পাকিস্তানে ১৫ লাখ শিশু অনলাইনে যৌন শোষণের শিকার: ইউনিসেফ
পাকিস্তানে বছরে প্রায় ১৫ লাখ শিশু অনলাইনে যৌন শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,…
উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর আগে সোমবার রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক, একাডেমিক ভবন, ছাত্রী হল ও শিক্ষক আবাসিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। রাত ১২টার দিকে মিছিলটি আবার স্বাধীনতা চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে গিয়ে সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেন।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে ছাত্রীদেরও অংশ নিতে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী রাত ৮টার দিকে ছাত্রীদের আবাসিক হলের ফটক বন্ধ হয়ে গেলেও উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে রাত ১১টার দিকে অনেক ছাত্রী হল থেকে বের হয়ে মিছিলে যোগ দেন। পরে তারা অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয় উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২১ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার মূল পদ যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়। একই দিনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। উপাচার্য পরিবর্তনের কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি। এ ঘটনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিস্ময় তৈরি হয়েছে।
এরই প্রতিবাদে সোমবার রাতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে দ্রুত স্বপদে পুনর্বহাল করতে হবে। তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ায় ক্যাম্পাসের শিক্ষা কার্যক্রম ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশেও নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের শাটডাউন কর্মসূচির বিষয়ে পরবর্তী পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au