প্রিমিয়ার লিগে মুখোমুখি হওয়া ২৫ দলের বিপক্ষেই গোল হালান্ডের
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নতুন এক মাইলফলক গড়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করে প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত যেসব দলের মুখোমুখি হয়েছেন,…
ভারতের বিহারের জামুইয়ে রাস্তা আটকে এক কিশোরীকে হেনস্তা ও অশালীনভাবে স্পর্শের অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় কিশোরীর বন্ধুকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ দেখে সাতজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী কিশোর-কিশোরী সবাই জামুইয়ের বাসিন্দা। ওই কিশোরী ও তার বন্ধু দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং একই কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যায় টিউশন শেষে স্কুটারে করে জামুইয়ের মারওয়া পাহাড় এলাকায় ঘুরতে যায় ওই দুই শিক্ষার্থী। সেখান থেকে ফেরার পথে একদল যুবক তাদের পথরোধ করে।
ঘটনার দুটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক কিশোরী ও তার বন্ধুর পথ আটকে তাদের ঘিরে দাঁড়িয়েছে। এ সময় তারা কিশোরীর নাম ও ঠিকানা জানতে চায়। একপর্যায়ে এক যুবক তাকে অশালীনভাবে স্পর্শ করেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়। আরেকজন কিশোরীকে ধরে রাস্তার অন্য পাশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, কিশোরীর বন্ধু বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে এক যুবক তার জামার কলার ধরে তাকে কিশোরীর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে কিশোরী সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করলে কয়েকজন যুবক তাকে ধাওয়া করেন।
আরেকটি ভিডিওতে ওই যুবকদের কিশোরী ও তার বন্ধুকে সেখান থেকে চলে যেতে দিতে দেখা যায়। ঘটনার পুরো সময় কতক্ষণ ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
জামুইয়ের পুলিশ সুপার বিশ্বজিৎ দয়াল জানিয়েছেন, ঘটনার পর দুই দিন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে তদন্ত শুরু করে।
ভিডিওতে দেখা যাওয়া স্কুটারের নম্বরপ্লেটের সূত্র ধরে সোমবার ওই কিশোর-কিশোরীর সন্ধান পায় পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে তথ্য নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, জামুই থানায় দায়ের করা এফআইআরে কিশোর-কিশোরী কোনো অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করেনি। তবে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ সাতজনকে শনাক্ত করেছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনার সংবেদনশীলতার কারণে পুলিশ সুপার তদন্তের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে চাননি।
ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিহারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর নেতারা ঘটনাটির নিন্দা করেছেন এবং নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি কোনো সংস্কৃতি নয়, বরং পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার প্রকাশ। কেন একজন কিশোরী রাস্তায় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আম আদমি পার্টিও বিহারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ স্লোগানের প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছে।
অন্যদিকে, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসও ঘটনাটির নিন্দা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কোনো নারীর অনুমতি ছাড়া তাঁর শরীরে হাত দেওয়ার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। কিশোরী ও তার বন্ধুকে ‘নৈতিকতার’ নামে হেনস্তা করার অধিকারও কারও নেই বলে মন্তব্য করেছে দলটি।
ঘটনায় আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। বাকি শনাক্ত ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সূত্র: আনন্দবাজার.কম
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au