বাংলাদেশ

মেয়ের সহপাঠীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে  ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখেন বাবা

  • 12:18 am - September 15, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৪৫ বার
ধর্ষণ। প্রতীকী ছবি

জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর মেয়ের সহপাঠী ওই শিশুকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন। পরে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর নিজের ঘরের মেঝেতে গর্ত করে শিশুটির মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন তিনি।

নিহত শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। দুই দিন পর শনিবার রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তির বসতঘরের মেঝেতে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত জামিনুর ইসলাম (৩২) ও তাঁর স্ত্রী সবুজা (২৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার নিহত শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মাদারগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রোববার রাতে মাদারগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জামালপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জামিনুর ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জামিনুর ইসলামের মেয়ের সহপাঠী ছিল নিহত শিশুটি। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে এবং বিদ্যালয়ের পাশেই থাকা জামিনুরের বাড়িতে গিয়ে তাঁর মেয়ের সঙ্গে খেলাধুলা করত শিশুটি। এ কারণে ওই পরিবারের সঙ্গে শিশুটির পরিচিতিও ছিল।

বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর শিশুটি জামিনুরের বাড়িতে যায়। ওই সময় জামিনুরের স্ত্রী সবুজা তাঁদের সন্তানদের নিয়ে তাঁর বোনের বাড়িতে রান্না করতে গিয়েছিলেন। ফলে বাড়িতে জামিনুর ছাড়া আর কেউ ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে জামিনুর শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। পরে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর নিজের ঘরের মেঝেতে গর্ত করে শিশুটির মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয় বলে তাঁর স্বীকারোক্তির বরাতে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার পর শিশুটিকে খুঁজে না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বিদ্যালয়েও বিষয়টি জানানো হয়। বৃহস্পতিবার থেকে নিখোঁজ থাকার পর শনিবার রাতে তদন্তের একপর্যায়ে জামিনুরের বাড়িতে শিশুটির মরদেহ থাকার বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ।

পরে জামিনুরের বসতঘরের মেঝেতে মাটি খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই রাতে জামিনুর ও তাঁর স্ত্রী সবুজাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শিশুটিকে হত্যার পেছনে আর কোনো কারণ বা অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

নিহত শিশুর মামা বলেন, এত ছোট ও নিষ্পাপ একটি শিশুর ওপর কীভাবে একজন মানুষ এমন নিষ্ঠুরতা চালাতে পারেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করায় পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না, দ্রুত বিচার শেষ করে অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

শিশুটির পরিবারের দাবি, তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি চান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো শিশুকে এ ধরনের সহিংসতার শিকার হতে না হয়, সে জন্য শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়ের কাছাকাছি বসবাসকারী পরিচিত পরিবারের একজন সদস্যের বাড়িতে গিয়ে একটি শিশু এভাবে হত্যার শিকার হওয়ায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আদালতে দেওয়া জামিনুরের জবানবন্দির বিষয়গুলো তদন্তে যাচাই করা হবে। মামলার তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে কারা কীভাবে জড়িত ছিলেন, তা আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

এই শাখার আরও খবর

দাড়ি রাখতে পারবেন না কলকাতা পুলিশের মুসলিম কর্মীরা

কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত ৪৭ জন মুসলিম পুলিশ সদস্যের দাড়ি রাখার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ। চাকরিতে বহাল থাকতে হলে তাঁদের দাড়ি কামিয়ে…

বরিস জনসন সীমান্ত পার হতেই ইউক্রেনে রুশ ড্রোন হামলা

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ইউরোপের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বহনকারী ট্রেন সীমান্ত অতিক্রম করার পরপরই পোল্যান্ড সীমান্তসংলগ্ন ইউক্রেনের ইয়াগোদিন রেলওয়ে স্টেশনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে…

লাল টুকটুকে গাল, টানা চোখে মিষ্টি হাসি, বরাহনগরে ভাইরাল ‘কিউট গণেশ’

লাল টুকটুকে ফোলা গাল, টানা চোখ, মুখে মিষ্টি হাসি। দেখতে যেন একেবারে পুতুলের মতো। বিশাল আকৃতির এই ‘কিউট গণেশ’ এখন পশ্চিমবঙ্গের বরাহনগরে রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।…

তদন্ত ভিন্নখানে নেয়ার অভিযোগ, নজরে দুই পুলিশ কর্মকর্তা

রংপুরে গত ১৯ আগস্ট সংঘটিত আলোচিত চার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একের পর এক গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ রয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল ব্যবস্থাপনা,…

শত শত কোটি ডলার ব্যয়, তবু উগ্রপন্থা থেকে থামানো যাচ্ছে না: সাবেক এএফপি কর্মকর্তা

অস্ট্রেলিয়ায় উগ্রপন্থায় জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিদের পুনর্বাসন বা ডির‍্যাডিকালাইজেশন কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) কর্মকর্তা ডেভিড ক্রেগ। তাঁর দাবি,…

ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাবি

ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au