শরীয়তপুরের কলেজের কনসার্টে শেখ হাসিনা ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার সরকারি শামসুর রহমান কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্টে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার…
ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানাধীন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখা যায়।
ঘটনাটি ঘিরে ইতোমধ্যে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মরিয়মের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান রোববার রাত ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে ঘটনাটি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। ভবনের একটি কক্ষের জানালা দিয়ে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা গেছে। পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুলিশ কক্ষে প্রবেশ করে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করবে।
ডিসি বলেন, কখন বা কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে মরদেহ উদ্ধারের আগে বা পরে সেখানে কী ঘটেছিল, সেটিও এখনো পরিষ্কার নয়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় এখনো জানা যায়নি।
ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল পৌঁছে আলামত সংগ্রহ না করা পর্যন্ত মৃত্যুর ধরন সম্পর্কেও পুলিশ কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। মরদেহের ময়নাতদন্ত, ঘটনাস্থলের আলামত, সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে।
পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বা হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর খবর এমন সময়ে এলো, যেদিন পল্লবী থানায় দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে পাওয়া জামিনের কাগজ ঢাকার আদালতে জমা দিয়েছেন গাজী নজরুল ইসলাম।
রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি জামিননামা দাখিল করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, গাজী নজরুল ইসলাম উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিন পেয়েছেন।
এর আগে গত ১০ আগস্ট পল্লবী থানায় করা ওই মামলায় গাজী নজরুলকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ওই আদেশ দেন।
গত ২১ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, সংসদ সদস্যের সঙ্গে এক নারীর সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় তাঁকে সন্দেহ করার জেরে ওবায়দুর রহমানকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। মামলায় গাজী নজরুল ইসলামের পাশাপাশি তাঁর সহযোগী আমিনুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, মোস্তাসিম বিল্লাহ ও রাকিবুল হাসানকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহার ও পরবর্তী সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, ওবায়দুর রহমান গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ছিলেন। মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্কও ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মরিয়ম খাতুনকে নিয়ে প্রথম বড় ধরনের আলোচনা শুরু হয় চলতি বছরের জুলাইয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে গাজী নজরুল ইসলাম ও এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও।
ভিডিওতে থাকা তরুণীকে মরিয়ম খাতুন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ওই তরুণী তাঁর বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামও এক ভিডিও বার্তায় মরিয়মের সঙ্গে তাঁর স্বামীর বিয়ে হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন।
গাজী নজরুল ইসলাম তখন অভিযোগ করেছিলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিওকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। তিনি বিষয়টিকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেছিলেন।
তবে ওই বিয়ের কাবিননামা ও মরিয়মের পরিচয় নিয়ে তখন বিভিন্ন প্রশ্নও সামনে আসে। প্রকাশ্যে আসা কিছু নথির তথ্যের সঙ্গে বিয়ের দাবির বিষয়ে অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ভিডিও বিতর্কের পর ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দলীয় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কার করা হয় এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও জানানো হয়।
এর আগেই ভিডিওকে কেন্দ্র করে তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। একই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে গাড়িচালকের করা হত্যাচেষ্টা মামলাটি নতুন করে বিষয়টিকে আইনি জটিলতার মধ্যে নিয়ে যায়।
মরিয়ম খাতুনকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও জুলাইয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠে। একাধিক প্রতিবেদনে মরিয়মের বায়োডাটা, শিক্ষাগত তথ্য এবং বৈবাহিক অবস্থার উল্লেখ নিয়ে অসঙ্গতির কথা বলা হয়।
অন্যদিকে গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মরিয়মের সঙ্গে বিয়ের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মরিয়মের পরিবারের পক্ষ থেকেও বিয়ের দাবি করা হয়।
ফলে মরিয়মের পরিচয় ও বিয়ের বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই পরস্পরবিরোধী তথ্য জনসমক্ষে ছিল।
এর মধ্যেই রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়ার ঘটনায় আগের ঘটনাগুলো নতুন করে সামনে এসেছে।
বিশেষ করে কয়েক মাসের ব্যবধানে ব্যক্তিগত ভিডিও বিতর্ক, বিয়েকে ঘিরে প্রশ্ন, রাজনৈতিক দলের বহিষ্কার, গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা এবং একই মামলায় তাঁর জামিনের দিনেই মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে এসব ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও সম্ভব নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করবে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের আলামত এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।
এখন পর্যন্ত পুলিশের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, মরিয়ম খাতুন কখন ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেছিলেন, তাঁর সঙ্গে সেখানে আর কেউ ছিলেন কি না, মৃত্যুর আগে কারও সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল কি না এবং ঘটনার সময় ফ্ল্যাটের ভেতরের পরিস্থিতি কেমন ছিল।
এ ছাড়া ফ্ল্যাটের দরজা-জানালা, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পুলিশ বলছে, ফরেনসিক ও তদন্তের তথ্য হাতে পাওয়ার আগে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা কিংবা হত্যাকাণ্ড হিসেবে চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না।
ফলে সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যু আপাতত একাধিক প্রশ্ন রেখে গেছে। মাত্র কয়েক মাস আগে যাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তাঁর মৃত্যুর নেপথ্যে কী ঘটেছিল, সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয়। ফরেনসিক পরীক্ষা, ময়নাতদন্ত ও পুলিশের তদন্ত শেষ হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au