সেই বয়ানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে ছাদে ইয়াবা সেবনকে কেন্দ্র করে ভোরের দিকে হত্যাকাণ্ডের একটি তাৎক্ষণিক পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
মামলার তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, চারজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করতে যে গামছা বা দড়িজাতীয় বস্তু ব্যবহার করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে, তার ফরেনসিক পরীক্ষা কেন করা হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ কিংবা সুরতহাল প্রতিবেদনে ওই বন্ধনীজাতীয় বস্তুগুলোর পরিমাপও উল্লেখ করা হয়নি।
ফরেনসিক চিকিৎসক ডা. বাবলু কুমার বিশ্বাসের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কথিত ওই বন্ধনীজাতীয় বস্তু তার কাছে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়নি। ফলে নিহতদের গলায় পাওয়া আঘাতের চিহ্নের সঙ্গে উদ্ধার করা বস্তুগুলোর মিল রয়েছে কি না, তা পরীক্ষার সুযোগও তৈরি হয়নি।
চারজন মানুষকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ থাকা একটি মামলায় হত্যায় ব্যবহৃত সম্ভাব্য উপকরণ ফরেনসিক পরীক্ষার বাইরে থাকা তদন্তের একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
কারা ওই বস্তু ব্যবহার করেছে, সেগুলোতে কারও আঙুলের ছাপ, জৈবিক নমুনা বা অন্য কোনো ফরেনসিক প্রমাণ ছিল কি না, কিংবা নিহতদের শরীরের আঘাতের সঙ্গে বস্তুগুলোর সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
এই মামলায় গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতার সময়কাল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩ আগস্ট মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। একই সময়ে ময়নাতদন্ত-সংক্রান্ত কার্যক্রমও চলছিল। এত দ্রুত তদন্তের একটি নির্দিষ্ট তত্ত্বে পৌঁছে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করাকে প্রতিবেদনে তদন্তে তাড়াহুড়োর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
চারজন হত্যার মতো জটিল মামলায় সাধারণত ঘটনাস্থলের সব আলামত, ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, পারিপার্শ্বিক তথ্য এবং সম্ভাব্য সব উদ্দেশ্য যাচাই করে একটি নির্ভরযোগ্য তদন্ত কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এখানে পুলিশ শুরুতেই ইয়াবা সেবনকে কেন্দ্র করে একটি নির্দিষ্ট হত্যার কাহিনি দাঁড় করিয়ে ফেলেছিল।
পরবর্তীতে সেই তত্ত্ব প্রশ্নের মুখে পড়লেও বিকল্প কোনো মোটিভ বা হত্যাকাণ্ডের অন্য সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধানে গোয়েন্দা পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা খুব বেশি দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবিঃ সংগৃহীত
এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো, প্রকৃত হত্যাকারীর সংখ্যা কতজন ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চারজন মানুষকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করতে দুইজন ব্যক্তি যথেষ্ট ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে পুলিশ যদি দাবি করে থাকে যে অভিযুক্তরা ইয়াবার প্রভাবে ছিলেন, তাহলে একই সময়ে পরিবারের চার সদস্যকে নিয়ন্ত্রণ করে হত্যা, মরদেহ সরানো এবং ঘটনাস্থলে থাকা বিভিন্ন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো কাজ তারা কীভাবে করলেন, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।
এ কারণে প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, প্রকৃত হত্যাকারীর সংখ্যা চার থেকে ছয়জন হতে পারে।
যদি সত্যিই একাধিক ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়ে থাকে, তাহলে তাদের কেউ কি রংপুরের বাইরে থেকে এসেছিল? তাদের কে নিয়ে এসেছিল? হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা কে করেছিল? হত্যার আগে বাড়ির গতিবিধি সম্পর্কে তাদের তথ্য কে দিয়েছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর বের করা তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অনালোচিত বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে চক্রবর্তী পরিবারের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা।
প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কাছের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগ কে বিচ্ছিন্ন করেছিল।
যদি হত্যাকাণ্ডের সময় পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়ে থাকে, তাহলে এটি নিছক আকস্মিক ঘটনা ছিল, নাকি হত্যাকারীদের পরিকল্পনার অংশ ছিল, তা নির্ধারণ করা জরুরি।

আগেই বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ। ছবিঃ সংগৃহীত
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময়, কে সেটি করেছিলেন, কোথা থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল এবং সেখানে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বা প্রযুক্তিগত প্রমাণ আছে কি না, এসব তথ্য তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
কিন্তু প্রতিবেদনের দাবি, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত অনুসন্ধান করা হয়নি।
রংপুরের এই চার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে প্রত্যাশিত মাত্রায় জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রণালয় পুলিশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও সম্ভাব্য প্রমাণগুলো যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে কি না, সেটিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রংপুরের সাবেক পুলিশ কমিশনার মাবুদ ও গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তীর ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো উপেক্ষা করা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং স্বাধীন তদন্তের ফলাফল জানা প্রয়োজন।
রংপুরের চার হত্যাকাণ্ডে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত: আসলে কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে?
মুগ্ধা দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে ঘিরে পুলিশের যে ইয়াবা-তত্ত্ব সামনে এসেছিল, তা যদি তদন্তের অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বিকল্প সব সম্ভাবনা অনুসন্ধান করতে হবে।
প্রকৃত হত্যাকারীরা কি রংপুরেরই বাসিন্দা, নাকি দেশের অন্য কোনো এলাকা থেকে তাদের আনা হয়েছিল? হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী কে? তাদের যাতায়াতের ব্যবস্থা কে করেছিল? তারা কখন বাড়িতে প্রবেশ করেছিল? কীভাবে বাড়ির ভেতরে ঢুকেছিল? বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না? হত্যার পর তারা কীভাবে ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে গেল?

শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পানি দিয়ে ধুয়ে আলামত নষ্টের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত
এমনকি হত্যার আগে পরিবারের সদস্যদের গতিবিধি, বাড়ির ভেতরের বিন্যাস, ঘুমানোর অবস্থান এবং বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পর্কে হত্যাকারীরা কতটা তথ্য জানত, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া সম্ভাব্য সব আলামত পুনরায় পরীক্ষা করা এবং ময়নাতদন্তের তথ্যের সঙ্গে পুলিশের তদন্তের বক্তব্য মিলিয়ে দেখা।
রংপুরের এই চার হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা কেবল একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগেরও প্রমাণভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন।
যতদিন পর্যন্ত প্রকৃত হত্যাকারী, হত্যার উদ্দেশ্য, হত্যায় ব্যবহৃত উপকরণ, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা এবং ঘটনাস্থলে পুলিশের প্রাথমিক ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া না যাচ্ছে, ততদিন রংপুরের মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস থেকেই যাবে।
চারটি প্রাণহানির পর যদি তদন্ত প্রক্রিয়াতেও আলামত নষ্ট, ভুল তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র উপেক্ষার অভিযোগ ওঠে, তাহলে সেটি কেবল একটি হত্যামামলার তদন্তের প্রশ্ন নয়। এটি পুলিশের তদন্ত সক্ষমতা, জবাবদিহি এবং বিচার পাওয়ার অধিকার নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করে।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au