আগামী চার দশকে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বছরে গড়ে ০.৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে। ছবি: এএপি
জন্মহার কমে যাওয়া এবং জনসংখ্যার দ্রুত বার্ধক্যের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় ২০৬০-এর দশকে প্রথমবারের মতো জন্মের চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হতে পারে। দেশটির ট্রেজারি বিভাগের নতুন এক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে কম জন্মহারের প্রভাব সামাল দিতে জনসংখ্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রে অভিবাসনের ওপর নির্ভর করে আসছে অস্ট্রেলিয়া। তবে ভবিষ্যতে অভিবাসনের গতি কমে আসার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশটি জাপান, জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর একই ধরনের জনমিতিক পরিস্থিতির দিকে এগোতে পারে। এসব দেশে ইতোমধ্যে জন্মের চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি।
অস্ট্রেলিয়ার ট্রেজারি বিভাগের ‘ইন্টারজেনারেশনাল রিপোর্টে’ আগামী চার দশকে দেশটির অর্থনীতি ও সমাজে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এমন পাঁচটি পরিবর্তনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার, ভূরাজনৈতিক বিভাজন, জ্বালানি ব্যবস্থার রূপান্তর, জনসংখ্যার বার্ধক্য এবং সেবাভিত্তিক অর্থনীতির দিকে পরিবর্তন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী চার দশকে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বছরে গড়ে ০.৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে। গত ৪০ বছরে দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির গড় হার ছিল ১.৪ শতাংশ। অর্থাৎ ভবিষ্যতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জন্মহার কমার পাশাপাশি নিট বিদেশি অভিবাসনের হারও কমে গিয়ে পরে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ট্রেজারি। এর ফলে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় দ্রুত বয়স্ক হয়ে উঠবে এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও কমে যাবে।
ট্রেজারি বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৬০-এর দশকে যদি মৃত্যুর সংখ্যা জন্মের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তাহলে জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে প্রাকৃতিক বৃদ্ধি আর বড় ভূমিকা রাখতে পারবে না। তখন জনসংখ্যার আকার ও শ্রমবাজারের ওপর অভিবাসনের প্রভাব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া সরকার গত সপ্তাহে অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটিতে অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া ডানপন্থি পপুলিস্ট দল ওয়ান নেশনের প্রতি সমর্থন বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জনসংখ্যার বার্ধক্যের কারণে ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যসেবা ও বয়স্কদের সেবার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি, সেখানে স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা খাতে শ্রমিকের সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব খাত বর্তমানে অভিবাসী কর্মীদের ওপরও উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল।
প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ বাজেট নিয়েও কিছু পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সেখানে কর কমানোর সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, উচ্চ বন্ধকি ঋণের হার এবং ব্যয়বহুল আবাসনের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সরকারকে আরও সহায়তা দিতে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ট্রেজারির এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দশকে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি শুধু জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধীরগতির মুখেই পড়বে না, বরং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, শ্রমবাজারের পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার বাড়তি চাহিদার মতো দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হবে।