এশিয়াজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে, চাপে সাধারণ মানুষ
এশিয়ার অধিকাংশ তেল আমদানিনির্ভর দেশ চলতি বছরে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংকট এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায়…
ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিভাবকত্ব বা প্যারেন্টিং নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার জবাব দিয়েছেন তার মা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সন্তানকে স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠতে দেওয়া এবং বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা করতে দেওয়াই কি অপরাধ?
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজ বাসায় কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনাকালে এসব কথা বলেন নাহিদা বেগম।
অপ্রতিমের মা বলেন, ‘বাচ্চাকে বাক্সবন্দি না করাই কি অপরাধ? সারা দুনিয়ার সামনে চিৎকার করে বলবো, কোনো মা ঘর থেকে বাচ্চা বের করবেন না। এই দেশ নিরাপদ নয়।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্যারেন্টিং নিয়ে চলা আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্যারেন্টিং কী? এর সঙ্গে মিশবে না, ওর সঙ্গে মিশবে না, সারাক্ষণ বাচ্চাকে এসব শেখানোই কি প্যারেন্টিং? আমরা পড়ালেখা করি, মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ নেই। আমার বাচ্চা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সঙ্গে বড় হয়েছে। তাকে কখনও শেখাইনি যে একা ভাত খেতে হবে, শিখিয়েছি সবাইকে নিয়ে খেতে হবে।’
তিনি বলেন, ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার বা নির্দিষ্ট কোনো পেশায় গড়ে তোলার লক্ষ্য ছিল না তার। বরং একজন মুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। অপ্রতিমের ইচ্ছা ছিল সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়ানো। তাই সন্তান উড়োজাহাজে চলাফেরা করলে বা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরলে সেটিকে অপরাধ হিসেবে দেখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নাহিদা বেগম বলেন, ‘আমার বাচ্চাকে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে চাইনি, একটি মুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছি। আমার বাচ্চা সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াতে চেয়েছে। উড়োজাহাজে চললেই কি তার অপরাধ হবে? উন্নত বিশ্বে বয়সে ছোট বাচ্চারা কি কিছু করে না? তারা সাপ নিয়ে খেলে। সেটা কি তাদের প্যারেন্টিংয়ের দোষ?’
অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। নাহিদা বেগমের প্রশ্ন, সংশোধনাগার থেকে বের হওয়ার পর তারা যদি আবার অন্য মানুষের ক্ষতি করে, তাহলে এর দায় কে নেবে?
তিনি বলেন, ‘অপরাধীরা যখন সংশোধনাগার থেকে বের হবে, তখন কি অন্যের ক্ষতি করবে না? এরা যখন বের হবে, তখন হাজার হাজার মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে। আপনারা সতর্ক হন, আমাদের কেন সতর্ক হতে হবে? আমার বাচ্চা কেন ঘর থেকে বের হতে পারবে না?’
বন্ধুদের সঙ্গে ছেলের ঘোরাফেরার প্রসঙ্গ তুলে অপ্রতিমের মা বলেন, তার সন্তান বন্ধুদের সঙ্গে ম্যাজিক প্যারাডাইসে ঘুরতে গেলে তার কোনো দোষ ছিল না। বরং একটি শিশুকে নিরাপদ পরিবেশে স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়াই সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।
আবেগাপ্লুত হয়ে নাহিদা বেগম বলেন, অপ্রতিম বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে, এক বছর নাচ শিখেছে। তার ছেলে নিজের পছন্দমতো জীবনযাপন করতে চেয়েছে বলেই তাকে হত্যা করা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমার বাচ্চা একশটা প্রোগ্রাম করেছে। আমার বাচ্চাকে এক বছর নাচ শিখিয়েছি। আমার ছেলে হীরা-গহনা নিয়ে বাইরে যাবে, উড়োজাহাজে যাবে, আমার ঘরের সব জিনিস নিয়ে বাইরে যাবে, তাই বলে তাকে কেড়ে নিয়ে মেরে ফেলতে হবে?’
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পেছনে পুরোনো একটি মাদকবিরোধী অভিযানের ক্ষোভ বা প্রতিহিংসা কাজ করেছে কি না, সে বিষয়েও কথা বলেন নাহিদা বেগম। তিনি জানান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছিলেন। ওই অভিযানে একটি গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্যকে মাদক সেবনের অভিযোগে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর থাকাকালে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছি। ওই অভিযানে একটি গ্যাংয়ের সদস্যদের মাদক সেবনের অভিযোগে পুলিশের কাছে সোপর্দ করি। সেটা যদি আমার দোষ হয়ে থাকে, তাহলে আমাকে দোষ দেন। আমার ছেলেকে কেন ভিকটিম করা হচ্ছে? আমার দুধের শিশুকে ব্লেম করা আমি কোনোদিন মেনে নেবো না।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার, কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. কাইমুল হক রিংকু, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুবুল হক খন্দকারসহ আইনজীবী সমিতির অন্যান্য নেতারা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au