আট মাসে নিখোঁজের পর লাশ উদ্ধার ৩৬ শিশুর, ধর্ষণের শিকার ২৪
দেশে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে নিখোঁজ হওয়ার পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণ,…
ঢাকার ধামরাইয়ে যুবলীগের কর্মী প্রকৌশলী রিফাত আহমেদকে গ্রেপ্তার করতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে না পেয়ে বাবা মোহাম্মদ কলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ভাবনহাটি গ্রামের বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। পরে কলিম উদ্দিনকে একটি পেন্ডিং মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার মোহাম্মদ কলিম উদ্দিনের বয়স ৬০ বছর। তিনি পেশায় কৃষক এবং ভাবনহাটি গ্রামের বাসিন্দা। তার ছেলে প্রকৌশলী রিফাত আহমেদ নিজেকে যুবলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে তিনি যুবলীগের কোনো পদে নেই বলে জানিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য তাদের বাড়িতে যান। পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পর কলিম উদ্দিন দরজা খুলে দেন। তখন বাড়িতে তিনি, তার স্ত্রী হাসিনা বেগম, মেয়ে হ্যাপী আক্তার ও ছেলের বউ ছিলেন। পুলিশ প্রথমে রিফাত আহমেদের বিষয়ে জানতে চায়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রিফাত দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে নেই এবং রাজনীতির কারণে তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগও নেই।
পরে পুলিশ কলিম উদ্দিনকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যায় এবং থানায় নিয়ে যায়। পরিবারের দাবি, কলিম উদ্দিন কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন এবং তার নামে আগে কোনো মামলা ছিল না। ছেলে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী হাসিনা বেগম ও মেয়ে হ্যাপী আক্তার।
হাসিনা বেগম বলেন, তার স্বামী কৃষিকাজ ও গরু পালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন। শুধু ছেলে রাজনীতি করেন বলেই তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কলিম উদ্দিনের মেয়ে হ্যাপী আক্তারও একই দাবি করেন। তিনি বলেন, তার ভাই রিফাত রাজনীতি করেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি বাড়িতে আসেন না এবং পরিবারের সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগ নেই। ভাইকে না পেয়ে বাবাকে পুলিশ নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন হ্যাপী।
তবে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হুদা খান জানান, রিফাত আহমেদ যুবলীগের নেতা এবং তার নেতৃত্বে কিছুদিন আগে একটি মিছিল হয়েছে। কাওয়ালিপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের নেতৃত্বে রিফাতের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, রিফাতের পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগের সমর্থক। এ কারণে কলিম উদ্দিনকে একটি পেন্ডিং মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
কলিম উদ্দিনের নামে আগে কোনো মামলা ছিল কি না বা তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলেন কি না, জানতে চাইলে ওসি নাজমুল হুদা খান বলেন, তার নামে আগে কোনো মামলা ছিল না এবং তিনি কোনো পদধারী নেতাও নন। তবে তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক, এই তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানান ওসি।
এদিকে রিফাত আহমেদ হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে জানান, তিনি যুবলীগের কোনো নেতা নন, তবে সংগঠনটির সক্রিয় কর্মী এবং একটি মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার করতে না পেরে তার বাবা মোহাম্মদ কলিম উদ্দিনকে পুলিশ হয়রানি করে গ্রেপ্তার করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, কলিম উদ্দিনকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার আইনগত প্রক্রিয়া ও পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এগোবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au