অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা-মাস্টারকার্ডে পেমেন্টে অতিরিক্ত চার্জ বন্ধ
অস্ট্রেলিয়ায় কার্ড দিয়ে পণ্য বা সেবা কেনার সময় এতদিন যে অতিরিক্ত ‘কার্ড সারচার্জ’ দিতে হতো, তা বন্ধ হয়ে গেছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে দেশটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো…
মাঝ-আকাশে সহকারী পাইলটের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পরও বিমানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটে।
হামলার পর বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারিয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে যাত্রী ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। পরে বিমানের যাত্রী ও কর্মীদের হস্তক্ষেপে হামলাকারী সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। জরুরি অবতরণ করানো হয় সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে। সেখানে আহত দুই পাইলটকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। নেতানিয়াহু তাকে ‘সত্যিকারের নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ছুরিকাহত হয়েও ককপিটের দরজা খুলে দেন স্মিত
ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছিল, তার বিস্তারিত বিবরণ এখনো তদন্তাধীন। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মাঝ-আকাশে ককপিটের ভেতরে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে সহকারী পাইলট স্মিত মচ্ছরকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থাতেও স্মিত ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। এর ফলে যাত্রী ও বিমানের কর্মীরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। পরে বিমানে থাকা ফ্লাইদুবাইয়ের আরও দুই পাইলট ককপিটের দায়িত্ব নিয়ে বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণের ব্যবস্থা করেন।
নেতানিয়াহু এক পোস্টে স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, গুরুতরভাবে ছুরিকাহত হওয়ার পরও তিনি প্রতিরোধ করেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন। এতে যাত্রী ও কর্মীরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন এবং বড় ধরনের মাঝ-আকাশের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। তার হিসাবে, এই ঘটনায় ১৭৪ জনের জীবন রক্ষা পেয়েছে।
৩৪ হাজার ফুট থেকে দ্রুত নিচে নেমে যায় বিমান
ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। বিমানটিতে ১৭৪ জন যাত্রী এবং ছয়জন ক্রু ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার একপর্যায়ে বিমানটি প্রায় ৩৩ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত নিচে নেমে প্রায় ১৭ হাজার ফুটে চলে যায়। কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতা হারিয়েছিল বিমানটি। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে বলে অনেকে আশঙ্কা করেন।
এক যাত্রীর বর্ণনা অনুযায়ী, বিমানটি কয়েক মিনিট ধরে ঘুরতে ঘুরতে নিচের দিকে নামছিল। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে অনেক যাত্রী বিমানটি আর নিয়ন্ত্রণে ফিরবে না বলে আশঙ্কা করেছিলেন। পরে যাত্রী ও বিমানে থাকা কর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
তাবুকে জরুরি অবতরণ
ককপিটে হামলার পর ফ্লাইটটি সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। সৌদি কর্তৃপক্ষ আহত দুই পাইলটকে হাসপাতালে পাঠায়। হামলাকারী হিসেবে অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে আটক করা হয়েছে বলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানিয়েছেন।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্মিত মচ্ছর তাবুকের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ ও হামলার উদ্দেশ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
ফ্লাইদুবাইও জানিয়েছে, ফ্লাইটের ককপিটে একটি ‘বিবাদ’ বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। বিমানে থাকা কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিমানটিকে তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করান। তবে ঘটনার কারণ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনুমান না করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি, কারণ আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে।
নেতানিয়াহু: অসাধারণ সাহসিকতা দেখিয়েছেন স্মিত
ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ভারতীয় পাইলটের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায়ও স্মিত যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তা বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকাতে ভূমিকা রেখেছে।
নেতানিয়াহুর বক্তব্য অনুযায়ী, স্মিতের ককপিটের দরজা খোলার সিদ্ধান্তই যাত্রী ও কর্মীদের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। পরে তারা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
তিনি স্মিত মচ্ছরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং তার সাহসিকতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
মোদী: দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হননি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও স্মিত মচ্ছরের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ভয়াবহ বিপদের মধ্যে গুরুতর আহত হওয়ার পরও স্মিত অসীম সাহসিকতা দেখিয়েছেন এবং অন্যদের জীবন রক্ষার দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হননি।
মোদীর বক্তব্য অনুযায়ী, পাইলটের সাহসিকতার কারণেই বিমানে থাকা বহু মানুষ বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তিনি স্মিতের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
ট্রাম্পও বললেন ‘হিরো’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
ট্রাম্প বলেন, পাইলট গুরুতর অবস্থায় ছিলেন, কিন্তু তারপরও তিনি বিচারবুদ্ধি হারাননি। তিনি স্মিতকে ‘হিরো’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে সহকারী পাইলটের কর্মকাণ্ডকে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়ে ট্রাম্প তখনও নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করেননি। ঘটনার উদ্দেশ্য ও প্রকৃতি নিয়ে তদন্ত চলছিল।
ইসরায়েল বলছে সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা
ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এটিকে ‘জিহাদি সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা’ হিসেবে আখ্যা দেন। তবে এ ধরনের রাজনৈতিক বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বর্ণনার বাইরে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল এখনো প্রকাশ হয়নি।
ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষও বলেছে, ঘটনার কারণ ও উদ্দেশ্য এখনো অজানা এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আগাম কোনো সিদ্ধান্তে না যেতে।
কে এই স্মিত মচ্ছর?
স্মিত মচ্ছর একজন ভারতীয় পাইলট এবং ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ বহরের ক্যাপ্টেন। তিনি ২০২২ সালের জুনে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। এর আগে প্রায় ১১ বছর ভারতের স্পাইসজেটে কাজ করেছেন। সেখানে তিনি সিনিয়র কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্য পাইলটদের প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের কাজও করেছেন।
তার পেশাগত প্রোফাইল অনুযায়ী, বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও ৭৩৭ ম্যাক্স ৮/৯ উড়োজাহাজে তার প্রায় ৯ হাজার ৭৫০ ঘণ্টা উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার পর তিনি সরাসরি ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তদন্তে এখন মূল প্রশ্ন হামলার উদ্দেশ্য
ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এর ঘটনায় এখন তদন্তকারীদের সামনে প্রধান প্রশ্ন হলো, ককপিটের ভেতরে হামলার কারণ কী ছিল এবং অভিযুক্ত সহকারী পাইলট কেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর হামলা করেছিলেন।
ঘটনার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত পাইলটকে হেফাজতে নিয়েছে। ইসরায়েলও বিদেশি এয়ারলাইনগুলোর পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাই আরও কঠোর করার কথা জানিয়েছে।
এদিকে বিমানে থাকা যাত্রীরা নিরাপদে ইসরায়েলে পৌঁছেছেন। তবে মূল বিমানটি তাবুকে রাখা হয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে না।
মাঝ-আকাশে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ককপিটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা এবং দরজা খুলে যাত্রী ও ক্রুদের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনাই এখন এই উড়োজাহাজ বিপর্যয় এড়ানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে সামনে এসেছে।
সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au